Ajker Patrika

সুরা আর-রহমান অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ ও ফজিলত

পবিত্র কোরআনের ৫৫ তম সুরা হলো আর-রহমান। এতে মোট ৭৮টি আয়াত রয়েছে। সুরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে কি না তা নিয়ে মুফাসসিরদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও, এর অধিকাংশ ভাব ও বিষয়ের কারণে অনেকে একে মক্কি সুরা হিসেবে গণ্য করেন। এই সুরা আল্লাহর অসীম রহমত, সৃষ্টির বিস্ময়কর মহিমা এবং মানুষ ও জিন জাতির প্রতি তাঁর অগণিত নেয়ামতের কথা অত্যন্ত চমৎকারভাবে তুলে ধরেছে।

ইসলাম ডেস্ক 
সুরা আর-রহমান অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ ও ফজিলত
সুরা আর-রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সুরাটির বারবার পুনরাবৃত্ত আয়াত ‘ফাবিআইয়ি আলাই রাব্বিকুমা তুকাজজিবান’ (অতএব তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?) মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও গভীর প্রভাব সৃষ্টি করে।

সুরা আর-রহমানের সারকথা

সুরা আর-রহমানে আল্লাহর করুণা ও সৃষ্টির সৌন্দর্য বর্ণনা করা হয়েছে। এর মূল বিষয়বস্তুগুলো নিম্নরূপ:

  • আল্লাহর নেয়ামত: সুরাটিতে কোরআন শিক্ষা, মানুষের সৃষ্টি, বাক্‌শক্তি প্রদান, সূর্য-চন্দ্রের সুশৃঙ্খল আবর্তন, প্রকৃতির ভারসাম্য, সমুদ্রের গভীরতা, ফল-ফসল এবং জান্নাতের অনাবিল সৌন্দর্যের বর্ণনা রয়েছে।
  • কৃতজ্ঞতার আহ্বান: পুরো সুরায় ৩১ বার ‘তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?’ আয়াতটি ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষকে আল্লাহর অনুগ্রহ সম্পর্কে সচেতন করা হয়েছে।
  • জান্নাত ও জাহান্নাম: জান্নাতের দুটি উদ্যান ও এর বিচিত্র নেয়ামতের পাশাপাশি জাহান্নামের শাস্তির বিবরণ দেওয়া হয়েছে, যা মানুষকে পুণ্য অর্জন ও পাপাচার থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
  • আল্লাহর অবিনশ্বরতা: মহাবিশ্বের সবকিছুই একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, কেবল আল্লাহর মহান সত্তাই অবশিষ্ট থাকবে—এই শাশ্বত সত্যটি সুরাটিতে জোরালোভাবে বর্ণিত হয়েছে।

সুরা আর-রহমান অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ

নিচে এই সুরার বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ দেওয়া হলো:

১. اَلرَّحۡمٰنُ ۙ

উচ্চারণ: আর-রাহমান।

অর্থ: পরম করুণাময়।

২. عَلَّمَ الۡقُرۡاٰنَ ؕ

উচ্চারণ: ‘আল্লামাল কোরআন।

অর্থ: তিনি শিক্ষা দিয়েছেন কোরআন।

৩. خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ ۙ

উচ্চারণ: খালাকাল ইনসান।

অর্থ: তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষ।

৪. عَلَّمَهُ الۡبَیَانَ

উচ্চারণ: ‘আল্লামাহুল বায়ান।

অর্থ: তিনি তাকে শিখিয়েছেন ভাব প্রকাশ করতে (কথা বলতে)।

৫. اَلشَّمۡسُ وَ الۡقَمَرُ بِحُسۡبَانٍ ۪

উচ্চারণ: আশ-শামসু ওয়াল কামারু বিহুসবান।

অর্থ: সূর্য ও চন্দ্র নির্ধারিত হিসাব অনুযায়ী চলে।

৬. وَ النَّجۡمُ وَ الشَّجَرُ یَسۡجُدٰنِ

উচ্চারণ: ওয়ান নাজমু ওয়াশ শাজারু ইয়াসজুদান।

অর্থ: লতা-পাতা ও বৃক্ষরাজি তাঁকে সেজদা করে।

৭. وَ السَّمَآءَ رَفَعَهَا وَ وَضَعَ الۡمِیۡزَانَ ۙ

উচ্চারণ: ওয়াস সামা-আ রাফাআহা ওয়া ওয়াদ্বাআল মিজান।

অর্থ: তিনি আকাশকে করেছেন সমুন্নত এবং স্থাপন করেছেন ভারসাম্য (দাঁড়িপাল্লা)।

৮. اَلَّا تَطۡغَوۡا فِی الۡمِیۡزَانِ

উচ্চারণ: আল্লা তাতগাউ ফিল মিজান।

অর্থ: যাতে তোমরা ভারসাম্যে (পরিমাপে) সীমালঙ্ঘন না করো।

৯. وَ اَقِیۡمُوا الۡوَزۡنَ بِالۡقِسۡطِ وَ لَا تُخۡسِرُوا الۡمِیۡزَانَ

উচ্চারণ: ওয়া আক্বিমুল ওয়াজনা বিলক্বিস্তি ওয়ালা তুখসিরুল মিজান।

অর্থ: তোমরা ন্যায়সংগত ওজন কায়েম করো এবং ওজনে কম দিয়ো না।

১০. وَ الۡاَرۡضَ وَضَعَهَا لِلۡاَنَامِ ۙ

উচ্চারণ: ওয়াল আরদ্বা ওয়াদ্বা ‘আহা লিল আনাম।

অর্থ: তিনি পৃথিবীকে বিছিয়ে দিয়েছেন সৃষ্টিজগতের জন্য।

১১. فِیۡهَا فَاكِهَةٌ ۪ وَ النَّخۡلُ ذَاتُ الۡاَکۡمَامِ ۖ

উচ্চারণ: ফীহা ফাকিহাতুউ ওয়াননাখলু যাতুল আক মাম।

অর্থ: এতে রয়েছে ফলমূল এবং আবরণযুক্ত খেজুর বৃক্ষ।

১২. وَ الۡحَبُّ ذُو الۡعَصۡفِ وَ الرَّیۡحَانُ ۚ

উচ্চারণ: ওয়াল হাব্বু যুল ‘আসফি ওয়ার রায়হান।

অর্থ: আরও আছে খোসাবিশিষ্ট শস্য ও সুগন্ধি ফুল।

১৩. فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে (জিন ও মানুষ) তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

১৪. خَلَقَ الۡاِنۡسَانَ مِنۡ صَلۡصَالٍ كَالۡفَخَّارِ ۙ

উচ্চারণ: খালাকাল ইনসা-না মিন সালসালিন কাল ফাখখা-র।

অর্থ: তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির মতো শুষ্ক মাটি থেকে।

