Ajker Patrika

জাতীয় কন্যা শিশু দিবস

পাঁচ বছর হওয়ার আগেই শিশুকে যে বিষয়গুলো জানানো জরুরি

অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া
পাঁচ বছর হওয়ার আগেই শিশুকে যে বিষয়গুলো জানানো জরুরি
শিশুর অক্ষরজ্ঞান হওয়ার আগেই গুড টাচ, ব্যাড টাচ সম্পর্কে জানানো উচিত এবং সেটা ৫ বছর বয়সের আগেই। প্রতীকী ছবি: পেক্সেলস

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর, জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। ২০০৩ সাল থেকে কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দিনটি পালিত হচ্ছে। দিনটির এ বছরের প্রতিপাদ্য, ‘কন্যাশিশুর স্বপ্নে গড়ি আগামীর বাংলাদেশ’। কিন্তু চোখে স্বপ্ন থাকলেও শরীর ও মন নিরাপদ না হলে সে কি স্বপ্ন দেখার সাহস পাবে? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুর অক্ষরজ্ঞান হওয়ার আগেই গুড টাচ, ব্যাড টাচ সম্পর্কে জানানো উচিত এবং সেটা ৫ বছর বয়সের আগেই।

শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২ থেকে ৩ বছর বয়সে শরীরের অঙ্গগুলোর সঠিক নাম শেখানো জরুরি। ছবি: পেক্সেলস
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২ থেকে ৩ বছর বয়সে শরীরের অঙ্গগুলোর সঠিক নাম শেখানো জরুরি। ছবি: পেক্সেলস

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২ থেকে ৩ বছর বয়সে শরীরের অঙ্গগুলোর সঠিক নাম শেখানো জরুরি। ৪ থেকে ৫ বছরে শিশু ভালো ও খারাপ স্পর্শ বুঝতে শুরু করে। ৫ বছরের কন্যাশিশুকে গুড টাচ ও ব্যাড টাচের সহজ পাঠ দেওয়া তাই জরুরি। তাকে বোঝাতে হবে, ‘তোমার শরীর তোমার নিজের।’ মা-বাবার আদর, দাদা-দাদির স্নেহ—ভালো লাগলে গুড টাচ। ব্যথা, ভয়, লজ্জা বা অস্বস্তি হলে—ব্যাড টাচ। গোপন অঙ্গে কেউ স্পর্শ করলে সঙ্গে সঙ্গে ‘না’ বলবে, সরে আসবে, বিশ্বস্ত কাউকে জানাবে। কেউ গোপন অঙ্গ দেখতে বা স্পর্শ করতে চাইলে, ছবি তুলতে বললে বা ‘কাউকে বলবে না’ বললে—কখনোই সে কথা শোনা যাবে না। পরিচিত কেউ এমন আচরণ করলেও যে অকপটে ‘না’ বলতে হবে, সেটা শিশুকে বুঝিয়ে বলা জরুরি। প্রথমে না বলবে, তারপর দ্রুত সেখান থেকে সরে যাবে এবং বাবা-মাকে জানাবে। এটাই সহজ সূত্র।

সীমানা নির্ধারণ করতে দিন

শিশু যদি নিজের ইচ্ছায় কারও কোলে যেতে না চায়, তাহলে জোর করবেন না। ছবি: পেক্সেলস
শিশু যদি নিজের ইচ্ছায় কারও কোলে যেতে না চায়, তাহলে জোর করবেন না। ছবি: পেক্সেলস

অনেক সময় সন্তান কোনো আত্মীয়ের কোলে যেতে না চাইলে বাবা-মা জোর করে কোলে তুলে দেন বা শিশুকে তাঁর কাছে যেতে বাধ্য করেন। এটা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যত নিকটাত্মীয়ই হোক না কেন, শিশু যদি নিজের ইচ্ছায় কারও কোলে যেতে না চায়, তাহলে জোর করবেন না। তার শরীর তার নিজের—কে স্পর্শ করবে, কে করবে না, ঠিক করার অধিকার যে তারই, তা একেবারে ছোট থেকে অনুভব করতে শেখানো জরুরি। এতে করে বাস্তব ঘটনা নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয় না। চিকিৎসার প্রয়োজন ছাড়া কেউ পোশাক খুলতে বললে তা যে করা যাবে না, সেটা জানান আপনার কন্যাশিশুকে।

শিশু যেন সহজে বাবা-মাকে জানাতে পারে, সেই পথ তৈরি করে দিন

অধিকাংশ সময় একটি শিশু জীবনে প্রথম যৌন হয়রানির শিকার হয় নিকটাত্মীয়র কাছে। কিন্তু সেটা সে ভয়ে পরিবারের কাউকে জানাতে পারে না। জানালেও বেশির ভাগ সময় পরিবার বিশ্বাস করে না বা চুপ করে যেতে বলে। ফলে দিনের পর দিন সে খারাপ স্পর্শের শিকার হতে থাকে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতি হলেও জানানোর সাহস পায় না। তাই বাবা-মায়েরই আগল ভাঙতে হবে। শিশুকে বলতে হবে, খারাপ স্পর্শ বা ভয় দেখালে লুকাবে না; মা-বাবা বা বিশ্বস্ত কাউকে জানাবে। কেউ নিষেধ করলে বা হুমকি দিলেও জানাবে।

অপরিচিতদের থেকে সতর্কতা

অপরিচিত কারও সঙ্গে কোথাও যাবে না; কারও দেওয়া খাবার বা উপহার নেবে না। এই কথাগুলো খোলামেলা আলোচনা করতে হবে। মা-বাবা প্রতিদিন শিশুর সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলবেন, যাতে সে অস্বস্তি বা ভয় প্রকাশ করতে পারে। খোলা আলোচনা ছাড়া সুরক্ষা সম্ভব নয়।

জরুরি যোগাযোগের তথ্য

শিশুকে নিজের পুরো নাম এবং মা-বাবার পুরো নাম মুখস্থ করান। অন্তত একজন অভিভাবকের সচল মোবাইল ফোন নম্বর এবং বাসার ঠিকানা বা এলাকার নাম শিশুকে মনে রাখতে সাহায্য করুন। বাইরে কোনোভাবে সমস্যায় পড়লে কীভাবে বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে, সেটাও জানান।

লেখক: চিকিৎসক, কাউন্সেলর ও সাইকোথেরাপি প্র‍্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বিডি

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত