ফিচার ডেস্ক

ভ্রমণে গিয়ে শুধু প্রকৃতি দেখাই শেষ কথা নয়; এর সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলের অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতা ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চিয়াং মাই ঘুরতে গেলে এমনই কিছু আপনাকে অবাক করবে। সেখানে কারাবন্দী নারীদের হাতে থাই ম্যাসাজ নেওয়া যায়!
চিয়াং মাই শহরের পুরোনো এলাকার রাতভিথি রোডে রয়েছে চিয়াং মাই উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টার। এটি মূলত নারীদের কারাগার। তবে এই কারাগার ঘিরে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সেখানকার নারী বন্দীরা কোনো গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত নন। মানে, যাঁরা কাউকে আঘাত বা ক্ষতি করার কারণে জেল খাটছেন না, তাঁদের নিয়ে বিশেষভাবে চালু করা হয়েছে এই থাই ম্যাসাজ প্রোগ্রাম। ভ্রমণকারীরা চাইলে এখানে এসে ম্যাসাজ নিতে পারে।
বাইরে থেকে দেখলে জায়গাটি সাধারণ স্পা সেন্টারই মনে হবে। ঝলমলে কক্ষ, সাজানো বিছানা আর নিরিবিলি পরিবেশ। কিন্তু আসল পার্থক্য হলো, সেখানে থেরাপিস্টরা কারাগারে বন্দী। তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় পেশাদার থাই ম্যাসাজ থেরাপিস্ট হওয়ার জন্য। পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় কারাগারের নিয়ম মেনে। তাই পাশে সব সময় একজন প্রহরী উপস্থিত থাকেন।
প্রথম অভিজ্ঞতা
জায়গাটিতে ঢুকলেই বোঝা যায়, এটি শুধুই কারাগার নয়। সেখানে অপেক্ষা করার ক্যাফে রয়েছে। অপেক্ষার পর আপনার পালা এলে সারি সারি বিছানা সাজানো আধো অন্ধকার ঘরে নেওয়া হবে। ঘরটি অন্য যেকোনো থাই ম্যাসাজ সেন্টারের মতো। ভিজিটরদের আলাদা পোশাক দেওয়া হয়। মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ বা অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিস লকারে রাখতে হয়। শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি লাগতে পারে এই ভেবে যে আপনি জেলে আছেন। কিন্তু ম্যাসাজ শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই অনুভূতি মিলিয়ে যায়। বন্দীরা সাধারণত বেশি কথা বলেন না। তাঁরা শুধু জিজ্ঞেস করেন, হাতের চাপ কেমন চান। তারপর তাঁরা পুরোপুরি ম্যাসাজ করার দিকে মনোনিবেশ করেন।

সেবার ধরন ও খরচ
চিয়াং মাই উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টারের জনপ্রিয় সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত খোলা থাকে এই ম্যাসাজ সেন্টার। আর এটি ছুটির দিন খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে। এখানে আগে থেকে বুকিং সম্ভব নয়। তাই সেখানে গিয়েই রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। ছুটির দিন ও সময়সূচি জানা যায় ম্যাসাজ সেন্টারের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে।
কারাগার থেকে স্পা সার্টিফিকেট
চিয়াং মাই উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টারের এই প্রকল্পের নাম নারি স্পা। এর লক্ষ্য নারী বন্দীদের পেশাদার থাই ম্যাসাজ প্রশিক্ষণ দেওয়া। বন্দীদের শহরের অন্য জায়গা থেকে এখানে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পুরো উদ্যোগটি নিয়ন্ত্রিত হয় থাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে। থাইল্যান্ডে একজন সার্টিফায়েড ম্যাসাজ থেরাপিস্ট হতে হলে প্রায় ৮০০ ঘণ্টার কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে থাকে দর্শন, অ্যানাটমি, শারীরবিদ্যা আর প্রায় ৩০০ ঘণ্টা হাতে-কলমে চর্চা। বন্দীরা সেই একই নিয়মে প্রশিক্ষিত হন, যা শেষ হলে তাঁদের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
সামাজিক প্রভাব
থাইল্যান্ডে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক নারী বন্দী রয়েছেন। অনেক নারীই দারিদ্র্য, আইনি সহায়তার অভাব কিংবা পারিবারিক চাপের কারণে দীর্ঘ সাজা ভোগ করেন। মুক্তির পর তাঁদের জন্য কাজ পাওয়াটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে অনেকে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এই বাস্তবতা বদলাতে এগিয়ে আসেন থুন্যানুন ইয়াজম। তিনি ১৫ বছর কারাগারের প্রহরী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ডিগনিটি নেটওয়ার্ক। যেখানে প্রশিক্ষণ শেষ করা সাবেক নারী বন্দীরা চাকরি পান। এটি শুরু হয়েছিল মাত্র ৩ জনকে দিয়ে। এখন চিয়াং মাই শহরে তাঁদের ৫টি কেন্দ্র রয়েছে। গত ১০ বছরে প্রায় ৫০০ সাবেক বন্দী এখানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন!
ইয়াজম বলেন, ‘নারী বন্দীদের কোথাও আগে চাকরি দিতে চাইত না। কিন্তু এখন এই উদ্যোগ তাঁদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।’
এই উদ্যোগের কারণে বর্তমানে চিয়াং মাই শুধু মন্দির, নাইট মার্কেট বা পাহাড়ি গ্রাম ঘোরার জন্য নয়। এখানকার এই কারাগারও পর্যটকদের ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা দেয়।
সূত্র: নেট জিও

ভ্রমণে গিয়ে শুধু প্রকৃতি দেখাই শেষ কথা নয়; এর সঙ্গে বিভিন্ন অঞ্চলের অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতা ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলীয় শহর চিয়াং মাই ঘুরতে গেলে এমনই কিছু আপনাকে অবাক করবে। সেখানে কারাবন্দী নারীদের হাতে থাই ম্যাসাজ নেওয়া যায়!
চিয়াং মাই শহরের পুরোনো এলাকার রাতভিথি রোডে রয়েছে চিয়াং মাই উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টার। এটি মূলত নারীদের কারাগার। তবে এই কারাগার ঘিরে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। সেখানকার নারী বন্দীরা কোনো গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত নন। মানে, যাঁরা কাউকে আঘাত বা ক্ষতি করার কারণে জেল খাটছেন না, তাঁদের নিয়ে বিশেষভাবে চালু করা হয়েছে এই থাই ম্যাসাজ প্রোগ্রাম। ভ্রমণকারীরা চাইলে এখানে এসে ম্যাসাজ নিতে পারে।
বাইরে থেকে দেখলে জায়গাটি সাধারণ স্পা সেন্টারই মনে হবে। ঝলমলে কক্ষ, সাজানো বিছানা আর নিরিবিলি পরিবেশ। কিন্তু আসল পার্থক্য হলো, সেখানে থেরাপিস্টরা কারাগারে বন্দী। তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় পেশাদার থাই ম্যাসাজ থেরাপিস্ট হওয়ার জন্য। পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হয় কারাগারের নিয়ম মেনে। তাই পাশে সব সময় একজন প্রহরী উপস্থিত থাকেন।
প্রথম অভিজ্ঞতা
জায়গাটিতে ঢুকলেই বোঝা যায়, এটি শুধুই কারাগার নয়। সেখানে অপেক্ষা করার ক্যাফে রয়েছে। অপেক্ষার পর আপনার পালা এলে সারি সারি বিছানা সাজানো আধো অন্ধকার ঘরে নেওয়া হবে। ঘরটি অন্য যেকোনো থাই ম্যাসাজ সেন্টারের মতো। ভিজিটরদের আলাদা পোশাক দেওয়া হয়। মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ বা অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিস লকারে রাখতে হয়। শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি লাগতে পারে এই ভেবে যে আপনি জেলে আছেন। কিন্তু ম্যাসাজ শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যে সেই অনুভূতি মিলিয়ে যায়। বন্দীরা সাধারণত বেশি কথা বলেন না। তাঁরা শুধু জিজ্ঞেস করেন, হাতের চাপ কেমন চান। তারপর তাঁরা পুরোপুরি ম্যাসাজ করার দিকে মনোনিবেশ করেন।

সেবার ধরন ও খরচ
চিয়াং মাই উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টারের জনপ্রিয় সেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত খোলা থাকে এই ম্যাসাজ সেন্টার। আর এটি ছুটির দিন খোলা থাকে সকাল ৯টা থেকে। এখানে আগে থেকে বুকিং সম্ভব নয়। তাই সেখানে গিয়েই রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। ছুটির দিন ও সময়সূচি জানা যায় ম্যাসাজ সেন্টারের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে।
কারাগার থেকে স্পা সার্টিফিকেট
চিয়াং মাই উইমেন্স কারেকশনাল সেন্টারের এই প্রকল্পের নাম নারি স্পা। এর লক্ষ্য নারী বন্দীদের পেশাদার থাই ম্যাসাজ প্রশিক্ষণ দেওয়া। বন্দীদের শহরের অন্য জায়গা থেকে এখানে এনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পুরো উদ্যোগটি নিয়ন্ত্রিত হয় থাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে। থাইল্যান্ডে একজন সার্টিফায়েড ম্যাসাজ থেরাপিস্ট হতে হলে প্রায় ৮০০ ঘণ্টার কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। এর মধ্যে থাকে দর্শন, অ্যানাটমি, শারীরবিদ্যা আর প্রায় ৩০০ ঘণ্টা হাতে-কলমে চর্চা। বন্দীরা সেই একই নিয়মে প্রশিক্ষিত হন, যা শেষ হলে তাঁদের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
সামাজিক প্রভাব
থাইল্যান্ডে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চসংখ্যক নারী বন্দী রয়েছেন। অনেক নারীই দারিদ্র্য, আইনি সহায়তার অভাব কিংবা পারিবারিক চাপের কারণে দীর্ঘ সাজা ভোগ করেন। মুক্তির পর তাঁদের জন্য কাজ পাওয়াটা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে অনেকে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এই বাস্তবতা বদলাতে এগিয়ে আসেন থুন্যানুন ইয়াজম। তিনি ১৫ বছর কারাগারের প্রহরী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ডিগনিটি নেটওয়ার্ক। যেখানে প্রশিক্ষণ শেষ করা সাবেক নারী বন্দীরা চাকরি পান। এটি শুরু হয়েছিল মাত্র ৩ জনকে দিয়ে। এখন চিয়াং মাই শহরে তাঁদের ৫টি কেন্দ্র রয়েছে। গত ১০ বছরে প্রায় ৫০০ সাবেক বন্দী এখানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন!
ইয়াজম বলেন, ‘নারী বন্দীদের কোথাও আগে চাকরি দিতে চাইত না। কিন্তু এখন এই উদ্যোগ তাঁদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।’
এই উদ্যোগের কারণে বর্তমানে চিয়াং মাই শুধু মন্দির, নাইট মার্কেট বা পাহাড়ি গ্রাম ঘোরার জন্য নয়। এখানকার এই কারাগারও পর্যটকদের ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা দেয়।
সূত্র: নেট জিও

তারুণ্য ধরে রাখতে মরিয়া পৃথিবীর মানুষ। কোনোভাবেই তারা বৃদ্ধ হতে চায় না। তাই বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে নিরন্তর গবেষণা করে চলেছেন পৃথিবীর খ্যাতনামা বিজ্ঞানীরা। কখনো সেসব গবেষণায় মেলে সাফল্য, আবার কখনো অপেক্ষা করতে হয় আরও ব্যাপক গবেষণা ফলের জন্য। এবারও বিজ্ঞানীরা তেমনি একটি গবেষণা করছেন চকলেটের ওপর...
২ ঘণ্টা আগে
জীবন ইতিবাচকভাবে বদলাতে জীবনধারাতেও পরিবর্তন আনা জরুরি। এই ব্যাপারটা বলিউড তারকারা কঠোরভাবে বিশ্বাস করেন। বি টাউনের আলোচিত নায়িকাদের অনেকে নতুন বছরে নিজেদের জীবনধারায় পরিবর্তন এনেছেন। তাঁরা বিশ্বাস করেন, এসব পরিবর্তন তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবনে বেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে...
৫ ঘণ্টা আগে
শীতের দুপুরে গরম-গরম ভাতের সঙ্গে কলইশাক ভাজি খেতে দারুণ লাগে। এখন এই শাকের মৌসুম। কলইশাক শুধু খেতেই সুস্বাদু নয়, এর রয়েছে বহু উপকারিতা। প্রচুর আঁশ থাকায় এটি হজমে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। তা ছাড়া এতে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় ও পেশি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। কলইশাক রান্নার মূল ব্যাপারটা...
৭ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার শরীরে প্রচুর এনার্জি থাকবে, কিন্তু সেই এনার্জি অফিসের কাজে না লাগিয়ে বিরিয়ানির দোকান খুঁজতে বেশি খরচ করবেন। ব্যবসায় উন্নতির যোগ আছে, তবে চোর থেকে সাবধান! বিশেষ করে অফিসের কলম বা সহকর্মীর টিফিন চুরির অপবাদ যেন আপনার ঘাড়ে না আসে।
১০ ঘণ্টা আগে