
বলা হয় ‘মাছে ভাতে বাঙালি’। মাছটা প্রোটিন আর ভাতটা হলো শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট। মাছ না পেলেও লবণ দিয়ে অনেকে ভাত খেয়ে নিতে পারবেন অনেকটাই। অনেকের রাতে ঘুমই আসতে চায় না পেটে ভাত না পড়লে। তরুণ প্রজন্মের অনেকের কাছে ভাতের জায়গা ছিনিয়ে নিয়েছে পিৎজা কিংবা নুডলসের মতো খাবারগুলো। ঘুরেফিরে সেই শর্করা। পিৎজার শেষ স্লাইসটায় কামড় বসানোর আগে বা গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের থালা দেখে কি কখনো নিজেকে প্রশ্ন করেছেন, ‘মনটা কেন সব সময় এমন কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা খাওয়ার জন্য আঁকুপাঁকু করে?’ উত্তরটা একদম সোজা। দোষ আপনার নয়, বিজ্ঞান বলছে, দোষ আসলে আপনার ডিএনএর।

আমরা অনেকে ভাবি, শর্করার প্রতি মানুষের এই আদিখ্যেতা হয়তো হাল আমলের পিৎজা-বার্গারের জমানায় শুরু হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন সম্পূর্ণ অন্য কথা। মানুষের শরীরে এএমওয়াই ওয়ান নামের একটি জিন রয়েছে, যা কার্বোহাইড্রেট হজম করার এনজাইম তৈরি করে। আর এই জিনের জন্ম মানবজাতির উৎপত্তিরও শত শত হাজার বছর আগে। আদিম গুহাবাসীরা হয়তো ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেত না, কিন্তু শিকড়জাতীয় সবজি পুড়িয়ে খেতে তারা ভালোবাসত বলে জানা যায়। অর্থাৎ, কার্বোহাইড্রেটের প্রতি এই প্রেম আমাদের রক্তে আর ডিএনএতে একদম গেঁথে আছে। কিন্তু শর্করা নিয়ে তো সমাজে বদনামের শেষ নেই। ‘শর্করা খেলেই মোটা হবেন’ কিংবা ‘শর্করা মানেই ক্ষতিকর’—এমন নানা কথা চারদিকে ঘুরছে। অথচ সত্যটা হলো, সব শর্করা কিন্তু এক নয়।
প্রধানত শর্করা দুই প্রকার। এক হলো সিম্পল শর্করা বা সহজ শর্করা, যেমন মিষ্টি, সোডা, সাদা পাউরুটি বা ফল। এগুলো দ্রুত হজম হয়ে শরীরে ঝটপট শক্তি দেয়। তবে রক্তে শর্করার মাত্রা হুট করে বাড়িয়ে আবার কমিয়েও দেয়। অন্যটি হলো কমপ্লেক্স শর্করা বা জটিল শর্করা। এগুলোর মধ্যে আছে লাল চালের ভাত, হোল গ্রেইন পাউরুটি, ওটস, ডাল, শাকসবজি ইত্যাদি। এগুলো ধীরে ধীরে হজম হয়ে শরীরে দীর্ঘক্ষণ শক্তির জোগান দেয় এবং পেট ভরিয়ে রাখে।

শর্করা মূলত মস্তিষ্কের ফুয়েল। অর্থাৎ আপনার ব্রেন সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে কার্বোহাইড্রেট। শর্করা থেকে আসা গ্লুকোজ না পেলে ব্রেন ঠিকঠাক কাজই করতে পারে না, মনোযোগের অভাব দেখা দেয়। আমাদের শরীরের হ্যাপিনেস হরমোনও শর্করা দিয়ে নিয়ন্ত্রিত। কার্বোহাইড্রেট খেলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামে একপ্রকার ফিল গুড হরমোন নিঃসৃত হয়। সহজ কথায়, শর্করা আপনাকে মানসিকভাবে খুশি রাখে। খেয়াল করে দেখবেন, অনেক মানুষের মন খারাপ থাকলে তাঁরা প্রচুর খাবার খেতে শুরু করেন। সেসব খাবারের বেশির ভাগই শর্করা জাতীয়। মন খারাপের সময় এজাতীয় খাবার খেয়ে অনেকে মানসিক শান্তি অনুভব করেন। শরীরচর্চার জন্য বা সারা দিন দৌড়াদৌড়ি করার মূল জ্বালানি জোগায় শর্করা। এমনকি এর আঁশ হজম প্রক্রিয়া ও অন্ত্র ভালো রাখে।
তাহলে কি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া শর্করা খাওয়া যাবে? উত্তর হলো, একদমই না। প্রক্রিয়াজাত রিফাইনড শর্করা, যেমন সাদা পাউরুটি বা চিনিযুক্ত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা ভালো। তবে হোল গ্রেইন, ফল ও সবজিজাতীয় রিফাইনড ছাড়া স্বাস্থ্যকর শর্করা খাওয়ার ক্ষেত্রে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তাই পরেরবার যখন শর্করা খাওয়ার জন্য মন আঁকুপাঁকু করবে, খুব বেশি অপরাধবোধে না ভুগে পরিমাণমতো সঠিক ও স্বাস্থ্যকর শর্করা বেছে নিতে ভুলবেন না। আপনার শরীর ও মন—উভয়ই আপনাকে ধন্যবাদ দেবে।
সূত্র: ওয়েব মেড, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাখ লাখ খাদ্যরসিক ও ভ্রমণকারীর অভিজ্ঞতা এবং পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ভ্রমণ প্ল্যাটফর্ম ট্রিপ অ্যাডভাইজার প্রকাশ করেছে এ বছরের ট্রাভেলার্স চয়েস বেস্ট অব দ্য বেস্ট রেস্তোরাঁর তালিকা। প্ল্যাটফর্মটিতে থাকা প্রায় ৮০ লাখ রেস্তোরাঁর তালিকার মধ্যে শীর্ষ ১...
৮ ঘণ্টা আগে
ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ফোটেনি। মেঘনার বিস্তীর্ণ জলরাশির ওপর কুয়াশার পাতলা চাদর। দূরে জেলেদের নৌকা ঢেউ কেটে এগিয়ে চলছে। পুব আকাশে সূর্যের আভা ছড়িয়ে পড়তেই নদীর জল চিকচিক করে উঠল সোনালি আলোয়। ম্যানগ্রোভ বনের ফাঁক দিয়ে হঠাৎ ছুটে গেল একদল হরিণ। কোথাও পাখির ডাক, কোথাও মহিষের ঘণ্টার শব্দ, আবার কোথাও...
১৬ ঘণ্টা আগে
‘জীবন একটি রোমাঞ্চকর অভিযান ছাড়া কিছু নয়’—হেলেন কেলারের এই কথার সার্থক রূপায়ণ ঘটিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামের তঞ্চঙ্গ্যা জনগোষ্ঠীর তরুণ বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। কক্সবাজারের সোনাঝরা সৈকতের নোনাজল ছেড়ে সাইকেলে চেপে বীর কুমার যাত্রা শুরু করেছিলেন হিমালয়ের উদ্দেশে।
১৬ ঘণ্টা আগে
বাহরাইনের রাশা ইউসিফ ‘পৃথিবীর সব দেশ ঘুরে দেখা’ রোমাঞ্চকর কিন্তু কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন। ভ্রমণের সঙ্গে ফটোগ্রাফিকে সঙ্গী করে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ১৯৫টি দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। তবে রাশার ভ্রমণের...
১৭ ঘণ্টা আগে