মহান আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের জন্য বছরে যে কয়টি পুণ্যময় রাত রেখেছেন তার মধ্য থেকে একটি হলো শবে বরাত। রাসুল (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরাম এ রাতকে কেন্দ্র করে অনেক আমল করেছেন। পরবর্তী তাবেয়ি ও তাবে তাবেয়ি থেকেও এ ব্যাপারে আমল পাওয়া যায়।
ইসলামি শরিয়তে ইবাদত ও আমলের ভিত্তি হলো কোরআন এবং সুন্নাহর সঠিক দিকনির্দেশনা। শাবান মাসের মাহাত্ম্য এবং শবে বরাতের করণীয় নিয়ে উম্মাহর মধ্যে বিভিন্ন মত ও বিশ্লেষণ বিদ্যমান। বিশেষ করে ১৫ শাবানের নফল রোজা রাখা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে যেমন প্রবল আগ্রহ রয়েছে, তেমনি বিজ্ঞ আলেমদের মাঝেও রয়েছে সূক্ষ্ম ও তাত্ত্বিক আলোচনা।
শবে বরাতের পরদিন রোজা রাখার ফজিলত ও এর বিশুদ্ধতা নিয়ে হাদিস বিশারদগণ কী বলেন এবং আমলটি করার সঠিক পদ্ধতি কী—তা জানা প্রত্যেক মুমিনের জন্য জরুরি। প্রখ্যাত মুফতি ও আলেমদের গবেষণার আলোকে শবে বরাতের রোজা সম্পর্কিত একটি তাত্ত্বিক ও ভারসাম্যপূর্ণ বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
হজরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ১৫ শাবানের রাত (১৪ তারিখের দিবাগত রাত) যখন আসে তখন তোমরা এই রাতটি ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাও এবং দিনের বেলা রোজা রাখ। কেননা এ রাতে সূর্যাস্তের পর আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে আসেন এবং বলেন, আছে কি কোনো ক্ষমাপ্রার্থী? আমি তাকে ক্ষমা করবো। আছে কি কোনো রিজিক প্রার্থী? আমি তাকে রিজিক দেব। এভাবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রয়োজনের কথা বলে তাদের ডাকতে থাকেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ: ১৩৮৮)
এই হাদিসটির সনদ জয়িফ (দুর্বল) কিন্তু মুহাদ্দিসিনে কেরামের সর্বসম্মত মত হলো ফাজায়েলের ক্ষেত্রে জয়িফ হাদিস গ্রহণযোগ্য। তা ছাড়া শাবান মাসে বেশি বেশি নফল রোজা রাখা সহিহ্ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত।
বলাবাহুল্য, ১৫ শাবানের দিনটি শাবান মাসেরই একটি দিন এবং তা আইয়ামে বিজের অন্তর্ভুক্ত (অর্থাৎ প্রতি চান্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোজা) এ জন্য ফিকহের একাধিক কিতাবাদিতে এ দিনের (শবে বরাতের) রোজাকে মোস্তাহাব বা মাসনুন বললেও অনেক ওলামায়ে কেরাম তা অস্বীকার করেছেন। (সূত্র: মাসিক আল কাউসার)
আল্লামা তাকি উসমানি ইসলাহি খুতুবাতে বলেন, ‘আরও একটি বিষয় হচ্ছে, শবে বরাতের পরবর্তী দিনে অর্থাৎ শাবানের ১৫ তারিখের রোজা। গভীরভাবে বিষয়টি উপলব্ধি করা প্রয়োজন। হাদিসে রাসুলের বিশাল ভান্ডার থেকে একটি মাত্র হাদিস তার সমর্থনে পাওয়া যায়। তাতে বলা হয়েছে, শবে বরাতের পরবর্তী দিনে রোজা রাখো। বর্ণনার দিক থেকে হাদিসটি দুর্বল। তাই এদিনের রোজাকে এই একটি মাত্র দুর্বল হাদিসের দিকে তাকিয়ে সুন্নত বা মোস্তাহাব বলে দেওয়া অনেক আলেমের দৃষ্টিতে অনুচিত। তবে হ্যাঁ, শাবানের গোটা মাসে রোজা রাখা বহু হাদিসে পাওয়া যায়। অর্থাৎ প্রথম শাবান থেকে ২৭ শাবান পর্যন্ত রোজা রাখার যথেষ্ট ফজিলত রয়েছে। কিন্তু ২৮ ও ২৯ তারিখে রোজা রাখতে রাসুল (সা.) নিজেই বারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, রমজানের এক দুদিন পূর্বে রোজা রেখো না। যাতে রমজানের রোজা পালনের জন্য মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারো। তবে দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় হলো, ১৫ তারিখ আইয়ামে বিজের অন্তর্ভুক্ত। রাসুল (সা.) প্রায় মাসে আইয়ামে বিজের রোজা রাখতেন। আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বিজ বলা হয়। রাসুল (সা.) এই দিনগুলোতে রোজা রাখতেন। সুতরাং, কোনো ব্যক্তি যদি শাবানের ১৫ তারিখে এই দুটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ করে রোজা রাখতে চায়। অর্থাৎ একটি বিষয় হলো, এটি শাবান মাসের অন্তর্ভুক্ত। দ্বিতীয়টি হলো, এটি আইয়ামে বিজের শামিল। এই দুটা নিয়তে রোজা রাখলে ইনশা আল্লাহ সওয়াব পাওয়া যাবে। কিন্তু এই দিনটিকে শবে বরাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে বিশেষভাবে রোজা পালন করা কোনো কোনো আলেম নাজায়েজ বলেছেন।’ (ইসলাহি খুতুবাত, বাংলা: ৪ / ১৯৮-১৯৯)
বিজ্ঞ আলেমগণ বলেন, একদিকে নবীজি (সা.) শাবান মাসে রোজা রাখার প্রতি গুরুত্ব দিতেন, পাশাপাশি শাবানের ১৫ তারিখ আইয়ামে বিজেরও একটি দিন। অতএব, কেউ যদি এই বিবেচনায় শাবানের ১৫ তারিখে রোজা রাখে তাহলে ইনশা আল্লাহ মাহরুম হবে না। সওয়াব পেয়ে যাবে। তবে সম্ভব হলে আইয়ামে বিজের তিন দিনই (চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) নফল রোজা রাখতে পারলে সবচেয়ে উত্তম হয়।
লেখক: সহকারী শিক্ষাসচিব, মাদ্রাসা আশরাফুল মাদারিস, তেজকুনিপাড়া, তেজগাঁও ঢাকা

ইসলামি বর্ষপঞ্জির অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ রজনী হলো শবে বরাত। প্রতিবছর শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্টির দিকে বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য বান্দাকে ক্ষমা করেন। এই রাত নিয়ে মুসলিম সমাজে নানা মত ও বিশ্লেষণ থাকলেও কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে আমাদের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো...
৫ ঘণ্টা আগে
শবে বরাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাত। এ রাতে আল্লাহ তাআলা তাঁর অগণিত বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। তবে হাদিস শরিফে এমন কতিপয় মানুষের কথা উল্লেখ আছে, যারা এই মহিমান্বিত রজনীতেও আল্লাহর ক্ষমা থেকে বঞ্চিত থাকে।
১০ ঘণ্টা আগে
আজ পবিত্র শবে বরাত। হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানেরা শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। রাতটি আরবিতে ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবে পরিচিত। ফারসি ‘শব’ শব্দের অর্থ রাত আর ‘বরাত’ অর্থ মুক্তি। আজ সেই মুক্তির রাত বা ‘লাইলাতুল বরাত’।
১২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২০ ঘণ্টা আগে