
স্মৃতি হাতড়ালে আজও মনে পড়ে শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা। তখন একটা গ্রীষ্মের ছুটি মনে হতো অনন্তকাল। অথচ আজ বড় হয়ে মনে হয়, এই তো সেদিন নতুন বছর শুরু হলো! তখন দেখতে দেখতে মাসগুলো ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে হাওয়া হয়ে গেল বলে মনে হয়। কেন শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের কাছে সময়ের গতিবেগ এতটা আলাদা; কখনো ভেবেছেন? সময়ের উপলব্ধি একেক মানুষের কাছে একেক রকম। গবেষক ও মনোবিজ্ঞানীরা এর পেছনে কিছু চমকপ্রদ কারণ খুঁজে পেয়েছেন।
মস্তিষ্কের ক্যামেরা
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক অ্যাড্রিয়ান বেজান এবং অনেক মনোবিজ্ঞানীর মতে, আমাদের মস্তিষ্ক অনেকটা ক্যামেরার মতো ছবি ধারণ করে। শিশুরা যখন ছোট থাকে, তাদের মস্তিষ্ক প্রতি সেকেন্ডে অনেক বেশি মেন্টাল ইমেজ বা মানসিক ছবি প্রসেস করতে পারে। শিশুরা প্রতিটি নতুন অভিজ্ঞতাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মস্তিষ্কের এই ক্ষমতা কিছুটা ধীর হয়ে যায়। প্রাপ্তবয়স্করা প্রতি সেকেন্ডে কম ছবি গ্রহণ করে। ফলে তাদের কাছে মনে হয়, সময় খুব দ্রুত বয়ে যাচ্ছে।
নতুনত্ব বনাম একঘেয়েমি
শিশুদের কাছে পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি অভিজ্ঞতাই নতুন। প্রথমবার একটি রঙিন প্রজাপতি দেখা কিংবা বৃষ্টির শব্দ শোনার মতো প্রতিটি ঘটনাই রোমাঞ্চকর। এই নতুনত্বের কারণে তাদের মস্তিষ্ক অনেক বেশি তথ্য জমা রাখতে পারে, যা সময়কে দীর্ঘায়িত করে। অন্যদিকে, বড়দের জীবনে ‘নতুন’ জিনিস খুব কমই থাকে। প্রতিদিনের রুটিন কাজ, অফিসের ব্যস্ততা এবং একই ধরনের অভিজ্ঞতার কারণে মস্তিষ্ক নতুন কোনো স্মৃতি আলাদা করে ধরে রাখে না। যখন জীবনে নতুনত্বের অভাব ঘটে, তখন সময় দ্রুত ‘পিছলে’ যায় বলে মনে হয়।
জীবন অনুপাতের তত্ত্ব
মনোবিজ্ঞানীরা একটি গাণিতিক ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বিষয়টির। ১০ বছর বয়সী একটি শিশুর কাছে তার জীবনের দুই মাস হলো তার মোট জীবনের ১ দশমিক ৬ শতাংশ। কিন্তু ৪০ বছর বয়সী মানুষের কাছে সেই একই দুই মাস হলো তাঁর জীবনের মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ, জীবনের মোট অভিজ্ঞতার তুলনায় শিশুরা সময়ের একেকটি খণ্ডকে বড় হিসেবে দেখে, যা বড়দের কাছে নিতান্তই নগণ্য।
লিনিয়ার টাইম বা রৈখিক সময়ের ধারণা
শিশুদের মধ্যে রৈখিক সময় অর্থাৎ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ধারাবাহিকতার ধারণা খুব একটা থাকে না। তারা মূলত বর্তমানের ওপর ভিত্তি করে বাঁচে। তারা ঘড়ি বা ক্যালেন্ডারের ধরাবাঁধা নিয়মে অভ্যস্ত নয়। তাদের কাছে সময় মানে হলো ক্ষুধা পাওয়া বা ঘুমানোর সময় হওয়া। বিপরীতে, বড়রা সব সময় ঘড়ি ধরে চলে এবং ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা বা অতীতের স্মৃতিতে ডুবে থাকে, ফলে বর্তমান সময়টা তাদের হাত থেকে দ্রুত ফসকে যায়।
আবেগ ও উদ্দীপনার প্রভাব
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের যখন কোনো রোমাঞ্চকর অ্যাকশন ভিডিও দেখানো হয়, তারা মনে করে, সেটি অনেক দীর্ঘ ছিল। কারণ, সেখানে অনেক উদ্দীপনা থাকে। কিন্তু বড়দের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো ঘটনা ঘটে। মজার কিছু করার সময় বড়দের কাছে মনে হয়, সময় ‘উড়ে’ যাচ্ছে। এ ছাড়া মানুষের মানসিক অবস্থাও সময়ের গতি নির্ধারণ করে। আপনি যদি খুব চাপে বা বিষণ্ন থাকেন, তবে সময় কাটতে চাইবে না। আর আনন্দে থাকলে মনে হবে, মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল।
কীভাবে ধীর করবেন সময়ের চাকা
যদি আপনি মনে করেন, জীবন খুব দ্রুত কেটে যাচ্ছে এবং আপনি একে একটু ধীর করতে চান, তবে বিজ্ঞানীদের কিছু পরামর্শ মেনে চলতে পারেন। সেগুলোর মধ্যে আছে—
নতুন কিছু করুন: প্রতিদিনের রুটিন ভেঙে নতুন কোনো শখ বা কাজে নিজেকে যুক্ত করুন। নতুন অভিজ্ঞতায় মস্তিষ্ক সজাগ থাকে এবং সময়ের অনুভূতি দীর্ঘ মনে হয়।
সক্রিয় থাকুন: শারীরিক ব্যায়াম বা হাঁটাচলা সময়ের উপলব্ধিকে ধীর করতে সাহায্য করে।
মেডিটেশন করুন: বর্তমানে বাস করার চেষ্টা করুন। শিশুদের মতো চারপাশের শব্দ, দৃশ্য এবং অনুভূতিগুলো সচেতনভাবে অনুভব করুন।
শৈশব ফিরে দেখুন: মাঝে মাঝে নিজের ভেতরের শিশুটিকে জাগিয়ে তুলুন। প্রকৃতির সান্নিধ্যে যান এবং তুচ্ছ বিষয়গুলোতে আনন্দ খুঁজে নিন।
সময় আসলে সবার জন্য সমান গতিতে চলে। কিন্তু আমাদের মস্তিষ্ক এবং অভিজ্ঞতা একেকভাবে একে ব্যাখ্যা করে। শৈশবের সেই অনন্ত দুপুর হয়তো ফিরে আসবে না। কিন্তু আমরা যদি প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার এবং বর্তমান মুহূর্তে বাঁচার চেষ্টা করি, তবে বড়বেলাকেও আমরা আরও অর্থবহ এবং দীর্ঘ স্মৃতিতে ভরিয়ে তুলতে পারি। আমাদের বয়স বাড়ছে ঠিকই, কিন্তু মনের সজীবতা বজায় রাখলে সময়ের এই ‘দ্রুত দৌড়’ হয়তো কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
সূত্র: বিবিসি, সাইকোলজি টুডে

সামনেই আসছে খরতপ্ত গরম। আর তার হাত ধরেই বাঙালির প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। উৎসবের দিনটিতে উজ্জ্বল ও সতেজ থাকতে আমরা কত কী-ই না করি! কিন্তু রোদে পোড়া ভাব, ঘাম আর তৈলাক্ত ত্বকের বিড়ম্বনায় উৎসবের আনন্দ মাটি হতে কতক্ষণ? অথচ আমাদের হাতের কাছেই, রান্নাঘরের চালের গুঁড়ার মধ্যেই লুকিয়ে আছে হাজার বছরের এশীয়
৯ ঘণ্টা আগে
সকালে অ্যালার্মের শব্দে ঘুম ভাঙল। কিন্তু এর পরেও কি আপনার বিছানা ছাড়তে ইচ্ছে করে না? অফিসে কাজের মাঝে বারবার হাই ওঠে। আর ছুটির দিনে সারা দিন ঘুমিয়েও কাটে না শরীরের ক্লান্তি। এইসব অনেকের জীবনের খুব পরিচিত দৈনন্দিন সমস্যা। আধুনিক নগরজীবনে এই ‘ক্রনিক ফ্যাটিগ’ বা দীর্ঘমেয়াদি ক্লান্তি এখন এক অলিখিত মহামা
১১ ঘণ্টা আগে
আজ আপনার পকেটের অবস্থা অনেকটা ফুটা হয়ে যাওয়া বালতির মতো। সকালবেলা পকেটভর্তি টাকা নিয়ে বেরোলেও বিকেল হতে হতে মনে হবে কোনো অদৃশ্য দানবকে সব বিলিয়ে দিয়েছেন। শপিং মলে ঢুকলে ক্রেডিট কার্ডটি মানিব্যাগ থেকে উঁকি দিয়ে করুণ সুরে বলবে—‘আর মেরো না ভাই, এবার আমি হার্ট অ্যাটাক করব!’
১২ ঘণ্টা আগে
ওজন কমানোর কথা ভাবলেই আমাদের মাথায় আসে রং-বেরঙের সালাদ, বিদেশি ফল আর নিত্যনতুন ডায়েটের লম্বা তালিকা। আমরা ভাবি, খাবারে যত বৈচিত্র্য থাকবে, ডায়েট তত আকর্ষণীয় হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা এই চিরচেনা ধারণাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, ওজন কমানোর রহস্য হয়তো নতুন কিছুতে নয়; বরং একই খ
১৩ ঘণ্টা আগে