Ajker Patrika

যে খাবারগুলো মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করবেন না

ফিচার ডেস্ক, ঢাকা 
যে খাবারগুলো মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করবেন না
কিছু খাবার মাইক্রোওয়েভ ওভেনে গরম করলে গুণাগুণ নষ্ট হয়, কিছু খাবারের স্বাদ বদলে যায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে খাবারে বিষক্রিয়া বা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে। ছবি: ফ্রিপিক

সময়ের অভাবে বা ঝটপট খাবার গরম করতে আমরা সচরাচর মাইক্রোওয়েভ ওভেন ব্যবহার করি। অফিসের লাঞ্চ বক্স হোক বা রাতের বেঁচে যাওয়া খাবার, একটু ঠান্ডা হলেই আমরা হালকা গরম করে নিয়ে পেটে চালান করে দিই। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না, সব খাবার মাইক্রোওয়েভে গরম করা নিরাপদ নয়। কিছু খাবার ওভেনে গরম করলে গুণাগুণ নষ্ট হয়, কিছু খাবারের স্বাদ বদলে যায়, আবার কিছু ক্ষেত্রে খাবারে বিষক্রিয়া বা দুর্ঘটনার ঝুঁকিও থাকে। তাই মাইক্রোওয়েভ ওভেনে খাবার গরম করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একই খাবার বারবার গরম করবেন না। বাসি খাবার একবারের বেশি গরম করলে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। ওভেনে সস গরম করলে তা ছিটকে চারপাশ নোংরা করে ফেলে। এটি চুলায় ছোট পাত্রে গরম করা বুদ্ধিমানের কাজ।

যে খাবারে বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে

আস্ত সেদ্ধ ডিম: খোসাওয়ালা বা খোসা ছাড়া আস্ত সেদ্ধ ডিম ওভেনে গরম করলে ভেতরে প্রচণ্ড বাষ্পীয় চাপ সৃষ্টি হয়। খোসা ছাড়ানোর সময় বা মুখে দেওয়ার সময় গরম করা ডিম বিস্ফোরিত হতে পারে। এ ছাড়া ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ভাজা ডিম ওভেনে গরম করলে তা রাবারের মতো শক্ত হয়ে যায়। সেদ্ধ ডিম গরম পানিতে কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখুন। আর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া ভাজা ডিম কড়াইয়ে হালকা আঁচে গরম করুন।

আস্ত আঙুর: আঙুর ওভেনে দিলে তা প্লাজমার মতো উত্তপ্ত হয়ে ফেটে যেতে পারে।

পানি: ওভেনে পানি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়। বাইরে থেকে বুদ্‌বুদ না দেখা গেলেও নাড়া দিলে বা টি-ব্যাগ রাখলে তা ছিটকে এসে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

শাক ও বিট: পালংশাক বা বিট ওভেনে গরম করলে তাতে থাকা নাইট্রেট ক্ষতিকর নাইট্রোসামিনে রূপান্তর হতে পারে। এ উপাদানটি শরীরে অক্সিজেন বহনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলো ঠান্ডা খাওয়াই ভালো অথবা চুলায় হালকা আঁচে গরম করে নিতে পারেন।

প্রক্রিয়াজাত মাংস: সসেজ বা প্রক্রিয়াজাত মাংস দীর্ঘক্ষণ ভালো রাখার জন্য অনেক রাসায়নিক দেওয়া হয়। সসেজ বা লাঞ্চ মিটের স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। মাইক্রোওয়েভের রশ্মি এই রাসায়নিকগুলোকে স্বাস্থ্যের জন্য আরও ক্ষতিকর করে তোলে। এগুলো চুলায় হালকা ভেজে নেওয়া নিরাপদ।

আলু: রান্না করা আলু বাইরে দীর্ঘক্ষণ থাকলে তাতে একধরনের ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়। মাইক্রোওয়েভের তাপে এই ব্যাকটেরিয়া মরে না।

স্বাদ ও টেক্সচার নষ্ট হয় যেসব খাবারে

ভাজাপোড়া খাবার (পেঁয়াজু, শিঙাড়া, ফ্রাই): সমুচা, চপ বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ওভেনে দিলে নরম ও চ্যাটচ্যাটে হয়ে যায়। এগুলো এয়ার ফ্রায়ার বা চুলায় ফ্রাইপ্যানে গরম করলে মচমচে ভাব বজায় থাকে।

পিৎজা ও পাস্তা: মাইক্রোওয়েভে পিৎজা নরম হয়ে যায় এবং পাস্তা সমানভাবে গরম হয় না। পিৎজা প্যানে রেখে ঢাকনা দিয়ে চুলায় গরম করলে ক্রাস্ট মচমচে থাকে।

চিকেন ও স্টেক: মাংস ওভেনে গরম করলে রাবারের মতো শক্ত ও শুকনা হয়ে যায়। চুলায় অল্প আঁচে বা ওভেনে ঢেকে গরম করলে এর জুসি ভাব বজায় থাকে।

ভাত: ওভেনে ভাত গরম করলে তা অনেক সময় শক্ত হয়ে যায়। ভাতের ওপর সামান্য পানি ছিটিয়ে চুলায় দমে দিয়ে গরম করা সবচেয়ে ভালো।

শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা

শিশুর জন্য রাখা দুধসহ বিভিন্ন খাবার ওভেনে গরম করলে সমানভাবে গরম হয় না। খাবারগুলোর কোনো কোনো অংশ বেশি আর কোনো অংশ কম গেম হতে পারে। ফলে শিশুর মুখ পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ছাড়া প্লাস্টিকের পাত্র থেকে ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশে যাওয়ার ভয় থাকে। কুসুম গরম পানির পাত্রে দুধের বোতল রেখে গরম করা সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র: ফুড নেটওয়ার্ক, টেস্টিং টেবল

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

‘ইলন মাস্কের হাত থেকে বাঁচাতে’ কিশোরী কন্যাকে হত্যা করলেন মা

অবশেষে অনশনরত স্বামীর হাত ধরে ঘরে ফিরলেন সেই স্ত্রী

মার্কিন বাহিনীর নতুন মাথাব্যথা ইরানের ‘অদৃশ্য কমান্ডো’

ক্রুকে উদ্ধারে কী কী প্রযুক্তি ব্যবহার করল যুক্তরাষ্ট্র, ইরানিরা কেন খুঁজে পেল না

ইরানে হামলায় সবচেয়ে প্রাণঘাতী ২০০০টি ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে আনছে যুক্তরাষ্ট্র, একটার দাম ১৫ লাখ ডলার

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত