Ajker Patrika

ভার্চুয়াল মডেলে বদলে যাচ্ছে ভিয়েতনামের ফ্যাশন মার্কেটিং

ফিচার ডেস্ক
ভার্চুয়াল মডেলে বদলে যাচ্ছে ভিয়েতনামের ফ্যাশন মার্কেটিং
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

প্রতিদিন সকালে টিকটকে ‘দুয়ং থুই লিনহ’-এর ইনবক্সে শত শত ম্যাসেজ আসে। কেউ পোশাক কিনতে চান, কেউ আবার সরাসরি দেখা করার অনুরোধ করেন। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষ জানেন না, লিনহ কোনো বাস্তব মানুষ নয়; সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি ভার্চুয়াল চরিত্র। এই ভার্চুয়াল মডেলের মালিক ২৩ বছর বয়সী কুয়াং ডং।

একসময় অনলাইন ফ্যাশন ব্যবসা করতেন ডং। সেই ব্যবসা করতে গিয়ে দুশ্চিন্তা কারণ হয় মডেল ভাড়া করার খরচ। ডং বলেন, ‘একটি ফটোশুটে বেশ খরচ হতো। কিন্তু পরে মডেলকে যদি ক্রেতাদের কাছে পছন্দ না হয়, তখন তো সব টাকা নষ্ট হয়।’

এআই মডেল দুয়ং থুই লিনহ

২০২৫ সালের শেষ দিকে ডং প্রথমবার ভার্চুয়াল মডেল ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। তখনই জন্ম হয় দুয়ং থুই লিনহ-এর। এশিয়ানদের মতো চেহারা, উজ্জ্বল ত্বক এবং ভদ্র-রুচিশীল পোশাকের স্টাইল। সবই পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয় তার ফ্যাশন ব্র্যান্ডের সঙ্গে মিলিয়ে। তবে কাজটি সহজ ছিল না। ডং জানান, শত শত ডিজাইন বাতিল করতে হয়েছে। কখনো শরীরের গঠন অস্বাভাবিক, কখনো মাথা বড়, কখনো আলোছায়া অস্বাভাবিক দেখাত। তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে কঠিন ছিল দর্শকের চোখকে বিশ্বাস করানো; যাতে কেউ বুঝতে না পারে, এটি ভার্চুয়াল।’

নিখুঁত প্রযুক্তি ব্যবহার

ডং ন্যানো ব্যানানা প্রো ব্যবহার করে দৃশ্যপট তৈরি করেন। এমনকি জিনিসপত্রের ছায়া পর্যন্ত হিসাব করে তৈরি করা হয়। পোশাক পরানোর সময় তিনি আসল পণ্যের ছবি, কাপড়ের ধরন ও পড়ার ভঙ্গি বিস্তারিতভাবে নির্দেশনায় যোগ করেন, যাতে এআইয়ের দেওয়া ছবি বাস্তবের সঙ্গে মিলে যায় ৯৫ শতাংশ। ভিডিওতে স্বাভাবিক চলাফেরা দেখাতে তিনি একসঙ্গে ব্যবহার করেন ভিও-৩ ও ক্লিং এআই। মাত্র এক মাসে লিনহর ভিডিও কয়েক মিলিয়ন ভিউ পায়। এ কারণে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০টি অর্ডার আসতে শুরু করে। ডং জানান, প্রথম মাসেই তাঁর আয় হয়েছে ৩০ কোটি ভিয়েতনামি ডংয়ের বেশি। বাংলাদেশি টাকায় যা ১৫ লাখ টাকার কাছাকাছি।

আগে ডং-এর যেখানে একটি ভিডিও বানাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগত, এখন সেখানে লাগে ৫ থেকে ১০ মিনিট। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি ভিডিও আপলোড করা সম্ভব হচ্ছে এ জন্য। সেই সঙ্গে বাড়ছে অর্ডার।

ছড়িয়ে পড়ছে ‘ভার্চুয়াল মডেল’ ব্যবসা

এই ট্রেন্ড এখন দ্রুত ছড়াচ্ছে। হো চি মিন সিটিতে ৩১ বছর বয়সী নুয়েন থান নাম এআই দিয়ে তৈরি ভার্চুয়াল কেওসি বা ভার্চুয়াল ভোক্তা তৈরি করছেন। বাস্তবে যেসব দৃশ্য ধারণ করতে বড় বাজেট লাগে, তিনি সেগুলো প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজে তৈরি করছেন। আর সেই কেওসি বিভিন্ন পণ্যের রিভিউ করে।

গড়ে উঠছে নতুন ভার্চুয়াল দুনিয়া

শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলোতে এখন হাজার হাজার ভার্চুয়াল মডেল দেখা যাচ্ছে। শিশু থেকে মধ্যবয়সী চরিত্র পর্যন্ত তৈরি করা যাচ্ছে। এআই মডেল শেখানোর কোচিংও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। হো চি মিন সিটির শিশুদের পোশাকের দোকানের এক মালিক মিনহ চাং। তিনি জানান, এআই ব্যবহারে তাঁর ছবি তৈরির খরচ ৪০ শতাংশ কমেছে। তিনি বলেন, ‘শিশু মডেল নিয়ে কাজ করা খুব কঠিন। তারা বিরক্ত হয়ে যায়, শুটিং বাতিল হয়। এখন কাপড় আর ডিজাইনের ছবি পাঠালেই এক দিনের মধ্যে যেকোনো লোকেশনে সম্পূর্ণ ছবি পাওয়া যায়।’ প্রতি এআই ভিডিওতে তাঁর খরচ পড়ে প্রায় ১ লাখ ডং বা ৪৭৫ টাকা।

এআই সহায়ক, বিকল্প নয়

কুয়াং ডং জানিয়েছেন, জনপ্রিয় হওয়ার পর তাঁকে প্রতারণার অভিযোগও শুনতে হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি সব সময় জানিয়ে দিই, আমার ছবি বা ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি। ছবির লক্ষ্য পণ্যকে সুন্দরভাবে দেখানো। এর সঙ্গে আমি নিশ্চিত করি, ক্রেতা যেন ছবি ও বর্ণনার সঙ্গে অবশ্যই বাস্তবে মিল পান।’ তবে এআই মডেল নির্মাতারা স্বীকার করেন, এআই যত নিখুঁতই হোক, মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আবেগকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারে না। কুয়া ডং বলেন, ‘এআই দিয়ে তৈরি মানুষ সুন্দর হতে পারে। কিন্তু মানুষের অনুভূতি কখনোই ফুটিয়ে তুলতে পারে না।’

সূত্র: ভিএন এক্সপ্রেস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত