
একটা গল্প দিয়ে শুরু করি। সুমিত ও শ্রেয়া কর্মজীবী দম্পতি। শিফটিং ডিউটি থাকে দুজনেরই। শ্রেয়া ভোরবেলা উঠে আটটার মধ্য়ে অফিসের জন্য বেরিয়ে পড়েন। অন্যদিকে সুমিত বেলা তিনটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অফিস করেন। এ ক্ষেত্রে প্রতিদিন দুজনে পর্যাপ্ত সময় একসঙ্গে কাটাতে পারেন না। ফলে দুজনের দৈনিক রুটিনও আলাদা। তবে মনোবিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, ব্যস্ত শিডিউলেও সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় রাখা সম্ভব।
সংসার বা পরিবার—জীবন বলতে তো শুধু দৈনন্দিন কাজকর্ম ও দায়িত্ব পালন করাই নয়, সঙ্গে সম্পর্কগুলো জিইয়ে রাখাও বোঝায়। শুধু দাম্পত্য সম্পর্ক কেন; আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু—সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখাও তো জীবন গতিশীল রাখে। কিন্তু এই সবকিছুকে যেন গিলে নিচ্ছে ক্যারিয়ার বা কর্মজীবন। কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ততা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, একই ঘরে থেকেও একে অন্যের দিকে চোখ তুলে তাকানো বা একটা হাসি দিয়ে কথা বলার পরিস্থিতিও থাকছে না। তবে বলে রাখি, সবটাই যদি সময়ের অভাব বলে এড়িয়ে যান, তাহলে সেটাকে অজুহাত ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।
ছুটির দিনের সন্ধ্যায় সঙ্গী বা পরিবারের মানুষদের সঙ্গে কথা না বলে শুধু ফোনের স্ক্রিন স্ক্রল করে কাটিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনা এখন বাড়ি বাড়ি। বলতেই হবে, যেকোনো সম্পর্ক বাঁচিয়ে রাখতে কমবেশি শ্রম দিতে হয়। আর প্রযুক্তির রমরমা এ সময়ে দাঁড়িয়ে যেন এ কথা আমরা ভুলতে বসেছি। ভুলে যাই, ব্যস্ততা জীবনের অংশ; আর এর মধ্য়েই কাছের মানুষদের জন্য সময় বের করে নিতে হবে। একটুখানি প্রশংসা, একটু হাত ধরা, কাছে গিয়ে বসা, ফোনে খোঁজখবর নেওয়া—এসব ছোটখাটো বিষয়ে নজর রাখলেই সম্পর্কে সুবাতাস বইতে থাকে।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসে যাওয়ার তাড়া থাকে দুজনেরই। আবার দুজনের দুই সময়ে অফিস থাকতে পারে; তাই বলে একে অপরকে না দেখে বেরিয়ে যাবেন, এমনটা হতে দেওয়া সব সময় ঠিক নয়। কাজে বের হওয়ার আগে অন্তত আধা ঘণ্টা একসঙ্গে কাটানোর চেষ্টা করুন—দুজনে চা খান, সকালের নাশতা সেরে নিন বা কাজ করতে করতেই গল্প করুন। দিনের অন্তত এক বেলার খাবার একসঙ্গে খাওয়ার চেষ্টা করুন। অফিসে যতই কাজের চাপ থাক, লাঞ্চ ব্রেক তো সবারই থাকে। সে সময়টায় একটা ফোন দিয়ে কথা বলুন সঙ্গীর সঙ্গে।

বাড়িতে যখন দুজনেই রয়েছেন, তখন সংসারের কাজগুলো একসঙ্গে সারুন। কাজের ফাঁকে একটু গল্প করুন পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সঙ্গেও। এই দিন একসঙ্গে একটা সিনেমা দেখলেন, লুডু বা দাবা খেললেন। বাড়িতেই সকলে মিলে জমিয়ে আড্ডা দিন বা একসঙ্গে রান্না করুন। কোনো দিন বাইরে থেকেও রাতের খাবার খেয়ে ফিরতে পারেন সবাই মিলে। তবে ডিউটি মনে করে টানা দীর্ঘক্ষণ একসঙ্গে কাটাতেই হবে, এমন নয়; বরং ছোট ছোট সুখের মুহূর্ত তৈরি করুন একসঙ্গে।
যেসব দম্পতি ভিন্ন ভিন্ন শহরে চাকরি করেন বা পরিবারের থেকে দূরে থাকেন, তাঁরা নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করুন। আধুনিক বিশ্বে এখন দূরে বসবাস করা মানেই দূরে থাকা নয়। ভিডিও কল ও মেসেজে সব সময় পাশে থাকা যায়। বাড়িতে ফিরে যখন রান্নাবান্না কিংবা ঘরের কাজ করছেন বা খাওয়ার সময় ভিডিও কল চালিয়ে রাখতে পারেন। সেভাবে কথা না হলেও যদি একে অপরকে চোখের সামনে খানিকক্ষণ দেখতে পান, তাতেও সম্পর্কের গতিটা থাকবে।
নিজেরা কথা বলুন। স্মার্টফোন এবং তাতে বিভিন্ন অ্যাপ আসার পর আমরা কাছের মানুষদের কাছে মনের ভাব প্রকাশ করার গুরুত্ব কম টের পাচ্ছি। একটুতেই যেন বিরক্ত হয়ে উঠছি। কোনো কথা ভালো না লাগলে বিরক্ত না হয়েও জানানো যায়, ব্যাপারটা মনঃপূত হয়নি। সুযোগ পেলে সঙ্গী ও পরিবারের মানুষের প্রশংসা করুন, আনন্দগুলো ভাগ করে নিন। সামনের মানুষটার চাহিদা, ইচ্ছা, পছন্দ-অপছন্দগুলোকে গুরুত্ব দিন। এতেই সম্পর্কে সুবাতাস বইবে।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে ও মিডিয়াম অবলম্বনে

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার দূরে রাঙামাটিয়া গ্রাম। এখানে ঢুকতেই চোখে পড়ে মাটির ঘরের সারি। তবে এসব ঘর আর দশটি গ্রামের মতো সাদামাটা নয়। কোনো দেয়ালে শিকারি জীবনের দৃশ্য, কোথাও সাঁওতাল তরুণ-তরুণীর নাচ-গান...
৭ ঘণ্টা আগে
ঘুম পৃথিবীর সব মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। কিন্তু ঘুমানোর ধরন সব দেশে, সব সংস্কৃতিতে এক নয়। কোনো দেশে শিশুকে শীতের মধ্যেও বাইরে ঘুম পাড়ানো হয়, আবার কোথাও স্বামী-স্ত্রী একই বিছানায় ঘুমালেও ব্যবহার করেন আলাদা কম্বল। দেশ, আবহাওয়া, সংস্কৃতি ও জীবনযাপনের সঙ্গে বদলে যায় ঘুমের অভ্যাসও।...
৭ ঘণ্টা আগে
সিলেট ভ্রমণের আনন্দ শুরু হয় ট্রেন বা বাসে ওঠার পর থেকে। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগে বাস বা ট্রেনের জানালা দিয়ে দেখা দুই পাশের সবুজ চা-বাগান, সারি সারি গাছ, নদী-খাল আর দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ—সব মিলিয়ে এই যাত্রা হতে পারে স্মরণীয়।
৮ ঘণ্টা আগে
সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে শত ফুট উঁচু থেকে আছড়ে পড়ছে জলরাশি। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে নিচে নেমে যাচ্ছে স্বচ্ছ পানির প্রবাহ। চারদিকে উঁচু-নিচু সবুজ পাহাড়, বুনো ঝোপ, নামহীন রঙিন বুনো ফুলের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য মুহূর্তে নিয়ে যাবে কল্পনার রাজ্যে। বলছি খাগড়াছড়ির কথা।
৯ ঘণ্টা আগে