
কোরবানির ঈদ মানেই ঘরে ঘরে গরু বা খাসির মাংসের নানা রকম খাবারের আয়োজন। ঈদের দিন থেকে শুরু করে পরপর কয়েক দিন প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি মাংস খাওয়া হয়ে যায়। সারা দিনে খাওয়ার রুটিনও হয়ে যায় এলোমেলো।
আত্মীয়স্বজন থেকে শুরু করে বন্ধুদের আড্ডা—সবখানেই চলতে থাকে তেল, চর্বি ও মসলাযুক্ত ভারী খাওয়া। কিন্তু এই অতিরিক্ত ভারী খাবার খেয়ে অনেকেরই দেখা দেয় বদহজম, গ্যাস, বুক জ্বালাপোড়া কিংবা পেটে অস্বস্তির মতো নানান সমস্যা। তাই এই ঈদে ভারী খাবার খাওয়ার পর যাতে ভালোভাবে হজম হয় ও শরীরও ঝরঝরে থাকে, তাই কয়েকটি বিষয় মনে রাখা চাই—
যাঁরা স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা কিংবা হৃদ্রোগের মতো সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিমিত পরিমাণে মাংস খাবেন।
ঈদে ভারী খাবার খাওয়ার পর কিছু খাবার ও পানীয় পান করলে আরাম পাওয়া যাবে। সেগুলোর মধ্যে আছে—

ভারী খাবার খাওয়ার ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর হালকা গরম পানি পান করতে পারেন। কুসুম গরম পানি অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়ার কাজে সহায়তা করে। ফলে আরাম পাওয়া যায়।
যেকোনো ভারী খাবার খেয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর প্রোবায়োটিকস-জাতীয় খাবার খান। টক দই দ্রুত খাবার হজম করে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। এতে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের জন্য উপকারী। তা ছাড়া এই গরমে টক দই খেলে শরীর ঠান্ডাও থাকে।
ভারী খাবার খাওয়ার পর ঘরে তৈরি বোরহানি খেতে পারেন। এটি হজমে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
গরুর মাংসের ভুনা বা কাবাবজাতীয় খাবার খাওয়ার পর এক কাপ আদা চা পান করতে পারেন। আদা খাবার দ্রুত হজমে সহায়তা করে এবং বমি ভাব কমাতে সাহায্য করে। এটি পেটের গ্যাস ও অস্বস্তি কমাতেও সাহায্য করতে পারে। এ ছাড়া পুদিনার চা, কাঁচা হলুদ ও মৌরি সেদ্ধ পানি পানেও খাবার দ্রুত হজম হয়।
এনজাইমসমৃদ্ধ ফল হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয়। পেঁপে, আনারস বা কলার মতো ফল শরীরে পানির ঘাটতি দূর করে এবং হজমে সাহায্য করে। কিন্তু ভারী খাবার খাওয়ার পর এগুলো খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াই ভালো।
অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার বেশি না খাওয়াই ভালো। খেতে হলে অল্প পরিমাণে খান ও পাতে সালাদের পরিমাণ বেশি রাখুন।
সব পানীয় কিন্তু হজমের জন্য ভালো নয়। কার্বোনেটেড কোমল পানীয় পাকস্থলীতে অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে পান করুন।
অনেকেই খাবার খাওয়ার পরপরই দুধ চা বা কফি পান করেন। এতে পেটে গ্যাস তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অন্তত দুই ঘণ্টা বিরতি দিয়ে দুধ চা বা কফি পান করুন।
উৎসবে মসলাদার খাওয়া হবেই। কিন্তু সুস্থ থাকতে সচেতনও থাকতে হবে। শরীর সুস্থ থাকলেই তো ঈদের প্রতিটি মুহূর্ত আরও সুন্দর হয়ে উঠবে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনেই মাংস ও অন্যান্য বিশেষ খাবার খান। এতে উৎসবের আনন্দ অটুট থাকবে।
সূত্র: হেলথ লাইন ও অন্যান্য
ছবি: পেক্সেলস

সারা দিনের ব্যস্ততার মাঝেও চা পান করতে কী আর ভুল হবে আজ? হবে না। আয়োজনে যেহেতু অভিনবত্ব রাখতে চান, তাই চায়ের ক্ষেত্রেও সেটা রাখতে পারেন। অতিথিদের জন্য কিংবা নিছক নিজের জন্যও বানিয়ে নিন টার্কিশ চা। এই বিশেষ ধরনের চায়ে দুধ মেশানো হয় না। ঐতিহ্যগতভাবে এই চা পরিবেশন করা হয় সরু কাচের গ্লাসে। তুরস্কে চা...
৩ ঘণ্টা আগে
ঈদুল আজহার অন্যতম বড় আয়োজন কোরবানির মাংস কাটা। ব্যস্ততা শুরু হয় কোরবানির পশু জবাইয়ের পর থেকে। মাংস কাটাকুটি, কিমা করা ও তা বণ্টন করার সময় ঘরের বা বারান্দার মেঝেতে এবং কাঠের আসবাবপত্রে রক্তের দাগ লেগে যাওয়া খুবই স্বাভাবিক। শহরে অনেকেই বাসার গ্যারেজ কিংবা বারান্দায় মাংস কাটার কাজ করেন। মাংস কাটার...
১৭ ঘণ্টা আগে
ঈদে গরুর মাংস দিয়ে ভিন্ন স্বাদের কিছু খাবার তৈরির কথা ভাবছেন? তাহলে এই রেসিপি আপনার জন্য। রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা। গরুর সেদ্ধ কিমা, ডিম, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ, ধনে ও পুদিনা পাতাকুচি, গরম মসলা, লবণ, বেসন—সব একসঙ্গে মিশিয়ে কোপ্তা বানিয়ে নিন। ডুবো তেলে কোপ্তাগুলো বাদামি...
১৯ ঘণ্টা আগে
ঈদুল আজহার আনন্দঘন মুহূর্তগুলোতে আমাদের খাবারের তালিকায় স্বভাবতই মাংসের বিভিন্ন পদের আধিক্য থাকে। পোলাও, বিরিয়ানি, রেজালা কিংবা কাবাবের মতো লোভনীয় সব ভারী খাবার টেবিলে সাজানো থাকলে জিভকে সামলানো দায় হয়ে পড়ে। অসুবিধা হতে পারে জেনেও অনেকেই বছরে তো একটাই কোরবানির ঈদ ভেবে কোনো বাছবিচার ছাড়াই...
২১ ঘণ্টা আগে