চাকরির বাজার এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কঠিন। প্রতিদিন কত তরুণ আবেদন পাঠান, অপেক্ষায় থাকেন। তবে খুব কম তরুণই ডাক পান, বাকিরা হন প্রত্যাখ্যাত। পথ বন্ধুর, তবু থেমে যাওয়ার কারণ নেই। সঠিক কৌশল এবং মনে জোর থাকলে এই পথেও আলো মেলে। চাকরিপ্রত্যাশী তরুণদের জন্য রইল তেমনই কয়েকটি জরুরি পরামর্শ।
হাস্যকর হওয়ার ভয় ঝেড়ে ফেলুন
নিজের ভাগ্য নিজের হাতে গড়তে হয়। তাই মানুষের কাছে যান, নানা ধরনের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হোন। অনলাইনে তুলে ধরুন নিজের কাজ, নিজের ভাবনা। অন্যের চোখে হাস্যকর হওয়ার ভয়কে প্রশ্রয় না দিয়ে বড় কিছু অর্জনের চেষ্টা করুন। পথ কঠিন, সন্দেহ নেই। তবু সফল হওয়া সম্ভব। কেউ উল্টো কথা শোনালে কান দেবেন না।
যা আপনাকে ভালো রাখে তা-ই করুন
ধরুন, অনেক দিন বেকার আছেন। হাতে নেই সঞ্চয়। একদিকে অর্থের দুশ্চিন্তা, অন্যদিকে একের পর এক আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হওয়া। সময়টা সত্যিই কঠিন। এমন সময়ে নিজের ওপর আস্থা কমে যাওয়া স্বাভাবিক। অযোগ্য শুনতে শুনতে, এমনকি আবেদন যে সফল হয়নি, সেটুকু জানানোর সৌজন্যও না পেয়ে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা সহজ নয়। তাই খুঁজে নিন কম খরচের কোনো শখ বা কাজ। এমন কিছু, যা আনন্দ দেয়, প্রকৃতির কাছে নিয়ে যায়, সৃজনশীল করে তোলে। মন ভালো থাকা তখন সহজ হয়। স্বেচ্ছাসেবাও চমৎকার উপায়। নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়,
অর্থবহ কিছু করার তৃপ্তিও মেলে। চাকরি খোঁজার দীর্ঘ হতাশার পথে ইতিবাচক থাকা কঠিন। তাই চাকরি থাকুক বা না থাকুক, জীবনটাকে এমনভাবে সাজান, যেন নিজেকে নিয়ে ভালো লাগে।
নিজেকে পরিচিত করুন
যত বেশি সম্ভব, নানা পটভূমির মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। সবার জন্য এটা সহজ নয়। উদ্বেগ, অন্তর্মুখী স্বভাব, অসুস্থতা কিংবা ক্লান্তি অনেককে পিছিয়ে দেয়। তবু পেশার জগতে পরিচিতি গড়া খুব দরকার। লিংকডইনে প্রোফাইল রাখুন, নিয়মিত সক্রিয় থাকুন। সবাইকে জানান, আপনি ক্যারিয়ারের পথে সবে হাঁটতে শুরু করেছেন। এই অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকুন।
অন্যের অভিজ্ঞতা ও জীবনের গল্প জানতে আগ্রহী হোন। কেউ আপনার চেয়ে বেশি জানেন বলে সংকোচ করবেন না। বরং তাঁর কাজের প্রশংসা করুন, জানান তাঁর পথচলা আপনাকে অনুপ্রাণিত করে। সুযোগ পেলে কথা বলুন, পাশে থাকার অনুরোধ করুন পরামর্শদাতা হয়ে।
চাকরি খোঁজার পরিধি বাড়ান
চাকরি পেতে অসুবিধা হলে আপাতত একটি চাকরির দিকেই নজর দিন। সারা জীবনের আদর্শ চাকরির খোঁজে সময় নষ্ট করবেন না। স্বপ্ন সবারই থাকে। কিন্তু স্বপ্ন যদি খোঁজার পরিধি ছোট করে দেয়, ক্ষতিটা আপনারই। যোগাযোগের দক্ষতা, দলে কাজ করার সক্ষমতা প্রায় সব চাকরিতেই লাগে। এসব গড়ে তোলার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। বেকার অবস্থার চেয়ে চাকরিতে থেকে নতুন চাকরি খোঁজা অনেক সহজ, চাপও কম। স্বপ্নের চাকরির সুযোগ পরেও আসতে পারে।
নিজের প্রতিও সদয় হোন। এখনকার অর্থনীতিতে অভিজ্ঞদের জন্যও কাজ পাওয়া কঠিন। চাকরি খোঁজাকে যেমন গুরুত্ব দেবেন, নিজের ভালো থাকাকেও দিন তেমনই গুরুত্ব। আবেদন আর সাক্ষাৎকারে সেরাটা দিতে হলে শরীর ও মন দুটোই সুস্থ থাকা চাই।
আপনারও দেওয়ার মতো কিছু আছে
চাইলে নিজের কাজের সুযোগ নিজেই গড়ে নিতে পারেন। শুরুটা হোক যেকোনো
জায়গায়, যেকোনোভাবে।
ধরুন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাব দিলেন, কয়েক মাস শুধু কমিশনের বিনিময়ে কাজ করবেন। সেখানে বানাতে পারেন বিপণনসামগ্রী, লিখতে পারেন প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের প্রতিবেদন, রেকর্ড করতে পারেন সাক্ষাৎকার, কিংবা হাত লাগাতে পারেন বিক্রি বাড়ানোর কাজে। প্রতিটি কাজই কোনো না কোনোভাবে প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়ায়।
নতুন স্টার্টআপ বা অনুপ্রেরণাদায়ী কোনো উদ্যোক্তার সঙ্গে কাজ করলে যে অভিজ্ঞতা মিলবে, ঘরে বসে এক মাস আবেদন পাঠানোর চেয়ে তার দাম অনেক বেশি। কঠিন সময়ে সুযোগ আসে তাঁদেরই কাছে, যাঁরা ঝুঁকি নিতে ভয় পান না, নিজের যোগ্যতা প্রমাণে এগিয়ে আসেন। মনে রাখুন, অন্যকে দেওয়ার মতো মূল্যবান কিছু আপনারও আছে।
এভাবে শুরু করলে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হবে, দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে, সামনে এগোনোর গতিও পাবেন।
প্রস্তাব এলে গ্রহণ করুন
নিয়োগদাতারা পছন্দ করেন সেই মানুষদের, যাঁরা কাজে আগ্রহী এবং সেই মনোভাবের প্রমাণ দিতে পারেন। কাজে যোগ দিন।
আরও ভালো কিছু না পাওয়া পর্যন্ত, কিংবা নিজের যোগ্যতায় ভালো জায়গায় পৌঁছানো পর্যন্ত চালিয়ে যান।
পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে সাহায্য চাইতে সংকোচ নয়
যোগাযোগ বাড়ান, যোগাযোগ বাড়ান, যোগাযোগ বাড়ান। নিজের এবং আশপাশের মানুষের পরিচিত সবাইকে কাজে লাগান।
এতে লজ্জার কিছু নেই। আপনার পরিচিত কেউ হয়তো এমন একজনকে চেনেন, যিনি চেনেন আরেকজনকে। সেই মানুষটিই হয়তো আপনার সামনে চাকরির দরজা খুলে
দেবেন, কিংবা আপনার হয়ে দুটো ভালো কথা বলবেন।
দ্বিতীয় পরামর্শ, যোগাযোগের পর খোঁজ নেওয়া থামাবেন না। কেউ যদি বলেন, আপনার কথা কাউকে বলবেন বা ইমেইল পাঠাবেন, তাঁকে ধন্যবাদ জানান। তবে
কথা সেখানেই শেষ করবেন না। ঠিক করে নিন, বিষয়টি নিয়ে আবার কবে
যোগাযোগ করবেন।










