মুসলমানদের কাছে ত্যাগ, বিশ্বাস ও মানবতার এক অনন্য প্রতীক ঈদুল আজহা। পশু কেনা থেকে শুরু করে কোরবানি সম্পন্ন করা পর্যন্ত মানুষের মুখে ফুটে ওঠে আত্মতৃপ্তি ও প্রশান্তির ছাপ। এই উৎসব শুধু আনন্দের নয়; বরং আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা ও মানবকল্যাণের শিক্ষাও দেয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তুলে ধরেছেন তাঁদের ঈদ ভাবনা। গ্রন্থনা করেছেন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী শেখ সুলতানা মীম।
ঈদুল আজহা ত্যাগ, আনুগত্য ও আত্মসমর্পণের এক মহিমান্বিত শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইব্রাহিম (আ.) তাঁর প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাঈল (আ.)-কে কোরবানি করার পরীক্ষায় অবিচল ছিলেন, যা বিশ্বাস ও আনুগত্যের অনন্য দৃষ্টান্ত। সেই ইব্রাহিমি আদর্শই আজও ঈদুল আজহার মূল প্রেরণা। এই উৎসব আমাদের শেখায়, প্রকৃত সফলতা ভোগে নয়, ত্যাগে।
পশু কোরবানির মাধ্যমে মানুষ নিজের ভেতরের লোভ, অহংকার ও স্বার্থপরতাকেও বিসর্জন দেওয়ার শিক্ষা পায়। আল্লাহর কাছে পশুর রক্ত নয়, মানুষের তাকওয়া ও আন্তরিকতাই বেশি মূল্যবান। সমাজে সহমর্মিতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তুলতে ঈদুল আজহার গুরুত্ব অপরিসীম।
ঈদুল আজহা মুসলিমদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এটি আত্মত্যাগ ও মানবতার বার্তা বহন করে। সামর্থ্যবান মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পশু কোরবানি করেন এবং সেই মাংস থেকে গরিব ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করেন। ফলে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান সময়ে মানুষে মানুষে দূরত্ব ও বিভেদ বাড়লেও কোরবানির শিক্ষা আমাদের সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির পথে আহ্বান জানায়। এই শিক্ষা শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং হিংসা, অহংকার ও স্বার্থপরতা ত্যাগ করার মধ্যেও নিহিত। যখন ঈদের আনন্দ সবাই মিলে ভাগ করে নেওয়া যায়, তখনই ঈদুল আজহার প্রকৃত তাৎপর্য ফুটে ওঠে।
ঈদুল আজহা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জীবনে আনন্দ ও ত্যাগের বার্তা নিয়ে আসে। কোরবানি শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আত্মশুদ্ধিরও শিক্ষা দেয়। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কোরবানি করার মাধ্যমে মানুষ নিজের ভেতরের পশুত্ব, লোভ ও অহংকার দূর করার অনুপ্রেরণা পায়। কোরবানির মাংস আত্মীয়স্বজন ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করলে সমাজে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা বাড়ে। এতে মানুষ দুনিয়ার মোহ থেকে দূরে থেকে মানবতার চর্চা করতে শেখে। তাই কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা ধারণ করে সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসাই হওয়া উচিত সবার লক্ষ্য।
পবিত্র ঈদুল আজহার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো কোরবানি। ইসলামের বিধান অনুযায়ী সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কোরবানি করা ওয়াজিব। এই উৎসবের মাধ্যমে ধনী-গরিবের ভেদাভেদ অনেকটাই দূর হয়ে যায়। সমাজের অনেক মানুষ সারা বছর মাংস খেতে না পারলেও ঈদের সময় কোরবানির মাংস পেয়ে আনন্দিত হন। একসঙ্গে পশু কেনা, কোরবানি করা ও মাংস বণ্টনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ও সম্প্রীতি গড়ে ওঠে। কোরবানি যেমন আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি ইবাদত, তেমনি এটি সামাজিক বন্ধনও দৃঢ় করে। তাই ঈদুল আজহা আমাদের শুধু আধ্যাত্মিক শিক্ষাই নয়, সামাজিকতার শিক্ষাও দেয়।
হোস্টেলের ব্যস্ত ও একঘেয়ে জীবনের পর ঈদের ছুটি যেন বাড়ি ফেরার এক অন্য রকম আনন্দ নিয়ে আসে। শহরের কোলাহল ছেড়ে গ্রামের সবুজ প্রকৃতি, পরিবারের সান্নিধ্য আর শৈশবের স্মৃতি মনকে প্রশান্ত করে। ঈদের আগে থেকে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি ও বন্ধুদের সঙ্গে নানা পরিকল্পনা শুরু হয়। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়িতে পৌঁছে মায়ের হাসিমুখ আর পরিবারের ভালোবাসা সব ক্লান্তি দূর করে দেয়। ঈদের সকালে নামাজ, নতুন পোশাক, সালামি আর মায়ের হাতের রান্না আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে। পাশাপাশি কোরবানি ও মাংস ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে গরিব মানুষের মুখে হাসি ফোটানোও ঈদের বড় আনন্দ। অল্প সময়ের এই ছুটিতে পরিবার ও শিকড়ের কাছে ফিরে যাওয়াই যেন ঈদের আসল অনুভূতি।

বার কাউন্সিল পরীক্ষার্থীরা শেষ মুহূর্তের এই সময়ে কীভাবে নিজেকে সেরা ছন্দে রাখবেন, নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে সে পরামর্শ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহসিন খান। তাঁর অভিজ্ঞতালব্ধ পরামর্শ শুনেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার।
৩ দিন আগে
মালয়েশিয়া সরকারি এমটিসিপি বৃত্তি ২০২৬-২৭ এর জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ান টেকনিক্যাল কোঅপারেশন প্রোগ্রাম (এমটিসিপি) বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীরা মালয়েশিয়ার সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে...
৩ দিন আগে
আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (এআইইউবি) ও ভারতের পাঞ্জাবের চিতকারা ইউনিভার্সিটি রাজপুরার মধ্যে সম্প্রতি একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের পাঞ্জাবের রাজপুরায় অবস্থিত চিতকারা ইউনিভার্সিটির চ্যান্সেলরস সেক্রেটারিয়েটে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়...
৪ দিন আগে
সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত হওয়া আরও ১৪১ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন মাদ্রাসার ১১৪ জন, কলেজ পর্যায়ের ২৪ জন এবং কারিগরি পর্যায়ের ৩ জন শিক্ষক।
৪ দিন আগে