
টাকাপয়সা বা আর্থিক ব্যবস্থাপনা এমন একটি বিষয়, যা বেশির ভাগ স্কুলে শেখানো হয় না। অথচ জীবনে স্বাচ্ছন্দ্যে বেঁচে থাকতে চাইলে এটি সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলোর মধ্যে একটি। অর্থ ব্যবস্থাপনা না শেখানোর কারণে উপার্জনের পর অনেকেই বুঝতে পারেন না, কীভাবে সঞ্চয় বা খরচ করা উচিত। তাই বাজেট ও খরচের নিয়ম জেনে সঞ্চয় ও খরচ করতে হবে। এটি আপনার জীবন সহজ করে তুলবে। আর্থিক বিশেষজ্ঞরা কিছু সাধারণ ও কার্যকর নিয়মের কথা বলেন, যেগুলো মেনে চললে পকেটের ওপর চাপ না ফেলে চমৎকারভাবে ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা সম্ভব।
খরচের ক্ষেত্রে ৫০/৩০/২০ জনপ্রিয় নিয়ম। আপনার মোট আয়ের ৫০ শতাংশ অর্থাৎ অর্ধেক খরচ করবেন মৌলিক প্রয়োজনে। যেমন বাসাভাড়া, বিল, খাবার। বাকি ৩০ শতাংশ খরচ করবেন নিজের শখ বা বিনোদনে। যেমন ভ্রমণ, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, কেনাকাটা। এরপর বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি চলে যাবে সঞ্চয় বা ঋণ পরিশোধে। খাবার ও ব্যক্তিগত খরচ করার সময় চেষ্টা করুন একটু হিসাব করে খরচ করতে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আপনার মোট বাজেটের ১০-১৫ শতাংশ খাবারের পেছনে খরচ করুন। ২-১০ শতাংশ টাকা খরচ করুন রূপচর্চা, চুল কাটা বা জামাকাপড় কেনার মতো ব্যক্তিগত জিনিসের পেছনে।
এসব কিছু করার পর সঞ্চয় করার চেষ্টা করুন। কোনো মাসের বেতন পাওয়ার পর খরচের হিসাব না করে বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সঞ্চয়ের অংশটি আলাদা করে রাখুন। এরপর বাকি টাকা দিয়ে পুরো মাস চালান।
আমাদের জীবন খুবই অনিশ্চিত। যেকোনো সময় যেকোনো বিপদ এসে ঘাড়ে চেপে বসতেই পারে। পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন, কিংবা চাকরি চলে যেতে পারে। আবার হতে পারে হুট করে গ্যাসের সিলিন্ডার খালি হয়ে গেছে বা ইলেকট্রিসিটি কোনো মাসে সচরাচর নিয়মের বাইরে গিয়ে বেশি খরচ হলো। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতেই পারে। এ ধরনের বিপদের কথা বিবেচনায় রেখে অন্তত ৬ মাসের জীবনযাত্রার খরচ একটি আপৎকালীন তহবিলে জমা রাখা উচিত। ঘরে যদি দুজন আয় করা মানুষ থাকেন, তবে কমপক্ষে ৩ মাসের খরচ জমা রাখলেও চলে। এটাও যদি বেশি মনে হয়, তাহলে ন্যূনতম ২ মাসের জন্য তহবিলে জমা রাখার চেষ্টা করুন।
তবে হ্যাঁ, বেতন বাড়লে সঞ্চয় বাড়ান। চাকরিতে ইনক্রিমেন্ট বা বোনাস পেলে সঙ্গে সঙ্গে মনে বিলাসবহুল জীবনযাপনের একটা বাসনা জাগতে পারে। কিন্তু সেটাতে অভ্যস্ত না হয়ে বাড়তি টাকাটা সঞ্চয়ে যোগ করুন। লটারি, উপহার বা পৈতৃক সূত্রে হঠাৎ বড় অঙ্কের অর্থ পেলে তার মাত্র ১২ শতাংশ নিজের আনন্দের জন্য খরচ করুন। বাকি ৮৮ শতাংশ টাকা ব্যাংকে রেখে কয়েক মাস ঠান্ডা মাথায় ভাবুন, সেটি কোথায় বিনিয়োগ করবেন।
গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ২০/৪/১০ নিয়ম মেনে চলুন। গাড়ি কেনার জন্য লোন নিতে হলে অন্তত ২০ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিন। লোনের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৪ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখুন এবং গাড়ির যাবতীয় খরচ, যেমন ইনস্টলমেন্ট, তেল, ইনস্যুরেন্স যেন আপনার মোট আয়ের ১০ শতাংশের বেশি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। নতুন গাড়ি কেনার চেয়ে ব্যবহৃত গাড়ি কেনা সাশ্রয়ী। তবে নতুন গাড়ি কিনলে তা অন্তত ১০ বছর চালানোর পরিকল্পনা রাখা উচিত। আর বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মূল দামের অন্তত ২০ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দেওয়া উচিত। এতে ঋণের বোঝা এবং মাসিক কিস্তি দুই-ই কমে যায়। আপনি যদি ভাড়াটে হন, তবে আপনার ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল আয়ের ৩০ শতাংশ বা তার কম হওয়া উচিত। আর হোম লোন থাকলে মাসিক কিস্তি যেন নিট আয়ের ৩০-৩৫ শতাংশের বেশি না হয়।
এই নিয়মগুলো আর্থিক সচ্ছলতার একটি গাইডলাইন মাত্র। আমরা জানি, সবার জীবনের পরিস্থিতি এক নয়। তাই নিজের আয়-ব্যয়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নিয়মগুলো নিজের মতো করে সাজিয়ে নিন। প্রয়োজনে কারও সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না।
সূত্র: লাইফ হ্যাকার, দ্য ডাচ রোলার

বাড়ি ফেরার পথে পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা হলে সাধারণ কুশল বিনিময় তো হয়ই, তারপর? বিদায় নেওয়ার আগে নিশ্চয়ই বলেন, ‘বাড়িতে আসবেন, একসঙ্গে চা খাওয়া যাবে।’ অফিসে কাজের ফাঁকে মাথাটা যখন ঝিম ধরে আসে, তখন পাশের চেয়ারে বসে থাকা সহকর্মীকে নিয়ে পাঁচ মিনিটের চা বিরতিতেই আমরা যাই।
১৯ ঘণ্টা আগে
ভাবুন তো, যাঁর নিজের পাত্রই শূন্য, তিনি সেখান থেকে অন্যদের পাত্র কী করে পানিতে পূর্ণ করবেন? তাই অন্যকে ভালো রাখার প্রথম শর্ত হচ্ছে—নিজেকে ভালো রাখা। সে জন্য ‘মি টাইম’ বের করাটা জরুরি। অর্থাৎ, নিজের মতো সময় কাটানোর অবকাশ পেতে হবে।
১৯ ঘণ্টা আগে
মানসিক শান্তির অন্যতম উপায় হয়ে উঠেছে ভ্রমণ। কিন্তু সাধ থাকলেও অনেক সময় সাধ্যের কারণে ভ্রমণপিয়াসি মানুষদের ঘরেই বন্দী থাকতে হয়। অনেকে ভাবেন, লটারি না জিতলে দুনিয়া ঘুরে দেখা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ভ্রমণের জন্য লটারির টিকিটের চেয়ে বেশি প্রয়োজন সঠিক কৌশল। কম খরচে বিশ্বভ্রমণের সেরা উপায়গুলো...
১ দিন আগে
হামোম তনু বাবু। অনেকে তাঁকে চেনেন মণিপুরি জাদুঘরের রূপকার হিসেবে। নিজ সম্প্রদায়ের ইতিহাস গতিশীল রাখার জন্য মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ছনগাঁও গ্রামে তিনি তিলে তিলে তৈরি করেছেন এই সংরক্ষণশালা বা জাদুঘর। ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরের নাম চাউবা মেমোরিয়াল মণিপুরি ইন্টেলেকচুয়াল...
১ দিন আগে