
নিয়ম মেনে রোজই বয়স বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বয়সের ছাপ শরীরে বা মুখে কত দ্রুত পড়বে, তা অনেকটাই আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। এই ধারণাকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে এখন দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে স্লো এজিং। এতে ত্বকের বয়স বাড়ে, কিন্তু ধীরে। না, বিজ্ঞাপন দেখে নামী ব্র্যান্ডের দামি অ্যান্টি-এজিং ক্রিম মাখা বা কৃত্রিম উপায়ে ত্বক টানটান রাখার বিষয়ে কথা একেবারেই হচ্ছে না। সবটাই হবে প্রাকৃতিক উপায়ে। শুধু মানতে হবে কিছু নিয়ম।
সহজ কথায়, স্লো এজিং হলো এমন এক জীবনধারা, যা আমাদের কোষের ক্ষয় রোধ করে বার্ধক্যের গতিকে কমিয়ে দেয়। আধুনিক জীবনের অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, নিদ্রাহীনতা এবং দূষণের কারণে আমাদের শরীরের বায়োলজিক্যাল এজ বা জৈবিক বয়স প্রকৃত বয়সের চেয়ে বেড়ে যায়। ফলে ৩০ বছর বয়সে অনেককে ৩৫ বা ৪০ বছরের মানুষের মতো দেখায়। এই অকালবার্ধক্য রুখতেই কাজ করে স্লো এজিং।

স্লো এজিংয়ের মূল উপাদান লুকিয়ে রয়েছে আমাদের রান্নাঘরে এবং দৈনন্দিন অভ্যাসে। চিকিৎসকদের মতে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট-সমৃদ্ধ খাবার কোষের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায়। এ জন্য রঙিন শাকসবজি, বেরি জাতীয় ফল, গ্রিন টি, বাদাম এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত মাছ নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত। পাশাপাশি, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও অতিরিক্ত চিনি বর্জন করা জরুরি। কারণ, চিনি কোলাজেন ভেঙে ত্বকে বলিরেখা স্পষ্ট করে তোলে।
বাহ্যিক সুরক্ষায় স্লো এজিংয়ের বড় অস্ত্র হলো সানস্ক্রিন। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। একে বলা হয় ফটো এজিং। রোদ হোক বা মেঘলা দিন, প্রতিদিন এসপিএফ ৩০ যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া রেটিনল, ভিটামিন সি এবং হায়ালুরনিক অ্যাসিডসমৃদ্ধ স্কিন কেয়ার সেরাম ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন ধরে রাখতে সাহায্য করে।
দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা ত্বক দ্রুত বুড়িয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী। তাই ধ্যান, যোগব্যায়াম বা পছন্দের কাজের মাধ্যমে মন শান্ত রাখা স্লো এজিংয়ের বড় অংশ। একই সঙ্গে প্রয়োজন প্রতি রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার গভীর ঘুম। ঘুমের সময় আমাদের শরীরের কোষগুলো নিজে থেকে মেরামত বা হিলিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।
নিয়মিত শরীরচর্চা করলে শরীরে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, যা ত্বকে অক্সিজেনের সরবরাহ নিশ্চিত করে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, সাইকেল চালানো বা হালকা ব্যায়াম সেলুলার স্তরে বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া ধীর করে দেয়।
বয়সের ছাপ রুখতে সকাল ও রাতের রূপচর্চায় কিছুটা ভিন্নতা আনা প্রয়োজন। এ জন্য রুটিন মেনে চলতে হবে।
দিনের রুটিন
ক্লিনজিং: মৃদু বা জেন্টল ফেসওয়াশ দিয়ে ত্বক পরিষ্কার করুন।
ভিটামিন সি সেরাম: ত্বক ফ্রি র্যাডিক্যাল এবং দূষণ থেকে বাঁচাতে এটি ব্যবহার করুন।
ময়শ্চারাইজার: ত্বকের ধরন অনুযায়ী ভালো একটি হাইড্রেটিং ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
সানস্ক্রিন: রোদের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোলাজেন ভেঙে ফেলে দ্রুত বুড়িয়ে দেয়। তাই প্রতিদিন এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মাত্রার সানস্ক্রিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
ডাবল ক্লিনজিং: সারা দিনের মেকআপ ও সানস্ক্রিন তুলতে প্রথমে অয়েল ক্লিনজার ও পরে ওয়াটার-বেসড ফেসওয়াশ ব্যবহার করুন।
রেটিনল সেরাম: রাতে ত্বক মেরামতের কাজ ভালো হয়। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ রাত রেটিনল সেরাম ব্যবহার করুন। গর্ভবতী নারীদের রেটিনল ব্যবহার ঠিক হবে না।
নাইট ক্রিম বা ময়শ্চারাইজার: রেটিনল ব্যবহারের পর ত্বক শুষ্ক হতে পারে। তাই একটি ভারী ও পুষ্টিকর নাইট ক্রিম ব্যবহার করুন।
সূত্র: ইটিং ওয়েল, আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি ও বায়োজিনা
ছবি: পেক্সেলস

কর্টিসল ডিটক্স। ভাবছেন, এটা আবার কী? আর আদৌ কি কোনো হরমোন ডিটক্স করা যায়? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা তো বলছেন, যায়। আপনার শরীর অতিরিক্ত পরিমাণে কর্টিসল তৈরি করছে কি না তা কীভাবে নির্ণয় করবেন এবং এই স্ট্রেস হরমোনের কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলো সমাধান কী করে করবেন, জেনে নিন...
১ ঘণ্টা আগে
ধরুন, ঘড়িতে বাজে রাত ২টা। পুরো দুনিয়া গভীর ঘুমে মগ্ন আর আপনি বিছানায় শুয়ে সিলিং ফ্যানের দিকে তাকিয়ে আছেন; কিংবা মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিংয়ের বিশ্ব রেকর্ড গড়ার চেষ্টা করছেন। যাঁরা রাতে ঘুমাতে পারেন না, কিন্তু সকালে ঠিকই অফিস বা ক্লাসের জন্য সময়মতো উঠতে অ্যালার্ম দিতে হয়,
৭ ঘণ্টা আগে
তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমাদের চারপাশে রয়েছে অবিরাম তথ্যের স্রোত, দীর্ঘ স্ক্রিন-টাইম আর নানামুখী ব্যস্ততা। এখন মানুষের মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতা বা অ্যাটেনশন স্প্যান আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে মন শান্ত করতে এবং মনোযোগের ক্ষমতা বাড়াতে মানুষ নানান উপায় খুঁজছে।
৯ ঘণ্টা আগে
সমাজে একমাত্র সন্তানদের নিয়ে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ভাইবোন না থাকায় তারা একাকী, স্বার্থপর, আদুরে, জেদি কিংবা সামাজিকভাবে অদক্ষ হয়ে ওঠে। কিন্তু দীর্ঘদিনের গবেষণা বলছে, এসব ধারণার পক্ষে শক্ত কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
১ দিন আগে