Ajker Patrika

আগামীকাল দিনে শুরু করবেন কী দিয়ে, চা নাকি কফি?

ফিচার ডেস্ক
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯: ১৬
আগামীকাল দিনে শুরু করবেন কী দিয়ে, চা নাকি কফি?
শরীরের চাহিদা এবং ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতার ওপর ভিত্তি করে বেছে নিন চা খাবেন নাকি কফি। ছবি: পেক্সেলস

সকালের পানীয় হিসেবে চা ও কফির মধ্যে কোনটি সেরা, তা নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, দুটি পানীয়ের মধ্যে কোনোটিই এককভাবে সেরা নয়। চা ও কফি উভয়টি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর; যা মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড এবং মেটাবলিক স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। তবে এগুলোর কাজ করার ধরন ভিন্ন। আপনি যদি তাৎক্ষণিক চনমনে হতে চান, তবে কফি সেরা। আর যদি অস্থিরতা ছাড়াই দীর্ঘক্ষণ শান্তভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে চান, তবে চা আপনার জন্য আদর্শ পানীয়। আপনার শরীরের চাহিদা এবং আপনি ক্যাফেইনের প্রতি কতটা সংবেদনশীল, তার ওপর ভিত্তি করে এই বাছাই হওয়া উচিত।

কফির শক্তি ও চায়ের গুণ

আপনি যদি সকালে খুব দ্রুত ঘুম থেকে জেগে উঠতে চান বা কোনো কঠিন শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমের জন্য নিজেকে তৈরি করতে চান, তবে কফি আপনার জন্য সেরা বিকল্প। এতে থাকা ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড এবং পলিফেনল হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ বেশি। এর প্রতি কাপে প্রায় ৯৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে। এটি দ্রুত আপনাকে চনমনে করে তোলে। এটি লিভারের বিষমুক্তকরণ এবং মেটাবলিক ফাংশনেও সহায়তা করে। তবে চা দীর্ঘস্থায়ী মনোযোগ ও প্রশান্তি দেয়। যারা ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল বা যাদের কফি খেলে বুক ধড়ফড় করে বা পেটে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য চা আদর্শ। গ্রিন টিতে থাকে ক্যাটেচিন এবং ব্ল্যাক টিতে থিফ্লাভিন। এসবই রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। চায়ের বিশেষ উপাদান এল-থিয়ানিন আপনাকে চনমনে রাখে। কিন্তু কফির মতো অস্থিরতা বা নার্ভাসনেস তৈরি করে না। এটি হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

কফি বা চায়ে অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত দুধ যোগ করলে এর প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়। ছবি: পেক্সেলস
কফি বা চায়ে অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত দুধ যোগ করলে এর প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়। ছবি: পেক্সেলস

কীভাবে বেছে নেবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার শরীরের সংকেত বুঝে পানীয় নির্বাচন করুন।

কফি: কফি বেছে নিন যদি আপনার খুব দ্রুত এবং কড়া এনার্জি বুস্টের প্রয়োজন হয়। কফি খাওয়ার পর আপনার ঘুমের সমস্যা বা অ্যাংজাইটি না হয়। মনে রাখবেন, খালি পেটে কফি খেলে অস্বস্তি হয়।

চা: চা বেছে নিন যদি আপনি ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীল হন। এ ছাড়া আপনি অস্থিরতা ছাড়াই ধীরে ধীরে দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখতে চাইলে চা আপনার জন্য সেরা। হরমোনের ভারসাম্য বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলেও চা তার জন্য ভালো। চায়ে উপস্থিত এল-থিয়ানিন মস্তিষ্কের গাবা, ডোপামিন এবং সেরোটোনিনের মতো রিলাক্সিং হরমোনগুলোর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি মানসিক চাপের হরমোন কর্টিসল কমিয়ে মনকে শান্ত রাখে। কফি খেলে অনেকের মধ্যে যে অস্থিরতা, হাত-পা কাঁপা বা বুক ধড়ফড় করার সমস্যা হয়, এল-থিয়ানিন তা হতে দেয় না। এটি ক্যাফেইনের উদ্দীপনাকে ধরে রাখে, কিন্তু এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলোকে কমিয়ে দেয়। ফলে আপনি অস্থির না হয়েই দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন।

আদা বা পেপার মিন্টের মতো ভেষজ চা হজম ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ছবি: পেক্সেলস
আদা বা পেপার মিন্টের মতো ভেষজ চা হজম ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ছবি: পেক্সেলস

অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের যুদ্ধ

উভয় পানীয়ই ক্ষতিকর ‘ফ্রি র‍্যাডিক্যালসে’র বিরুদ্ধে লড়াই করে। কফিতে পলিফেনলের ঘনত্ব বেশি থাকলেও, চায়ের ধরন অনুযায়ী এতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ কফির চেয়ে বেশি হতে পারে। আবার আদা বা পেপার মিন্টের মতো ভেষজ চা হজম এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

কিছু জরুরি সতর্কতা

চিনি ও দুধ: কফি বা চায়ে অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত দুধ যোগ করলে এর প্রাকৃতিক স্বাস্থ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তাই পরিমিত ব্যবহারের পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদেরা।

ক্যাফেইনের মাত্রা: একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দিনে ৪০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন নেওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি, অনিদ্রা ও বমিভাব সৃষ্টি করতে পারে।

শিশুদের জন্য: ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা উচিত এবং ১২-১৮ বছর বয়সীদের দিনে ১০০ মিলিগ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।

গর্ভাবস্থা: গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে দৈনিক ক্যাফেইনের মাত্রা ২০০ মিলিগ্রামের বেশি হওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

সূত্র: ভেরিওয়েল হেলথ, ভিএন এক্সপ্রেস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত