Ajker Patrika

মনোযোগ কমে গেছে? জ্বলন্ত মোমবাতি দিতে পারে সমাধান

ফিচার ডেস্ক
মনোযোগ কমে গেছে? জ্বলন্ত মোমবাতি দিতে পারে সমাধান
ছবি: পেক্সেলস

তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমাদের চারপাশে রয়েছে অবিরাম তথ্যের স্রোত, দীর্ঘ স্ক্রিন-টাইম আর নানামুখী ব্যস্ততা। এখন মানুষের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বা অ্যাটেনশন স্প্যান আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মন শান্ত করতে এবং মনোযোগের ক্ষমতা বাড়াতে মানুষ নানান উপায় খুঁজছে। এখানেই জ্বলন্ত মোমবাতি দিতে পারে সমাধান। প্রাচীন ভারতের হিমালয়ান যোগ এবং সিদ্ধ শাস্ত্রের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও সহজ পদ্ধতি হলো ত্রাটক বা ক্যান্ডেল মেডিটেশন। একটি জ্বলন্ত মোমবাতির শিখার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার এই অভ্যাস মন স্থির করতে এবং সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে দারুণ সাহায্য করে।

ত্রাটক বা ক্যান্ডেল মেডিটেশন কী

সংস্কৃত ‘ত্রাটক’ শব্দের অর্থ হলো একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা বা পর্যবেক্ষণ করা। ১৫ শতকের প্রাচীন যোগশাস্ত্রের নির্দেশিকা ‘হঠযোগ প্রদীপিকা’ এবং ‘ঘেরন্ড সংহিতা’-তে এই অভ্যাসের উল্লেখ রয়েছে। হঠযোগ প্রদীপিকা অনুযায়ী, এটি শরীর ও মন শুদ্ধ করার এবং প্রাণায়াম ও ধ্যানের জন্য প্রস্তুত করার ছয়টি পদ্ধতির একটি। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের পঞ্চভূত বা পাঁচ উপাদান অর্থাৎ আকাশ, বায়ু, আগুন, জল ও পৃথিবী তত্ত্বের সঙ্গেও এটি সম্পর্কিত। আয়ুর্বেদ অনুসারে, অগ্নি উপাদানটি মানুষের মস্তিষ্ক এবং প্রক্রিয়াকরণের ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত। মোমবাতির শিখার মাধ্যমে অগ্নির উপাদান জাগ্রত করে মনের স্পষ্টতা এবং একাগ্রতা বাড়ানো যায়।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও ত্রাটকের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা

মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি: ত্রাটক মানুষের স্মৃতি, স্থানিক মনোযোগ এবং মানসিক নমনীয়তা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি প্রবীণদের জ্ঞানীয় ক্ষমতা সচল রাখতেও বেশ কার্যকরী।

মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি: উদ্বেগ কমাতে ত্রাটক সাহায্য করে। এই ধ্যানে চোখ ও মন একটি নির্দিষ্ট কাজে ব্যস্ত থাকে। ফলে মন বাড়তি দুশ্চিন্তা করা বন্ধ করে দেয়।

ভালো ঘুম: টানা ১০ দিন দৈনিক ৪৫ মিনিট করে ত্রাটক অনুশীলন করলে অনিদ্রার তীব্রতা কমে এবং ঘুমের মান ভালো হয়।

চোখের ওপর প্রভাব: গ্লকোমা রোগীদের চোখের অভ্যন্তরীণ চাপ কমাতে ত্রাটক সাহায্য করতে পারে। তবে এটি মায়োপিয়া বা দূরবদ্ধতার চিকিৎসায় কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনে না।

সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা

ক্যান্ডেল মেডিটেশন বেশির ভাগ মানুষের জন্য নিরাপদ হলেও কিছু ক্ষেত্রে এটি করা নিষেধ। সেগুলো হলো—

মাদক বা অ্যালকোহল গ্রহণের পর এটি করা নিষেধ।

মৃগী রোগ বা সেজারের সমস্যা থাকলে করা যাবে না।

গুরুতর কোনো চোখের রোগ বা সিজোফ্রেনিয়ার মতো মানসিক অবস্থা থাকলে এটি করবেন না।

ছবি: পেক্সেলস
ছবি: পেক্সেলস

কীভাবে করবেন ক্যান্ডেল মেডিটেশন

সকালের প্রথম ভাগ এই ধ্যানের জন্য সবচেয়ে ভালো। একটি অন্ধকার এবং শান্ত ঘর বেছে নিন, যেখানে কোনো মনোযোগ বিঘ্নকারী উপাদান থাকবে না।

পিঠ সোজা করে আরামদায়ক আসনে বসুন। জ্বলন্ত মোমবাতিটি ঠিক আপনার চোখের সমান্তরালে রাখুন, যেন ঘাড়ে চাপ না পড়ে।

শুরুতে ১ মিনিটের টাইমার সেট করুন। চোখের পাতা যতটা সম্ভব কম ফেলে মোমবাতির শিখার দিকে তাকিয়ে থাকুন।

ধ্যানের সময় মাথায় কোনো চিন্তা এলে তাকে বিচার না করে মোমবাতির আগুনে সঁপে দেওয়ার কথা ভাবুন। চোখ দিয়ে পানি পড়া পর্যন্ত এটি করা যায়, যা চোখ ও মনের ময়লা পরিষ্কার করে বলে মনে করা হয়।

ধ্যান শেষে দুই হাত কাপের মতো করে চোখের ওপর ধরে আলতো ম্যাসাজ করুন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোমবাতিটি নিভিয়ে দিন।

ত্রাটক অনুশীলনের জন্য শুধু একটি মোমবাতি, একটি টেবিল এবং শান্ত ঘরের প্রয়োজন। চাইলে মোমবাতির বদলে সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের প্রথম ও শেষ ৫ মিনিটের আলোকেও মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বয়সনির্বিশেষে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ব্যস্ত পেশাজীবী এবং প্রবীণ—সবার জন্যই এটি মনোযোগ ধরে রাখার এক অনন্য প্রাচীন কৌশল।

সূত্র: হেলথ লাইন, হেলথ শর্টস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত