
জাপান পৃথিবীর এমন একটি দেশ, ভ্রমণপ্রেমীদের তালিকায় যা প্রায় সব সময় শীর্ষে থাকে। পূর্ব এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্র একই সঙ্গে প্রাচীন ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আধুনিক প্রযুক্তির এক অসাধারণ সমন্বয়। শত শত বছরের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার ধরে রেখেও জাপান বিশ্বের অন্যতম উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জাপানকে অনেকেই শুধু সুস্বাদু খাবার, অ্যানিমে সংস্কৃতি বা প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য চেনেন। তবে দেশটির জীবনধারা, সামাজিক নিয়ম, প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং দৈনন্দিন অভ্যাসগুলো জানলে জাপানকে আরও ভিন্নভাবে আবিষ্কার করা যায়।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বিশ্বে অনন্য জাপান
রাজধানী টোকিওর মতো ব্যস্ত মেগাসিটিতেও রাস্তাঘাট প্রায় ময়লামুক্ত থাকে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, অনেক জায়গায় প্রকাশ্যে ডাস্টবিন খুব কম দেখা যায়। জাপানিদের বিশ্বাস, নিজের ময়লা নিজেই পরিষ্কার রাখা নাগরিক দায়িত্ব। স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও ছোটবেলা থেকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শেখানো হয়।

বিশ্বের জনবহুল শহর টোকিও
টোকিও বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষের বাস এই বিশাল নগরীতে। অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও শহরের পরিবহনব্যবস্থা ও নগরপরিকল্পনা অত্যন্ত উন্নত ও সুসংগঠিত।
বিশ্বের অন্যতম বড় মাছের বাজার
টোকিওর সুকিজি মাছের বাজার দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক খাদ্য বাজার হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রতিদিন হাজার টনের বেশি মাছ বিক্রি হতো সেখানে। এ বাজারের, বিশেষ করে টুনা মাছের নিলাম বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত। ২০১৮ সালে বাজারের বড় অংশ টয়োসু এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হলেও সুকিজির বাইরের বাজার এখনো পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ।
প্রায় পুরো দেশ একই জাতিগোষ্ঠীর
জাপানের প্রায় ৯৮ শতাংশ জনগোষ্ঠী জাপানি। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার প্রবণতার কারণে দেশটি তুলনামূলকভাবে সাংস্কৃতিকভাবে সমজাতীয়।
ক্যানজাত খাবারের রেস্টুরেন্টও রয়েছে
জাপানে এমন অনেক রেস্টুরেন্ট রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের ক্যানজাত খাবার পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি জাপানে অসংখ্য ভেন্ডিং মেশিন রয়েছে, যেগুলোতে পানীয়, খাবার এমনকি বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসও পাওয়া যায়।
দীর্ঘায়ুর জন্য পরিচিত জাপান
জাপান বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘায়ু জনগোষ্ঠীর দেশ। দেশটির মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৮৪ বছর। গবেষকদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মাছ ও সবজি বেশি খাওয়া, কম চর্বিযুক্ত খাবার এবং নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন দীর্ঘায়ুর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শতাধিক সক্রিয় আগ্নেয়গিরি
জাপানে প্রায় ১১০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। আগ্নেয়গিরি দেশটির ভূপ্রকৃতি ও পর্যটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বছরে দেড় হাজারের বেশি ভূমিকম্প
ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় জাপানে প্রতিবছর দেড় হাজারের বেশি ভূমিকম্প হয়। অধিকাংশই ছোট হলেও বড় ভূমিকম্পের জন্য দেশটি সব সময় প্রস্তুত থাকে।
দেশের দুই-তৃতীয়াংশ বনাঞ্চল
জাপানের প্রায় ৬৭ শতাংশ এলাকা বনাঞ্চল। ফলে শহুরে উন্নয়ন থাকলেও প্রকৃতির উপস্থিতি দেশটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
পানির নিচে ডাকবাক্স
জাপানের সুসামি শহরে প্রায় ৩০ ফুট পানির নিচে একটি ডাকবাক্স রয়েছে। এটি বিশ্বের গভীর পানির নিচের ডাকবাক্স হিসেবে পরিচিত। এটি পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ।
সহজে না গলা আইসক্রিম
জাপানে এমন আইসক্রিম তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ আইসক্রিমের তুলনায় অনেক দেরিতে গলে। এটি মূলত খাদ্যবিজ্ঞান গবেষণার একটি উদ্ভাবন।
একসময় বিদেশিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল
১৭ শতক থেকে জাপান প্রায় ২০০ বছর বিদেশিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। এই সময় দেশটি নিজস্ব সংস্কৃতি ও সামাজিক কাঠামো সংরক্ষণে মনোযোগ দেয়।
ভবনের ভেতর দিয়ে মহাসড়ক
ওসাকায় একটি মহাসড়ক ভবনের মাঝ দিয়ে চলে গেছে। সেখানে আধুনিক স্থাপত্য প্রযুক্তির কারণে ভবনের ভেতরে শব্দ শোনা যায় না।
দীর্ঘ উপকূল
জাপানের উপকূলরেখা বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ। উপকূলজুড়ে রয়েছে মৎস্যবন্দর, পাহাড়ি ক্লিফ ও পর্যটন এলাকা।
ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য
জাপানের সংস্কৃতিতে মাথা নিচু করে সম্মান জানানো, বসন্তে চেরি ফুল উৎসব, চা অনুষ্ঠানের মতো ঐতিহ্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ। অতিথিকে সম্মান দেখাতে উপহার দেওয়ার সংস্কৃতিও জনপ্রিয় দেশটিতে। বাড়িতে ঢোকার আগে জুতা খুলে রাখা সামাজিক নিয়ম হিসেবে মানা হয় সেখানে।
প্রায় দুই হাজার বছরের ইতিহাস ধারণ করেও জাপান আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বিশ্বে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও প্রযুক্তির অনন্য সমন্বয় জাপানকে বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় দেশ হিসেবে পরিচিত করেছে।
সূত্র: দ্য প্ল্যানেট ডি

ডিজিটাল ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম অ্যাগোডা তাদের ‘২০২৬ ট্রাভেল আউটলুক রিপোর্ট’-এ এশিয়ার ভোজনরসিক পর্যটকদের পছন্দের গন্তব্যের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এশিয়ার ভোজনরসিক পর্যটকদের কাছে ভ্রমণের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠছে স্থানীয় খাবার ও খাদ্যসংস্কৃতি।
৮ ঘণ্টা আগে
বর্তমানে আঁশ বা ফাইবার বলতেই আমাদের মাথায় প্রথমে আসে ওটমিলের নাম। প্রতি কাপ ওটমিলে প্রায় ৪ গ্রাম আঁশ থাকে। তবে ওটমিলই একমাত্র আঁশের উৎস নয়। এমন অনেক সাধারণ খাবার আছে, যা ফাইবার বা আঁশের দিক থেকে ওটমিলকেও ছাড়িয়ে যায়। তাই যাঁরা ওটমিল খেতে পারেন না, তাঁদের জন্য এ খাবারগুলো সম্পর্কে জানা বেশি জরুরি।
৯ ঘণ্টা আগে
সচরাচর আমরা ভদ্রতার সমার্থক শব্দ হিসেবে ‘দয়ালু’ বা ‘উদার’ শব্দ দুটি ব্যবহার করি। সমাজ আমাদের অনেক কিছুই শেখায়। অনেক নিয়মের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমরা মনে করি, কাউকে ‘ধন্যবাদ’ বলা বা কেউ বিপদ পড়লে তাকে ‘শুনে খুব খারাপ লাগল’ বলাটাই ভালো মানুষের লক্ষণ।
১০ ঘণ্টা আগে
পথে আসতে-যেতে পেয়ারা চোখে পড়ছে এখন। প্রায়ই হয়তো ফেরার পথে কিনে নিয়ে আসেন বাড়িতে। এবার তৈরি করে ফেলুন পেয়ারার টক-মিষ্টি চাটনি। আপনাদের জন্য রেসিপি ও ছবি পাঠিয়েছেন আলিফ’স ডেলিকেট ডিশেজের শেফ আলিফ রিফাত...
১৪ ঘণ্টা আগে