১৫. وَ خَلَقَ الۡجَآنَّ مِنۡ مَّارِجٍ مِّنۡ نَّارٍ ۚ

উচ্চারণ: ওয়া খালাকাল জান্না মিম মারিজিম মিন নার।

অর্থ: এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন অগ্নিশিখা থেকে।

১৬. فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

১৭. رَبُّ الۡمَشۡرِقَیۡنِ وَ رَبُّ الۡمَغۡرِبَیۡنِ ۚ

উচ্চারণ: রাব্বুল মাশরিক্বাইনি ওয়া রাব্বুল মাগরিবাইন।

অর্থ: তিনি দুই উদয়াচল ও দুই অস্তাচলের মালিক।

১৮. فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

১৯. مَرَجَ الۡبَحۡرَیۡنِ یَلۡتَقِیٰنِ ۙ

উচ্চারণ: মারাজাল বাহরাইনি ইয়ালতাক্বিয়ান।

অর্থ: তিনি পাশাপাশি দুই সমুদ্র প্রবাহিত করেছেন যারা একে অপরের সঙ্গে মিলিত হয়।

২০. بَیۡنَهُمَا بَرۡزَخٌ لَّا یَبۡغِیٰنِ ۚ

উচ্চারণ: বাইনাহুমা বারজাখুল লা ইয়াবগিয়ান।

অর্থ: কিন্তু তাদের মাঝে রয়েছে এক অন্তরাল, যা তারা অতিক্রম করতে পারে না।

২১. فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

২২. یَخۡرُجُ مِنۡهُمَا اللُّؤۡلُؤُ وَ الۡمَرۡجَانُ ۚ

উচ্চারণ: ইয়াখরুজু মিনহুমাল লু’লুউ ওয়াল মারজান।

অর্থ: উভয় সমুদ্র থেকে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল।

২৩. فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

২৪. وَ لَهُ الۡجَوَارِ الۡمُنۡشَاٰتُ فِی الۡبَحۡرِ كَالۡاَعۡلَامِ ۚ

উচ্চারণ: ওয়া লাহুল জাওয়ারিল মুনশাআতু ফিল বাহরি কাল আ’লাম।

অর্থ: সমুদ্রপৃষ্ঠে বিচরণশীল পাহাড়সম জাহাজগুলো তাঁরই।

২৫. فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

২৬. كُلُّ مَنۡ عَلَیۡهَا فَانٍ ۚ

উচ্চারণ: কুল্লু মান ‘আলাইহা ফান।

অর্থ: ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই নশ্বর (ধ্বংসশীল)।

২৭. وَ یَبۡقٰی وَجۡهُ رَبِّكَ ذُو الۡجَلٰلِ وَ الۡاِكۡرَامِ ۚ

উচ্চারণ: ওয়া ইয়াবক্বা ওয়াজহু রাব্বিকা যুল জালালি ওয়াল ইকরাম।

অর্থ: একমাত্র আপনার মহানুভব ও মহিমাময় রবের সত্তাই অবিনশ্বর।

২৮. فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

২৯. یَسۡـَٔلُهٗ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ كُلَّ یَوۡمٍ هُوَ فِیۡ شَاۡنٍ ۚ

উচ্চারণ: ইয়াসআলুহূ মান ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্ব; কুল্লা ইয়াউমিন হুয়া ফী শা‘ন।

অর্থ: আসমান ও জমিনের সবাই তাঁর কাছেই প্রার্থনা করে; তিনি প্রতিদিন নতুন নতুন কাজে ব্যাপৃত থাকেন।

৩০. فَبِاَیِّ اٰلَآءِ رَبِّکُمَا تُکَذِّبٰنِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৩১. سَنَفْرُغُ لَكُمْ أَيُّهَ الثَّقَلَانِ

উচ্চারণ: সানাফরুগু লাকুম আইয়ুহাছ ছাক্বালান।

অর্থ: হে জিন ও মানুষ, শিগগিরই আমি তোমাদের (হিসাব নেওয়ার) প্রতি মনোনিবেশ করব।

৩২. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৩৩. يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ إِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَن تَنفُذُوا مِنْ أَقْطَارِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ فَانفُذُوا ۚ لَا تَنفُذُونَ إِلَّا بِسُلْطَانٍ

উচ্চারণ: ইয়া মা ‘শারাল জিন্নি ওয়াল ইনসি ইনিস তাত্বা ‘তুম আন তানফুযূ মিন আক্বত্বারিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ফানফুযূ; লা তানফুযূনা ইল্লা বিসুলত্বান।

অর্থ: হে জিন ও মানবজাতি, আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সীমানা যদি তোমরা অতিক্রম করতে পারো, তবে করো। কিন্তু তোমরা তা পারবে না (আল্লাহর দেওয়া) শক্তি ব্যতীত।

৩৪. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৩৫. يُرْسَلُ عَلَيْكُمَا شُوَاظٌ مِّن نَّارٍ وَنُحَاسٌ فَلَا تَنتَصِرَانِ

উচ্চারণ: ইয়ুরসালু ‘আলাইকুমা শুওয়াযুম মিন নারিন ওয়া নুহাসুন ফালা তানতাসিরান।

অর্থ: তোমাদের প্রতি অগ্নিলিলীহা ও ধুম্রপুঞ্জ ছাড়া হবে, তখন তোমরা একে অপরকে সাহায্য করতে পারবে না।

৩৬. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৩৭. فَإِذَا انشَقَّتِ السَّمَاءُ فَكَانَتْ وَرْدَةً كَالدِّهَانِ

উচ্চারণ: ফা ইযান শাক্কাতিস সামাউ ফাকানাত ওয়ারদাতান কাদ্দিহান।

অর্থ: যেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে এবং তা রক্তিম চামড়ার মতো হয়ে যাবে।

৩৮. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৩৯. فَيَوْمَئِذٍ لَّا يُسْأَلُ عَن ذَنبِهِ إِنسٌ وَلَا جَانٌّ

উচ্চারণ: ফায়া-উমায়িযিল লা ইয়ুসআলু ‘আন যামবিহী ইনসুও ওয়ালা জান।

অর্থ: সেদিন মানুষ বা জিনকে তাদের অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে না (বরং তাদের চিহ্ন দেখেই চেনা যাবে)।

৪০. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৪১. يُعْرَفُ الْمُجْرِمُونَ بِسِيمَاهُمْ فَيُؤْخَذُ بِالنَّوَاصِي وَالْأَقْدَامِ

উচ্চারণ: ইয়ু ‘রাফুল মুজরিমূনা বিসীমাহুম ফা ‘উখাযু বিন নাওয়াসী ওয়াল আক্বদাম।

অর্থ: অপরাধীদের চেনা যাবে তাদের চেহারা দেখে, অতঃপর তাদের ধরা হবে মাথার চুল ও পা ধরে।

৪২. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৪৩. هَٰذِهِ جَهَنَّمُ الَّتِي يُكَذِّبُ بِهَا الْمُجْرِمُونَ

উচ্চারণ: হাযিহী জাহান্নামুল্লাতী ইউকাযযিবু বিহাল মুজরিমুন।

অর্থ: এটাই সেই জাহান্নাম, যা অপরাধীরা অস্বীকার করত।

৪৪. يَطُوفُونَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ حَمِيمٍ آنٍ

উচ্চারণ: ইয়াত্বুফূনা বাইনাহা ওয়া বাইনা হামীমিন আন।

অর্থ: তারা জাহান্নামের আগুন ও ফুটন্ত পানির মাঝখানে দৌড়াদৌড়ি করবে।

৪৫. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৪৬. وَلِمَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ جَنَّتَانِ

উচ্চারণ: ওয়া লিমান খাফা মাক্বামা রাব্বিহী জান্নাতান।

অর্থ: যে ব্যক্তি তার রবের সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করে, তার জন্য রয়েছে দুটি উদ্যান (জান্নাত)।

৪৭. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৪৮. ذَوَاتَا أَفْنَانٍ

উচ্চারণ: যাওয়াতা আফনান।

অর্থ: উভয় উদ্যানই ঘন শাখা-পল্লববিশিষ্ট।

৪৯. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৫০. فِيهِمَا عَيْنَانِ تَجْرِيَانِ

উচ্চারণ: ফীহিমা ‘আইনানি তাজরিয়ান।

অর্থ: উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রবাহমান দুটি প্রস্রবণ।

৫১. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৫২. فِيهِمَا مِن كُلِّ فَاكِهَةٍ زَوْجَانِ

উচ্চারণ: ফীহিমা মিন কুল্লি ফাকিহাতিন যাওজান।

অর্থ: উভয় উদ্যানে রয়েছে প্রত্যেক ফল দুই দুই প্রকার।

৫৩. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৫৪. مُتَّكِئِينَ عَلَىٰ فُرُشٍ بَطَائِنُهَا مِنْ إِسْتَبْرَقٍ ۚ وَجَنَى الْجَنَّتَيْنِ دَانٍ

উচ্চারণ: মুত্তাকিঈনা ‘আলা ফুরুশিম বাত্বায়িনুহা মিন ইস্তাবরাক্ব; ওয়া জানাল জান্নাতাইনি দান।

অর্থ: তারা এমন বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে যার আস্তরণ হবে রেশমের এবং উভয় উদ্যানের ফল হবে হাতের নাগালে।

৫৫. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৫৬. فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ

উচ্চারণ: ফীহিন্না ক্বা-সিতরাতুত্ত্বারফি লাম ইয়াত্বমিছহুন্না ইনসুন ক্বাবলাহুম ওয়ালা জান।

