
রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটি মসলা হলো রসুন। আমিষ হোক কিংবা নিরামিষ, খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে এর জুড়ি নেই। রসুনের আছে কড়া ঘ্রাণ, যা রান্নায় যোগ করে নতুন মাত্রা। শুধু তা-ই নয়, কাঁচা রসুনও পেটের অসুখ ভালো করে দেওয়া পথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমরা কি রসুনের সঠিক ব্যবহার জানি? অনেক সময় রসুন ব্যবহারের সাধারণ কিছু ভুলেই খাবারের স্বাদ তিতকুটে হয়ে যায়, নষ্ট হয় এর পুষ্টিগুণও।
ফ্রিজে রসুন রাখার ভুল
অনেকেই রসুন ভালো রাখতে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখেন। এটি রসুনের জন্য সব থেকে ক্ষতিকর। ফ্রিজের ঠান্ডা ও আর্দ্র পরিবেশে রসুন দ্রুত অঙ্কুরিত হয়। আবার ফ্রিজের শুকনা বাতাস রসুনের কোয়া থেকে আর্দ্রতা শুষে নেয়। ফলে রসুন স্পঞ্জের মতো নরম হয়ে যায় এবং এর আসল স্বাদ হারিয়ে ফেলে। এর পরিবর্তে রসুন ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখুন। ঝুড়ি বা জালের ব্যাগে এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে বাতাস চলাচল করতে পারে। সরাসরি সূর্যের আলো থেকে দূরে রাখা ভালো।
রসুন নিয়ে আতঙ্ক

ভিনেগারে রসুনের আচার করলে অথবা সসে মেশালে অনেক সময় তা নীলচে বা সবুজ রং ধারণ করে। অনেকে মনে করেন, এটি বিষাক্ত এবং তা ফেলে দেন। আসলে এটি একটি স্বাভাবিক রাসায়নিক বিক্রিয়া। রসুনের সালফার যৌগ যখন অ্যাসিড বা খনিজ পদার্থের সংস্পর্শে আসে, তখন এমন রং হয়। এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয় এবং স্বাদেও কোনো পরিবর্তন আনে না। উত্তর চীনে ‘লাবা রসুন’ নামক একটি ঐতিহ্যবাহী খাবারে রসুনের এই চমৎকার সবুজ রংই বিশেষত্ব হিসেবে ধরা হয়। পুরোনো রসুনের কোয়ার ভেতরে সবুজ রঙের একটি অঙ্কুর দেখা যায়। এটি বিষাক্ত নয়, তবে রসুনের বাকি অংশের তুলনায় এটি বেশ তিতকুটে ও কড়া স্বাদের হয়। রসুনের অঙ্কুরটি ফেলে দিন। সূক্ষ্ম স্বাদের কোনো খাবার বা কাঁচা সস তৈরির সময় এই অঙ্কুরটি ফেলে দেওয়া ভালো। না হলে খাবারের স্বাদ নষ্ট হতে পারে।
কোন রান্নায় কেমন রসুন

রসুনের স্বাদ কতটা কড়া হবে, তা নির্ভর করে আপনি এটি কীভাবে কাটছেন তার ওপর। রসুন যত বেশি মিহি করে কুচি করবেন বা থেঁতো করবেন, তত বেশি সালফার যৌগ নির্গত হবে। এতে স্বাদ তত বেশি উগ্র ও কড়া হবে। সব রান্নায় রসুনকুচি না দিয়ে প্রয়োজন বুঝে কাটুন। ঘন সসের জন্য থেঁতো করা রসুন, স্যুপ বা স্ট্যুর সুগন্ধের জন্য কুচানো রসুন এবং হালকা সবজি রান্নার জন্য পাতলা স্লাইস করা রসুন ব্যবহার করুন। গ্রিল করা খাবারে মিহি কুচি রসুন এড়িয়ে চলুন। মাংস বা সবজি গ্রিল করার আগে ম্যারিনেশনে মিহি কুচি করা রসুন ব্যবহার করবেন না। আগুনের সরাসরি তাপে ক্ষুদ্র রসুনের টুকরাগুলো মাংস সেদ্ধ হওয়ার আগেই পুড়ে কালো হয়ে যায় এবং খাবার তিতকুটে করে ফেলে। রসুনের কুচির বদলে থেঁতো করা রসুনের রস ব্যবহার করুন অথবা ম্যারিনেশনের জন্য গার্লিক পাউডার বেছে নিন।
কড়াইয়ে শুরুতেই রসুন নয়
তেল গরম হতেই পেঁয়াজ বা সবজির আগে রসুন দিয়ে দেওয়া আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। রসুনে চিনির পরিমাণ বেশি এবং আর্দ্রতা কম থাকায় এটি খুব দ্রুত পুড়ে যায়। পেঁয়াজ বা মাংস সেদ্ধ হওয়ার আগেই রসুন পুড়ে কালো হয়ে যেতে পারে। আগে সবজি বা পেঁয়াজ ভাজুন। রান্না প্রায় শেষের দিকে এলে রসুনকুচি যোগ করুন। রসুনের সুগন্ধ বের হতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট সময় লাগে। এ ছাড়া চড়া আঁচে কখনই রসুন ভাজবেন না। অনেকেই সময় বাঁচাতে উচ্চ তাপে রসুন ভাজেন। এতে তা বাইরে থেকে পুড়ে লাল হয়ে যায়, কিন্তু ভেতর থেকে এর সুগন্ধ বের হতে পারে না। এটি খাবারের স্বাদ তিতকুটে করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানও তৈরি করতে পারে। সব সময় মাঝারি বা কম আঁচে রসুন ভাজুন। এতে রসুনের প্রাকৃতিক চিনি ধীরে ধীরে ক্যারামেলাইজড হয়ে চমৎকার সোনালি রং ধারণ করবে এবং একটি মিষ্টি সুগন্ধ তৈরি করবে।
সূত্র: টেস্টিং টেবিল

দৈনন্দিন জীবনে কেনাকাটা করতে গিয়ে কিংবা রেস্তোরাঁয় খেতে বসে আমরা কত খাবারই না অপচয় করি। কিন্তু আপনি কি জানেন, এই খাদ্য অপচয় রোধে আইন করে পৃথিবীতে এক অবিশ্বাস্য বিপ্লব ঘটিয়েছে ফ্রান্স? বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে তারা সুপারমার্কেটগুলোর ভালো খাবার ফেলে দেওয়া বা নষ্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
১২ ঘণ্টা আগে
ক্রিস্টিয়ান রোমেরো বললে অনেকে না-ও চিনতে পারেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডারকে। কিন্তু যদি বলা হয় ‘কুটি রোমেরো’ তাহলে বেশির ভাগ ফুটবলপ্রেমী চিনবেন তাঁকে। হ্যাঁ, আপনাদের প্রিয় কুটি রোমেরোর পুরো নাম ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। তবে আর্জেন্টিনার সাবেক গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরোর সঙ্গে তাঁকে গুলিয়ে ফেলবেন না
১৪ ঘণ্টা আগে
২০৪০ সালের মধ্যে ১৮টি ভিন্ন খাতে ১ কোটি এআই-চালিত রোবট মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে জাপান। এই ঐতিহাসিক রোবোটিকস অভিযানের জন্য দেশটির সরকার আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার তহবিল বরাদ্দ করেছে।
১৬ ঘণ্টা আগে
লিওনেল মেসির স্ত্রী! আন্তোনেলা রোকুজ্জো এই পরিচয়ে পরিচিত হলেও তিনি নিজেই আসলে মডেল হিসেবে বিখ্যাত ও সফল। রোকুজ্জো টিফানি অ্যান্ড কোং ও অ্যাডিডাসের মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং পল ম্যাককার্টনির ফ্যাশন ডিজাইনার কন্যা স্টেলা ম্যাককার্টনির সঙ্গেও জুটি বেঁধে কাজ করেছেন।
১৮ ঘণ্টা আগে