Ajker Patrika

রমজানের শেষ দশকে যে আমল করতেন নবীজি (সা.)

ফয়জুল্লাহ রিয়াদ
আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২৬, ১০: ২১
রমজানের শেষ দশকে যে আমল করতেন নবীজি (সা.)
প্রতীকী ছবি

আল্লাহ তাআলা রমজান মাস দিয়েছেন ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মৌসুম হিসেবে। এই মাসের প্রতিটি দিন, প্রতিটি রাতই রহমত ও বরকতে পরিপূর্ণ। তবে শেষ দশককে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এ দশকের ফজিলত প্রথম দুই দশকের চেয়ে বেশি।

নবীজি (সা.) শেষ দশকে সর্বাধিক ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ দশকে যে পরিমাণ ইবাদত করতেন, অন্য কোনো সময় তা করতেন না।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৭৫)। তিনি আরও বলেন, ‘নবীজি (সা.) প্রথম বিশ দিন (রাতে) নামাজ পড়তেন ও ঘুমাতেন। কিন্তু শেষ ১০ দিন ঘুমাতেন না, বরং পরিধেয় বস্ত্রকে শক্ত করে বেঁধে নামাজে মনোনিবেশ করতেন।’ (সহিহ বুখারি: ২০২৪)। অর্থাৎ শেষ দশকে তিনি ইবাদতের জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন এবং রাত জেগে নামাজ, দোয়া ও জিকিরে সময় কাটাতেন।

শুধু নিজেই নন, তিনি পরিবারের সদস্যদেরও এ বরকতময় সময়ের মর্যাদা অনুধাবনে উদ্বুদ্ধ করতেন। ইবাদতের জন্য তাঁদের সবাইকে জাগিয়ে তুলতেন। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘যখন রমজানের শেষ দশক আসত, মহানবী (সা.) শরীরের পোশাককে শক্ত করে বাঁধতেন। রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দিতেন।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৭৪)

শেষ দশকের ইতিকাফ

মহানবী (সা.) জীবনের প্রতিটি রমজানেই শেষ দশকের ইতিকাফ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এক দিন ইতিকাফ করবে, আল্লাহ তাআলা তার ও জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তিনটি পরিখার দূরত্ব সৃষ্টি করবেন। প্রতিটি পরিখার দূরত্ব হবে দুই দিগন্তের চেয়ে বেশি।’ (মুজামুল আওসাত: ৭৩২৬)

নবীজি (সা.)-এর ইন্তিকালের পর উম্মুল মুমিনিনগণও নিজেদের ঘরে ইতিকাফ করেছেন। হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) আমৃত্যু রমজানের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। তাঁর ইন্তিকালের পর তাঁর স্ত্রীগণও ইতিকাফ করতেন।’ (সহিহ বুখারি: ২০২৬)। নবীজি (সা.) উম্মতকেও শেষ দশকের ইতিকাফ করতে আদেশ করেছেন। ফলে সাহাবায়ে কেরাম এ আমলকে গুরুত্বের সঙ্গে পালন করেছেন। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তিই ইতিকাফ করতে চায়, সে যেন শেষ দশকে ইতিকাফ করে।’ (সহিহ মুসলিম: ১১৬৭)

মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর

রমজানের শেষ দশকের সবচেয়ে মহিমান্বিত রাত হলো শবে কদর বা লাইলাতুল কদর। এ রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে নেকির প্রত্যাশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ বুখারি: ১৯০১)

মহানবী (সা.) নির্দিষ্ট করে কদরের রাত ঘোষণা করেননি। বরং উম্মতকে উৎসাহিত করেছেন শেষ দশকে তা অনুসন্ধান করতে। কোনো বর্ণনায় এসেছে, শেষ দশকের যেকোনো রাতেই লাইলাতুল কদর হতে পারে। (সহিহ বুখারি: ২০২০)। অন্য হাদিসে নবীজি (সা.) শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে তা অন্বেষণ করতে বলেছেন। (সহিহ বুখারি: ২০১৭)। ২৭ তারিখ শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে হাদিস থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তা নিশ্চিত নয়। (সহিহ মুসলিম: ৭৬২)

রমজানের শেষ দশক আমাদের জন্য ইবাদতের সুবর্ণ সুযোগ। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শেষ দশকের মর্যাদা অনুধাবন করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করুন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত