ফিচার ডেস্ক

রক্তে শর্করা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা শুধু ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য নয়। সুস্থ থাকা এবং দীর্ঘ মেয়াদে রোগ প্রতিরোধের জন্যও এটি সমান জরুরি। আমাদের অনেকের ধারণা, ‘আমি তো বেশি মিষ্টি খাই না, তাহলে রক্তে শর্করা বেড়ে যাবে কেন?’ কিন্তু আসল সমস্যা হলো কিছু সাধারণ দৈনন্দিন অভ্যাস। যেগুলো আমরা একেবারে গুরুত্ব দিই না, সেগুলো অজান্তেই রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মিষ্টি পানীয় দিয়ে দিন শুরু করা
অনেকের সকাল শুরু হয় কফি, চা বা এনার্জি ড্রিংক দিয়ে। এগুলো মুহূর্তের মধ্যে শরীর চাঙা করলেও এতে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। এসব পানীয়তে কোনো প্রোটিন বা ফাইবার থাকে না। ফলে খালি পেটে এগুলো খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায়।
তাই এসব পানীয় একেবারে বাদ দিতে না পারলে অন্তত চিনি কমিয়ে দিন বা চিনি ছাড়া পান করুন। এ ছাড়া সঙ্গে এমন নাশতা খান, যেখানে প্রোটিন ও ফাইবার আছে; যেমন ডিম, ওটস বা সবজি।
পানি কম খাওয়া
ডিহাইড্রেশন বা শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তে শর্করা বেড়ে যায়। কারণ, কম পানি খেলে শরীরে এমন হরমোন তৈরি হয়, যা গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকে ব্যাহত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি পানি খাওয়া টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। তাই শুধু তৃষ্ণা পেলে নয়, সারা দিন অল্প অল্প করে পানি পান করুন।
সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকা
মানসিক চাপ থাকলে শরীর অ্যাড্রেনালিন আর কর্টিসল নামের হরমোন ছাড়ে। এগুলো সরাসরি রক্তে শর্করা বাড়ায়। আবার দুশ্চিন্তায় ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং মিষ্টি বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। স্ট্রেস কমাতে প্রতিদিন কিছু সময় বের করুন। হাঁটাহাঁটি, ধ্যান বা ডায়েরি লেখা—যেটা ভালো লাগে, সেটা করুন।
ঘুম কম হওয়া
যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমায় না, তাদের শরীরে শর্করার ওঠানামা বেশি হয়। আবার ঘুমের অভাবে ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং মিষ্টি খাবারের প্রতি টান বাড়ে। প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। যদি সমস্যা হয়, তবে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
সারা দিন মিষ্টি পানীয় পান করা
শুধু সকালের কফি নয়, সারা দিন সোডা, চকলেট দুধ, বোতলজাত জুস—এসব নিয়মিত পান করলেও রক্তে শর্করা বাড়ে। এগুলো দীর্ঘ মেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই চিনি মেশানো পানীয় বাদ দিয়ে পানি, লেবুর পানি, চিনি ছাড়া চা বা সোডা ওয়াটার পান করুন।
প্রোটিন ও ফাইবার না খাওয়া
খাবারে প্রোটিন আর ফাইবার থাকলে হজম ধীরে হয়। ফলে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যায় না। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কার্বোহাইড্রেটের আগে প্রোটিন ও সবজি খেয়েছে, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা ৪০ শতাংশ কম বেড়েছে। প্রতিটি খাবারে প্রোটিন (ডিম, মাছ, মুরগি, টোফু) আর ফাইবার (সবজি, ফল, পূর্ণ শস্য) রাখুন।
সারা দিন বসে থাকা
বেশি সময় বসে থাকলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অথচ সামান্য হাঁটাহাঁটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন, বিশেষ করে খাবারের পর। সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিট জোরালো ব্যায়াম করুন। এর সঙ্গে শক্তি বাড়ানোর অনুশীলনও জরুরি।
বারবার ফাস্ট ফুড খাওয়া
ফাস্ট ফুডে প্রচুর তেল, চর্বি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট থাকে। এগুলো দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ঘরে রান্না করা খাবার বেশি খান, তাঁদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম। ফাস্ট ফুড একেবারে ছাড়তে হবে না। তবে যতটা সম্ভব ঘরে রান্না করা খাবার খান। লিন প্রোটিন, সবজি আর পূর্ণ শস্য ব্যবহার করুন।
রক্তে শর্করা বেড়ে গেলে কী করবেন
যদি মনে হয়, আপনার রক্তে শর্করা বেশি, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। তিনি প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করে সঠিক পরামর্শ দেবেন। সাধারণত যা করা হয়, তা হলো—
আমরা অনেক সময় ভাবি, ‘আমি তো মিষ্টি কম খাই, তাহলে সমস্যা কোথায়?’ কিন্তু আসলে পানি কম খাওয়া, স্ট্রেস, ঘুমের অভাব কিংবা সারা দিন বসে থাকার মতো সাধারণ অভ্যাসও রক্তে শর্করাকে প্রভাবিত করে।
তাই সামান্য পরিবর্তন আনলেই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এর ফলে ডায়াবেটিসসহ আরও অনেক জটিল রোগের ঝুঁকি কমে যাবে।
সূত্র: হেলথ

রক্তে শর্করা বা ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা শুধু ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য নয়। সুস্থ থাকা এবং দীর্ঘ মেয়াদে রোগ প্রতিরোধের জন্যও এটি সমান জরুরি। আমাদের অনেকের ধারণা, ‘আমি তো বেশি মিষ্টি খাই না, তাহলে রক্তে শর্করা বেড়ে যাবে কেন?’ কিন্তু আসল সমস্যা হলো কিছু সাধারণ দৈনন্দিন অভ্যাস। যেগুলো আমরা একেবারে গুরুত্ব দিই না, সেগুলো অজান্তেই রক্তে শর্করা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মিষ্টি পানীয় দিয়ে দিন শুরু করা
অনেকের সকাল শুরু হয় কফি, চা বা এনার্জি ড্রিংক দিয়ে। এগুলো মুহূর্তের মধ্যে শরীর চাঙা করলেও এতে চিনির পরিমাণ বেশি থাকে। এসব পানীয়তে কোনো প্রোটিন বা ফাইবার থাকে না। ফলে খালি পেটে এগুলো খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যায়।
তাই এসব পানীয় একেবারে বাদ দিতে না পারলে অন্তত চিনি কমিয়ে দিন বা চিনি ছাড়া পান করুন। এ ছাড়া সঙ্গে এমন নাশতা খান, যেখানে প্রোটিন ও ফাইবার আছে; যেমন ডিম, ওটস বা সবজি।
পানি কম খাওয়া
ডিহাইড্রেশন বা শরীরে পানির ঘাটতি হলে রক্তে শর্করা বেড়ে যায়। কারণ, কম পানি খেলে শরীরে এমন হরমোন তৈরি হয়, যা গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণকে ব্যাহত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, বেশি পানি খাওয়া টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়। তাই শুধু তৃষ্ণা পেলে নয়, সারা দিন অল্প অল্প করে পানি পান করুন।
সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকা
মানসিক চাপ থাকলে শরীর অ্যাড্রেনালিন আর কর্টিসল নামের হরমোন ছাড়ে। এগুলো সরাসরি রক্তে শর্করা বাড়ায়। আবার দুশ্চিন্তায় ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং মিষ্টি বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ তৈরি হয়। স্ট্রেস কমাতে প্রতিদিন কিছু সময় বের করুন। হাঁটাহাঁটি, ধ্যান বা ডায়েরি লেখা—যেটা ভালো লাগে, সেটা করুন।
ঘুম কম হওয়া
যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমায় না, তাদের শরীরে শর্করার ওঠানামা বেশি হয়। আবার ঘুমের অভাবে ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং মিষ্টি খাবারের প্রতি টান বাড়ে। প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। যদি সমস্যা হয়, তবে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
সারা দিন মিষ্টি পানীয় পান করা
শুধু সকালের কফি নয়, সারা দিন সোডা, চকলেট দুধ, বোতলজাত জুস—এসব নিয়মিত পান করলেও রক্তে শর্করা বাড়ে। এগুলো দীর্ঘ মেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। তাই চিনি মেশানো পানীয় বাদ দিয়ে পানি, লেবুর পানি, চিনি ছাড়া চা বা সোডা ওয়াটার পান করুন।
প্রোটিন ও ফাইবার না খাওয়া
খাবারে প্রোটিন আর ফাইবার থাকলে হজম ধীরে হয়। ফলে রক্তে শর্করা হঠাৎ বেড়ে যায় না। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কার্বোহাইড্রেটের আগে প্রোটিন ও সবজি খেয়েছে, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা ৪০ শতাংশ কম বেড়েছে। প্রতিটি খাবারে প্রোটিন (ডিম, মাছ, মুরগি, টোফু) আর ফাইবার (সবজি, ফল, পূর্ণ শস্য) রাখুন।
সারা দিন বসে থাকা
বেশি সময় বসে থাকলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অথচ সামান্য হাঁটাহাঁটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন, বিশেষ করে খাবারের পর। সপ্তাহে ১৫০ মিনিট মাঝারি ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিট জোরালো ব্যায়াম করুন। এর সঙ্গে শক্তি বাড়ানোর অনুশীলনও জরুরি।
বারবার ফাস্ট ফুড খাওয়া
ফাস্ট ফুডে প্রচুর তেল, চর্বি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট থাকে। এগুলো দ্রুত রক্তে শর্করা বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা ঘরে রান্না করা খাবার বেশি খান, তাঁদের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কম। ফাস্ট ফুড একেবারে ছাড়তে হবে না। তবে যতটা সম্ভব ঘরে রান্না করা খাবার খান। লিন প্রোটিন, সবজি আর পূর্ণ শস্য ব্যবহার করুন।
রক্তে শর্করা বেড়ে গেলে কী করবেন
যদি মনে হয়, আপনার রক্তে শর্করা বেশি, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান। তিনি প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা করে সঠিক পরামর্শ দেবেন। সাধারণত যা করা হয়, তা হলো—
আমরা অনেক সময় ভাবি, ‘আমি তো মিষ্টি কম খাই, তাহলে সমস্যা কোথায়?’ কিন্তু আসলে পানি কম খাওয়া, স্ট্রেস, ঘুমের অভাব কিংবা সারা দিন বসে থাকার মতো সাধারণ অভ্যাসও রক্তে শর্করাকে প্রভাবিত করে।
তাই সামান্য পরিবর্তন আনলেই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এর ফলে ডায়াবেটিসসহ আরও অনেক জটিল রোগের ঝুঁকি কমে যাবে।
সূত্র: হেলথ

প্রতিদিনের নানামুখী চাপ শরীরের পাশাপাশি মনের ওপরও প্রভাব ফেলে। এসব চাপ থেকে শরীর ও মনকে রেহাই দিতে আধা ঘণ্টা কুসুম গরম পানিতে গোসল করার পরামর্শ দেন অনেকে। এই গরম পানিতে আরামদায়ক গোসল সারা দিনের চাপ এবং উত্তেজনাকে একটু হলেও হালকা করে। চলতি ট্রেন্ডে কেবল কুসুম গরম পানিই নয়, সে পানিতে লবণ যোগ করার...
৭ ঘণ্টা আগে
২০২৫ সালের শেষে ‘ভোগ’ জানিয়েছিল, বয়ফ্রেন্ডরা আর ট্রেন্ডি নয়। তাহলে ২০২৬ সালে ট্রেন্ড কী? অতীতের দিকে তাকালে যেমন নির্দিষ্ট কিছু ফ্যাশন বা খাবার দেখে সেই সময়কালকে চেনা যেত। ২০২৬ সালও তার ব্যতিক্রম হবে না। তবে এই বছরের মূলমন্ত্র হলো—সবকিছুকে সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তোলা। বড় ইভেন্ট বা উচ্চ...
১৩ ঘণ্টা আগে
১৯৯৮ সালে ইংল্যান্ডের ইস্ট ইয়র্কশায়ারের হাল শহর থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন বুশবি। তখন বয়স ছিল ২৯। আজ বয়স ৫৬। প্রায় ২৭ বছর তিনি হেঁটে চলেছেন। পাড়ি দিয়েছেন ২৫টি দেশের প্রায় ৫৮ হাজার কিলোমিটার পথ। এই অভিযানের নাম তিনি দিয়েছিলেন গোলিয়াথ অভিযান। যেখানে একমাত্র শর্ত ছিল, কোনো মোটরচালিত যান ব্যবহার করা...
১৫ ঘণ্টা আগে
কোনো এক হিজলের বনে মুগ্ধ হয়েছিলেন জীবনানন্দ দাশ। লিখেছিলেন কবিতার এই লাইন। এমনই এক ঘুঘু-ডাকা হিজলের বন দাঁড়িয়ে আছে হাকালুকি হাওরের বুকে। ভাই-বন্ধুরা মিলে শীতের রাতে আড্ডা দিতে দিতে ঠিক হলো, সবাই মিলে হিজল বন দেখতে যাব। এর নৈসর্গিক রূপ উপভোগ করতে হলে যেতে হবে ভোরেই।
১৯ ঘণ্টা আগে