
পিরিয়ড চলাকালে মেয়েদের মুড সুইং হয়। কথাটা এখন মোটামুটি সবাই জানেন। এ সময় এই ভালো লাগা আবার মুহূর্তেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি আজকাল নারীদের ঘরের মানুষেরাও সদয় দৃষ্টিতেই দেখেন। কিন্তু কখনো কি খেয়াল করেছেন, পিরিয়ড শুরু হওয়ার কয়েক দিন আগে থেকে নিজের জীবনের খারাপ স্মৃতিগুলোর ফ্ল্যাশব্যাকই মস্তিষ্কে চলতে থাকে? জীবনে কী পাননি, কেমন বেঁচে থাকাটা আপনার প্রাপ্য ছিল বা কবে কিসে হেরে গেছেন, জীবনে কে আপনার সঙ্গে সবচেয়ে খারাপ ব্যবহার করেছিল—এসব স্মৃতিই কেন বেশি বেশি মনে পড়ে?
চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া বলেন, ‘পিরিয়ডের সময় হরমোনের ওঠানামা শুধু শরীর নয়, নারীর আবেগকেও নাড়িয়ে দেয়। তখন মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা ও হিপ্পোক্যাম্পাস বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে; যেখানে ভয়, কষ্ট আর স্মৃতি জমা থাকে। শরীর তখন যেন একটি পুরোনো ডায়েরি খুলে ফেলে।’
পিরিয়ডের কয়েক দিন আগে এবং চলাকালীন নারীদের বিভিন্ন খারাপ স্মৃতি মনে পড়া। এতে ভেঙে পড়ার পেছনে কয়েকটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দায়ী।

ইস্ট্রোজেন হরমোনের পতন: পিরিয়ডের ঠিক আগে এই হরমোনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। ইস্ট্রোজেন মস্তিষ্কের সেরোটোনিন। এটি মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। তবে এর মাত্রার তারতম্য মনের ওপর প্রভাব ফেলে বলে মন খারাপ লাগে।
প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তন: প্রোজেস্টেরন হরমোনও পিরিয়ডের আগে হঠাৎ কমে যায়। এই হরমোন শান্ত থাকার অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত। এর অভাবে উদ্বেগ বা অস্থিরতা বাড়ে।
সেরোটোনিন হ্রাসের প্রভাব: সেরোটোনিন একটি গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার; যা মেজাজ, ঘুম ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে এর মাত্রা কমে গেলে বিষণ্নতা এবং খিটখিটে মেজাজ দেখা দেয়।
কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া: শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা কর্টিসল নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে, যা উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়ায়।
শরীরের ক্লান্তি ও ব্যথা: পিরিয়ডের সময় তলপেটে ব্যথা, মাথাব্যথা এবং ক্লান্তি খারাপ লাগার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তোলে। শারীরিক অস্বস্তি মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
রক্তে শর্করার তারতম্য: অনেকের পিরিয়ডের আগে মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে রক্তে শর্করার দ্রুত উত্থান-পতন মুড সুইংয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
ঘুমের অভাব: হরমোনের পরিবর্তনের কারণে ঘুমে ব্যাঘাত ঘটলে বা ইনসমনিয়া দেখা দিলে মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
থাইরয়েড বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা: কিছু ক্ষেত্রে এই হরমোনের তারতম্য থাইরয়েড বা অন্যান্য অন্তঃস্রাবী গ্রন্থিজনিত সমস্যায় ভুগলে আরও তীব্র হতে পারে।
সানজিদা শাহরিয়া জানান, কিছু কাজ করলে পিরিয়ডকালীন এই খারাপ লাগা কমতে পারে—
নিয়মিত ব্যায়াম: হালকা অ্যারোবিকস ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম করা যেতে পারে। এটি এন্ডোরফিন হরমোন নিঃসরণ করে, যা মেজাজ ভালো রাখে।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত লবণ ও চিনি এড়িয়ে চলতে হবে। ফল, সবজি এবং গোটা শস্য বেশি করে খেতে হবে।
পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে: প্রতিদিন রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে।
পর্যাপ্ত পানি পান: পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করে শরীর হাইড্রেটেড রাখতে হবে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: মেডিটেশন, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম বা শখের অনুশীলনের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করতে হবে।
সম্পূরক গ্রহণ: চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেশিয়াম বা ক্যালসিয়াম সম্পূরক গ্রহণ করতে হবে।
ছবি: পেক্সেলস

শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টি দিনে বড় দ্বিধা তৈরি হয় আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে—‘আজ কোন পোশাক পরব?’ বৃষ্টির দিনে ফ্যাশনেবল পোশাক পরার চেয়ে বরং কোন পোশাক পরলে সুবিধা বেশি হবে, সে কথাই বেশি ভাবি। যে ধরনের কাপড় পরলে বৃষ্টিতে ভেজার পর দ্রুত শুকিয়ে যাবে, কাদার দাগও সহজে তোলা যাবে, সে কাপড়কেই প্রাধান্য দিই।
১২ ঘণ্টা আগেযাঁরা পশ্চিমা ঘরানার পোশাক পরে অভ্যস্ত, তাঁদের ওয়ার্ডরোবে একটি হলেও স্ট্রাইপড টপস বা শার্ট থাকে। এটি জিনস, ফরমাল প্যান্ট বা স্কার্ট—সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে সহজে মানিয়ে যায়। তবে কখন, কোথায়, কীভাবে স্টাইলিং করবেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ।
১৪ ঘণ্টা আগে
সকালের শুরুটা অনেকের ক্ষেত্রে এখন একই রকম। ঘুম থেকে উঠে হাতে তুলে নেওয়া হয় মোবাইল ফোন। একবার ফেসবুক, একবার ইনস্টাগ্রাম, তারপর হয়তো ইউটিউব স্ক্রলিং। চোখের সামনে ভেসে ওঠে একের পর এক পোস্ট, খবরের ছবি বা ভিডিও কিংবা মতামত।
১৬ ঘণ্টা আগে
একসময় ধারণা করা হতো, সৌন্দর্যচর্চা বা নিজের যত্ন নেওয়া শুধু নারীদের কাজ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষদের মানসিকতা ও জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক ও ব্যস্ত জীবনে সুস্থ, সতেজ এবং আত্মবিশ্বাসী থাকতে পুরুষদের জন্য আত্মযত্ন বা সেলফ কেয়ার এখন অন্যতম জরুরি বিষয়। খুব বড় কিছু নয়, দৈনন্দিন জীবনের...
১৮ ঘণ্টা আগে