
সঠিক সময়ে ‘না’ বলতে পারাটা ব্যক্তিত্বের বড় সক্ষমতা। এটি আমাদের সমাজে এখনো শেখানো হয় না। অন্যদিকে সবকিছুতে মানিয়ে নেওয়া বা ‘হ্যাঁ’-তে সায় দেওয়াকে আমরা ভদ্রতা বলে গণ্য করি। কিন্তু আসলে যা কিছু আপনার রুচিবোধ আরর স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরে, যে ধরনের আচরণে বা ব্যবহারে আপনি সম্মানিতবোধ করেন না, তাকে শক্তভাবে ‘না’ বলতে পারাটা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পত্রিকা খুললেই আজকাল শিশু নির্যাতন এবং শিশুদের সঙ্গে অনৈতিক আচরণের বিভিন্ন ঘটনা চোখে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে অবুঝ শিশুটি পরিবারেই যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। হয়তো সেই আত্মীয় বা পরিচিত মানুষটি পরিবারের সব আনন্দ-উদ্যাপনের সঙ্গী, হয়তো খুদে সদস্যকে উপহারও দেন। কিন্তু এসবের পরে যখন শিশুটিকে সেই মানুষের শারীরিক স্পর্শ নির্দিষ্ট সীমা পেরিয়ে যায়, তখন যেন আমরা বিশ্বাস করতে পারি না, মানুষটি এমন কাজ করতে পারে! কিন্তু এখানে প্রথম শিক্ষাটা অভিভাবককে নিতে হবে। তাঁকে বিশ্বাস করতে হবে, পরিবার, পরিজন অথবা বাইরের যেকোনো মানুষের হাতে তাঁর সন্তান জীবনের যেকোনো সময় অশোভন আচরণের শিকার হতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে, সন্তানের কথা বিশ্বাস করতে হবে, ঘটনা কী ঘটেছে, তা নিখুঁতভাবে শুনতে হবে। একই সঙ্গে কোনো স্পর্শে শিশু বা সন্তান যদি অস্বস্তি কিংবা খারাপ বোধ করে, তাহলে সেখানে যে সরাসরি ‘না’ বলা যায় বা ‘না’ বলতে হয়, সেটা শিশুকে বুঝিয়ে বলতে হবে।
হয়তো আপনি লো-কার্ব ডায়েট করছেন। কিন্তু রোজই আপনাকে বাড়তি ভাত প্লেটে তুলে দিচ্ছেন পরিবারের কেউ। এমন হলে প্রথমে বুঝিয়ে বলুন, কেন আপনি ভাত খেতে আগ্রহী নন। না বুঝতে পারলে বলুন, ‘আমি চাচ্ছি না বাড়তি ভাত খেতে।’ মনে রাখবেন, আমরা যে কাজটি ঘরে করতে পারি না, সেটা বাইরেও করা সম্ভব নয়। তাই ঘর থেকে প্রয়োজনে ‘না’ বলা শিখুন।
সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় আমরা অনেক সূক্ষ্ম ইঙ্গিত দেখি। তাতে বোঝা যায়, কেউ একজন নির্যাতিত। কিন্তু তিনি মুখ ফুটে তার প্রতিবাদ করতে পারেন না বা সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না। যদিও সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা কেউই কোনো সম্পর্ক শুরু করি না। তাই ‘বেরিয়ে আসা’ সব সময় সমাধান নয়। সম্পর্কে থেকে নিজের কথাগুলো বলতে পারাই বেশি জরুরি। সম্পর্কের শুরুতে একধরনের ফ্যান্টাসি কাজ করে। আমরা ধরে নিই, এই সম্পর্ক চিরন্তন। হানিমুন পিরিয়ড পেরিয়ে গেলে, একে অপরের যে বিষয়গুলো খারাপ লাগে, সেগুলো প্রকাশ্যে আসতে থাকে। কিন্তু সেগুলোর সঙ্গে বসবাস করা কিংবা অন্তত সেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে থাকি আমরা। সঙ্গীর যেকোনো কথাবার্তাই অন্যজনের কাছে অবান্তর মনে হতে পারে। আরও মনে হতে পারে, তিনি নিজেই বেশি জানেন। এ ক্ষেত্রে অন্যজন ভাবেন, ‘আমি কি সত্যিই কম জানি?’ কিন্তু আপনি কোনো বিষয়ে কম জানলে বা ভুল জানলেও তো নিজের মতামত ব্যক্ত করতে পারেন। বলার অধিকার এবং নিজের মত ব্যক্ত করার অধিকার নিজে বুঝে নেওয়া জরুরি। এমনকি শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাই। অপর মানুষটি চাচ্ছেন, কিন্তু আপনার এখন ইচ্ছা করছে না। নিজের কথাটি বলুন, ‘আমি এখন চাচ্ছি না।’ এতে ভুল নেই।
কাজের জায়গায় ঊর্ধ্বতন সহকর্মী বা বসের বিভিন্ন আচরণে ‘না’ বলতে না পারার বা প্রতিবাদ করতে না পারার কারণ হলো, চাকরি বাঁচানোর দায়। সাধারণত কাজের জায়গায় এ ধরনের হেনস্তার শিকার নারীরাই বেশি হন। সে ক্ষেত্রে যদি পরিস্থিতি বা মন্তব্য সমঝোতার ঊর্ধ্বে হয়, তখন প্রতিবাদ করতেই হবে।
এ যেন রোজকার সমস্যা। ‘তোর ওজন এতে বেড়েছে?’ বা ‘শুকিয়ে পাটকাঠি হয়ে গেছ!’—এ ধরনের মন্তব্য কাছের মানুষেরা অনেক সময় ভালোবাসা থেকে করেন। তবে সেটা আপনি বুঝতেই পারবেন। কিন্তু ক্রমাগত যদি কেউ চেহারা, ওজন বা গায়ের রং নিয়ে মন্তব্য করতে থাকেন, ভরা মজলিসে হাসিঠাট্টা করেন, তাহলে বিষয়টি অপমানজক। সে ক্ষেত্রে স্পষ্ট করে বলুন, ‘এ বিষয়ে কথা বলতে এবং শুনতে আপনি আগ্রহী নন।’ এভাবে একটা পরিষ্কার সীমারেখা টেনে নিন।
মোটকথা, নিজের অধিকার, নিজের মতামতকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে হবে। অন্যায় বা অবাঞ্ছিত আচরণের প্রতিবাদ করা যেমন জরুরি, জায়গা বুঝে প্রতিবাদের বদলে আত্মরক্ষাও জরুরি।
লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বিডি

কর্টিসল ডিটক্স। ভাবছেন, এটা আবার কী? আর আদৌ কি কোনো হরমোন ডিটক্স করা যায়? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তো বলছেন, যায়। আপনার শরীর অতিরিক্ত পরিমাণে কর্টিসল তৈরি করছে কি না তা কীভাবে নির্ণয় করবেন এবং এই স্ট্রেস হরমোনের কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সমাধান কী করে করবেন, জেনে নিন...
১ ঘণ্টা আগে
ধরুন, ঘড়িতে বাজে রাত ২টা। পুরো দুনিয়া গভীর ঘুমে মগ্ন আর আপনি বিছানায় শুয়ে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছেন; কিংবা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিংয়ের বিশ্ব রেকর্ড গড়ার চেষ্টা করছেন। যাঁরা রাতে ঘুমাতে পারেন না, কিন্তু সকালে ঠিকই অফিস বা ক্লাসের জন্য সময়মতো উঠতে অ্যালার্ম দিতে হয়,
৭ ঘণ্টা আগে
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমাদের চারপাশে রয়েছে অবিরাম তথ্যের স্রোত, দীর্ঘ স্ক্রিন-টাইম আর নানামুখী ব্যস্ততা। এখন মানুষের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বা অ্যাটেনশন স্প্যান আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মন শান্ত করতে এবং মনোযোগের ক্ষমতা বাড়াতে মানুষ নানান উপায় খুঁজছে।
৯ ঘণ্টা আগে
নিয়ম মেনে রোজই বয়স বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বয়সের ছাপ শরীরে বা মুখে কত দ্রুত পড়বে, তা অনেকটাই আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এই ধারণাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে এখন দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে স্লো এজিং। এতে ত্বকের বয়স বাড়ে, কিন্তু ধীরে। না, বিজ্ঞাপন দেখে নামী ব্র্যান্ডের দামি অ্যান্টি-এজিং ক্রিম মাখা...
১১ ঘণ্টা আগে