
মানুষ সব সময় চেষ্টা করে সবার কাছে ভালো থাকতে। কেউ তাকে ভালো বলুক, প্রশংসা করুক, তার গুণমুগ্ধ থাকুক—এটি সবাই চায়। সৃষ্টির আদিকাল থেকে টিকে থাকার লড়াইয়ে ‘একাকী’ হওয়ার চেয়ে দলবদ্ধ হয়ে থাকা ছিল বেশি নিরাপদ। তাই কারও কাছ থেকে প্রত্যাখ্যানের সামান্য ইঙ্গিত পেলেই আমাদের ভেতরে একধরনের অস্থিরতা কাজ করতে শুরু করে।
কিন্তু বর্তমানের এ জটিল সামাজিক কাঠামোয় সবার মন জয় করার চেষ্টা আমাদের নিয়ে যায় এক ক্লান্তিকর গোলকধাঁধায়। আর এর সহজ সমাধান হলো, সবার মন জুগিয়ে চলার দায় থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। মনোবিজ্ঞানী আনা মাথুর এবং অন্যান্য সম্পর্কবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যের পছন্দের তালিকায় থাকার চেয়ে নিজেকে গ্রহণ করার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে প্রকৃত স্বাধীনতা। অন্যের গ্রহণযোগ্যতায় প্রকৃত স্বাধীনতা লুকিয়ে থাকে না; বরং এটি নিহিত আছে নিজেকে গ্রহণ করার অদম্য সাহসের মধ্যে।
কিছু ক্লান্তি আছে, যা কাজ করার ফলে আসে না। সেসব ক্লান্তি আসে অন্যের চোখে নিজের গুরুত্ব খোঁজার চেষ্টা থেকে। অনেক সময় এমন হয়, যখন আমরা কারও সঙ্গে বন্ধুত্বের দাবি রাখি; কিন্তু সে সম্পর্কটি অনেকটা ‘ডেড-এন্ড’ বা কানা গলির মতো মনে হয়। যেখান থেকে বের হওয়ার কোনো পথ থাকে না। যে পথ আসলে কোনোখানেই যায় না, সেটি অর্থহীন। কেউ হয়তো একদিন খুব উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাল অথচ পরের সপ্তাহেই কোনো আড্ডায় আপনার চোখে চোখ মেলাতে কুণ্ঠাবোধ করছে। এমন আচরণ আমাদের স্নায়ুতন্ত্রে একধরনের ‘অ্যালার্ম’ বাজিয়ে দেয়। বুক ধড়ফড় করা, হাত ঘামা কিংবা ঘাড় লাল হয়ে যাওয়ার মতো শারীরিক উপসর্গগুলো জানান দেয়, আমরা মানসিকভাবে নিরাপদ বোধ করছি না। আমরা তখন অপরাধীর মতো নিজের প্রতিটি কথা ও কাজ চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে বসি। অথচ আসল প্রশ্নটি হওয়া উচিত, যাকে আমরা নিজের জন্য নিরাপদ ভাবছি না, কেন তার কাছেই বারবার নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে চাইছি?
আমরা বিচ্ছিন্ন কোনো দ্বীপে বড় হই না। কিংবা আমরা কোনো জঙ্গলেও থাকি না। শৈশব থেকে আমরা অন্যের চোখের দৃষ্টি আর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে নিজের পরিচয় খুঁজে নিতে শিখি। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর এ চাহিদা অতিনির্ভরশীলতায় রূপ নিলে তা বিষাদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রেস্টোরেশন থেরাপির ধারণা অনুযায়ী, আমাদের স্নায়ুতন্ত্রে ছোটবেলার অনেক অমীমাংসিত ক্ষত বা অ্যাটাচমেন্ট ইনজুরি জমানো থাকে। কারও অবহেলা বা প্রত্যাখ্যান সেই পুরোনো বইগুলোকে শেলফ থেকে ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটায়। মনে হতে থাকে, ‘আমি কি আদৌ ভালোবাসার যোগ্য? আমি কি এখানে নিরাপদ?’ অথচ সত্যিটা হলো, অন্যের কাছে অনুমোদনের সেই আকুলতা আসলে অন্যের জন্য নয়, সেটা আসলে নিজের ভেতরে থাকা কোনো এক অপূর্ণতাকে শান্ত করার চেষ্টামাত্র।
মনোবিজ্ঞানী আনা মাথুর তাঁর ‘দ্য আনকমফোর্টেবল ট্রুথ’ বইয়ে দেখিয়েছেন, ‘সবাই আমাদের পছন্দ করবে না’ এই অপ্রিয় সত্যটিকে গ্রহণ করে নিলে জীবনের এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়। এর কিছু সুফল তিনি উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো—
সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তা
অন্যের প্রতিক্রিয়ার ভয় না থাকলে প্রতিটি সিদ্ধান্ত হবে আপনার নিজস্ব সত্তার প্রতিফলন। এতে কারও প্রত্যাশা মেটাতে নয়; বরং নিজের ভালো লাগার ভিত্তিতে ক্যারিয়ার বা জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার সাহস তৈরি হবে।
সুদৃঢ় আত্মপরিচয়
অন্যের খাঁচায় নিজেকে বন্দী করা বন্ধ করলে আপনার নিজস্ব মতামত ও রুচি বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়। ‘হ্যাঁ’-এর বদলে ‘না’ বলার শক্তি অর্জিত হয়।
অহেতুক মূল্যায়নের মুক্তি
অন্যের পছন্দ-অপছন্দের সঙ্গে নিজের আত্মমর্যাদা জড়িয়ে না ফেললে মানসিক স্থিরতা আসে। নিজের কাজ ও অনুভূতির মূল্যায়ন যখন আপনি নিজেই করতে পারবেন, তখন অন্যের অবহেলায় আপনার ব্যক্তিত্ব তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে না।
মানুষ তুষ্ট করার প্রবণতা বর্জন
যারা আপনার গুণের চেয়ে কাজের বিনিময়ে ভালোবাসে, তাদের সান্নিধ্য ছেড়ে আপনি সে সব মানুষের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন, যারা আপনার প্রকৃত সত্তাকে মূল্য দেয়। এতে সম্পর্কের সমতা ও শ্রদ্ধা বজায় থাকে।
জীবনের দীর্ঘতম সম্পর্কটি হলো নিজের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক। এটিই একমাত্র সম্পর্ক, যা আমৃত্যু নিজের সঙ্গে থাকবে। তাই নিজেকে ত্যাগ করে অন্যকে খুশি করার নাম মুক্তি নয়। কেউ আপনাকে পছন্দ করছে না, এর মানে এই নয়—আপনার মধ্যে কোনো খামতি আছে। বরং এর মানে হতে পারে, সেই মানুষটির নিজস্ব সীমাবদ্ধতা বা তার জীবনের কোনো ক্ষত তাকে আপনাকে বুঝতে বাধা দিচ্ছে। অন্যের মনের আয়নায় নিজেকে না দেখে, নিজের ভেতরের আলোয় নিজেকে দেখা প্রয়োজন। যেদিন আপনি অন্যের হাতে নিজের মূল্যায়নের চাবিকাঠি ছেড়ে দেওয়া বন্ধ করবেন, সেদিন থেকেই শুরু হবে এক গভীর প্রশান্তির যাত্রা।
সূত্র: সাইকোলজি টুডে, হ্যালো ম্যাগাজিন

গত ৫০ বছরে ত্বকের ক্যানসারের হার বাড়তে থাকায় সূর্যের আলো নিয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। অতিরিক্ত সূর্যালোক ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়—এ বিষয়ে প্রমাণ এখন শক্তিশালী। ফলে সূর্যের আলো এড়িয়ে চলা এবং সানস্ক্রিন ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায়...
৫ ঘণ্টা আগে
উনিশ শতকের শুরুর দিকে ঝিটকা ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আকারে ধনে, পেঁয়াজ ও রসুনের চাষ হতো। ইছামতী নদীপথে নৌকায় করে এসব কৃষিপণ্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতেন ব্যবসায়ীরা। সে সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী আনন্দ মোহন পোদ্দারের দুই ছেলে যোগেশ্বর মোহন পোদ্দার ও রায়চরণ মোহন পোদ্দার ধনের ব্যবসা শুরু করেন। বড় বড়...
৮ ঘণ্টা আগে
পার্লামেন্টে ছাতা মাথায় দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন কঙ্গনা রনৌত। এক হাতে রোলেক্সের ঘড়ি ও বার্কিন ব্যাগ, অন্য হাতে ভারত মহাসাগরের সংস্কৃত নাম ‘রত্নাকর’ থেকে অনুপ্রাণিত নকশায় ‘গুড আর্থ’-এর একটি প্রিন্টের ছাতা। পরনে মণিপুরভিত্তিক ব্র্যান্ড এনইউপিআইয়ের তৈরি বেবি-ব্লু অ্যারি সিল্কের হালকা ওজনের শাড়ি। না, কোনো...
১১ ঘণ্টা আগে
দৈনিক রুটিন আগের মতোই রয়েছে। কিন্তু সন্ধ্য়েবেলায় বাড়ি ফেরার পর খুব বেশি ক্লান্ত অনুভব করছেন। কারণটা নিজেও বুঝতে পারছেন না। ঝট করে আগে যেভাবে সব কাজ শেষ করে ফেলতে পারতেন, আজকাল সেখানে অলসতা কাজ করছে। শারীরিকভাবে ফিট থেকেও সারা দিন ক্লান্তি ও অলসতার মুখোমুখি হলে দৈনন্দিন রুটিনে কিছু সাধারণ পরিবর্তন আন
১৩ ঘণ্টা আগে