
ব্যস্ত নাগরিক জীবনে আমাদের ঘরদোর প্রায়ই অগোছালো হয়ে পড়ে। কাজের চাপ, ভ্রমণ এবং বিভিন্ন ব্যস্ততার মধ্যে ঘরের যত্ন নেওয়া অনেক সময়ই অসম্ভব হয়ে পড়ে। ড্রয়িংরুমে জমে থাকা পার্সেলের স্তূপ, ড্রেসিং টেবিলে এলোমেলো প্রসাধনী কিংবা ঘরের বিভিন্ন চেয়ারে জমানো লন্ড্রির কাপড়—সব মিলিয়ে এক বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি হয়। ঘরে পুনরায় সুশৃঙ্খল করতে ১২-১২-১২ নামক একটি পদ্ধতি বর্তমানে ইন্টারনেটে বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। কিন্তু সে পদ্ধতি কি আসলেই কাজ করে? জেনে নেওয়া যাক।
১২-১২-১২ পদ্ধতিটি কী?
ঘর গোছানোর এ কৌশলে বড় কোনো কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নেওয়া হয়। এর মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে মোট ৩৬টি জিনিসের মধ্যে। নিয়মটি হলো, আপনাকে ৩৬টি জিনিস খুঁজে বের করতে হবে যেখান থেকে—
এ নিয়মটি আসলে কতটা সহজ
এ পদ্ধতিটি দৈনন্দিন সাধারণ কাজ, যেমন বাসন মাজা বা কাপড় গুছিয়ে রাখার চেয়ে কিছুটা আলাদা। প্রতিদিন সুনির্দিষ্টভাবে ১২টি করে জিনিস দান করা বা ফেলে দেওয়ার মতো করে খুঁজে বের করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ব্যস্ত জীবনযাত্রায় এটি অনেক সময় বাড়তি মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে আলমারি বা ড্রয়ারের মতো নির্দিষ্ট কোনো অগোছালো অংশে এ নিয়ম প্রয়োগ করলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়।
পুরোনো নোটবুক বা প্রসাধনীর মতো স্তূপ হয়ে থাকা জিনিসের ভিড়ে এ নিয়মটি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। সাধারণত মানুষ অপ্রয়োজনীয় জিনিস জমানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন যুক্তি খোঁজে, যা ঘর আরও অগোছালো করে তোলে। ১২-১২-১২ পদ্ধতি মূলত এ দ্বিধা কাটিয়ে অপ্রয়োজনীয় বস্তু বর্জন করতে শেখায়। এটি কেবল ঘর গোছানোর কৌশল নয়; বরং অপ্রয়োজনীয় জিনিসের প্রতি আসক্তি কমানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে।
সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা
এ পদ্ধতির বড় গুণ হলো এটি আপনাকে কঠোর হতে শেখায়। অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো অন্যের কাজে লাগানোর সুযোগ করে দেয়। তবে এর একটি সীমাবদ্ধতাও আছে। আপনার ঘর খুব অগোছালো হলে এক দিনেই বড় কোনো পরিবর্তন আশা করবেন না। যেহেতু আপনি দিনে ৩৬টি জিনিস নিয়ে কাজ করছেন, তাই পুরো ঘর ঝকঝকে করতে আপনাকে বেশ ধৈর্য ধরতে হবে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ময়লা এক নিমেষে সরাতে চাইলে এটি হয়তো সেরা সমাধান নয়।
আপনার কি এ পদ্ধতি অনুশীলন করা উচিত?
এর উত্তরটি নির্ভর করে আপনার জীবনযাত্রার ওপর। যদি আপনার ঘরে প্রচুর অপ্রয়োজনীয় জিনিসের ভিড় থাকে এবং আপনি সেগুলো ফেলতে মায়া বোধ করেন, তবে এ নিয়মটি আপনার জন্য দারুণ একটি উৎসাহ হতে পারে। এটি আপনাকে শেখাবে কীভাবে অল্প অল্প করে এগিয়েও বড় লক্ষ্য অর্জন করা যায়।
যাঁরা সারা দিন বাইরে থাকেন বা খুব দ্রুত ঘর গুছিয়ে ফেলতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য ২০ মিনিটের ঝটপট পদ্ধতি বা ছুটির দিনে পুরো ঘর একসঙ্গে গোছানো বেশি কার্যকর। ১২-১২-১২ পদ্ধতিটি একটু ধীরগতির। যাঁরা নতুন করে ঘর গোছানোর অভ্যাস গড়তে চাইছেন এবং অল্প অল্প করে প্রতিদিন এগোতে চান, তাঁদের জন্য এটি একটি চমৎকার শুরু হতে পারে।
ঘর গোছানোর কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম সবার জন্য সমান কাজ নাও করতে পারে। তবে ১২-১২-১২ নিয়মটি আপনাকে অন্তত এটুকু শেখাবে, অগোছালো ঘর মানে কেবল ময়লা পরিষ্কার নয়; বরং অপ্রয়োজনীয় মায়া ত্যাগ করে জীবন সহজ করা।
সূত্র: গুড হাউস কিপিং ও অন্যান্য

আর কিছুদিন পরই কোরবানির ঈদ। সে সময়টায় মাংসের বিভিন্ন পদ রান্নার ব্যাপার রয়েছে বলে এখন অনেকে মাংস রান্নার কথা ভাবছেন না। মাছ, ভাত আর সবজিই চলবে ঈদের আগ পর্যন্ত। বড় মাছ খেতে ইচ্ছে না হলে নারকেল চিংড়িই রেঁধে ফেলুন। রান্না সহজ আবার খেতে সুস্বাদু। আপনাদের জন্য নারকেল চিংড়ির রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন...
১ ঘণ্টা আগে
অর্থ ব্যবস্থাপনা না শেখানোর কারণে উপার্জনের পর অনেকেই বুঝতে পারেন না, কীভাবে সঞ্চয় বা খরচ করা উচিত। তাই বাজেট ও খরচের নিয়ম জেনে সঞ্চয় ও খরচ করতে হবে। এটি আপনার জীবন সহজ করে তুলবে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা কিছু সাধারণ ও কার্যকর নিয়মের কথা বলেন, যেগুলো মেনে চললে পকেটের ওপর চাপ না ফেলে চমৎকারভাবে...
৩ ঘণ্টা আগে
বাড়ি ফেরার পথে পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হলে সাধারণ কুশল বিনিময় তো হয়ই, তারপর? বিদায় নেওয়ার আগে নিশ্চয়ই বলেন, ‘বাড়িতে আসবেন, একসঙ্গে চা খাওয়া যাবে।’ অফিসে কাজের ফাঁকে মাথাটা যখন ঝিম ধরে আসে, তখন পাশের চেয়ারে বসে থাকা সহকর্মীকে নিয়ে পাঁচ মিনিটের চা বিরতিতেই আমরা যাই।
২১ ঘণ্টা আগে
ভাবুন তো, যাঁর নিজের পাত্রই শূন্য, তিনি সেখান থেকে অন্যদের পাত্র কী করে পানিতে পূর্ণ করবেন? তাই অন্যকে ভালো রাখার প্রথম শর্ত হচ্ছে—নিজেকে ভালো রাখা। সে জন্য ‘মি টাইম’ বের করাটা জরুরি। অর্থাৎ, নিজের মতো সময় কাটানোর অবকাশ পেতে হবে।
২১ ঘণ্টা আগে