অর্থ: সেখানে থাকবে আনতনয়না হুরগণ, যাদেরকে এর আগে কোনো মানুষ বা জিন স্পর্শ করেনি।

৫৭. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৫৮. كَأَنَّهُنَّ الْيَاقُوتُ وَالْمَرْجَانُ

উচ্চারণ: কাআন্নাহুন্নাল ইয়াকুতু ওয়াল মারজান।

অর্থ: তারা যেন চুনি ও প্রবাল।

৫৯. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৬০. هَلْ جَزَاءُ الْإِحْسَانِ إِلَّا الْإِحْسَانُ

উচ্চারণ: হাল জাযাউল ইহসানি ইল্লাল ইহসান।

অর্থ: সৎকাজের প্রতিদান কি সৎকাজ ছাড়া আর কিছু হতে পারে?

৬১. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৬২. وَمِن دُونِهِمَا جَنَّتَانِ

উচ্চারণ: ওয়া মিন দূনিহিমা জান্নাতান।

অর্থ: এই দুই উদ্যান ছাড়া আরও দুটি উদ্যান রয়েছে।

৬৩. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৬৪. مُدْهَامَّتَانِ

উচ্চারণ: মুদ হাম্মাতান।

অর্থ: ঘন সবুজ রঙের কারণে যা কালো দেখায়।

৬৫. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّসُانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৬৬. فِيهِمَا عَيْنَانِ نَضَّاخَتَانِ

উচ্চারণ: ফীহিমা আইনানি নাদদ্বাখাতান।

অর্থ: সেখানে রয়েছে উথলে পড়া দুটি প্রস্রবণ।

৬৭. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৬৮. فِيهِمَا فَاكِهَةٌ وَنَخْلٌ وَرُمَّانٌ

উচ্চারণ: ফীহিমা ফাকিহাতুউ ওয়া নাখলুউ ওয়া রুম্মান।

অর্থ: সেখানে রয়েছে ফলমূল, খেজুর ও ডালিম।

৬৯. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৭০. فِيهِنَّ خَيْرَاتٌ حِسَانٌ

উচ্চারণ: ফীহিন্না খাইরাতুন হিসান।

অর্থ: সেখানে থাকবে চরিত্রবতী ও সুন্দরী রমণীগণ।

৭১. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৭২. حُورٌ مَّقْصُورَاتٌ فِي الْخِيَامِ

উচ্চারণ: হুরুম মাকসুরাতুন ফিল খিয়াম।

অর্থ: তারা হুর—তাঁবুর মধ্যে সুরক্ষিত।

৭৩. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৭৪. لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ

উচ্চারণ: লাম ইয়াতমিছহুন্না ইনসুন কাবলাহুম ওয়ালা জান।

অর্থ: যাদেরকে ইতিপূর্বে কোনো মানুষ বা জিন স্পর্শ করেনি।

৭৫. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৭৬. مُتَّكِئِينَ عَلَىٰ رَفْرَفٍ خُضْرٍ وَعَبْقَرِيٍّ حِسَانٍ

উচ্চারণ: মুত্তাকিঈনা আলা রাফরাফিন খুদরিন ওয়া আবক্বারিইয়িন হিসান।

অর্থ: তারা সবুজ বালিশ ও সুন্দর কারুকার্যময় গালিচায় হেলান দিয়ে বসবে।

৭৭. فَبِأَيِّ آلَاءِ رَبِّكُمَا تُكَذِّبَانِ

উচ্চারণ: ফাবি আইয়ি আ-লা-ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান।

অর্থ: অতএব, তোমরা উভয়ে তোমাদের রবের কোন কোন নেয়ামতকে অস্বীকার করবে?

৭৮. تَبَارَكَ اسْمُ رَبِّكَ ذِي الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

উচ্চারণ: তাবারাকাসমু রাব্বিকা যিল জালালি ওয়াল ইকরাম।

অর্থ: কত বরকতময় আপনার রবের নাম, যিনি মহিমাময় ও মহানুভব।

শানে নুজুল: কেন অবতীর্ণ হলো এই সুরা?

রাসুলুল্লাহ (সা.) নবুওয়াত লাভের পর মক্কার কুরাইশরা আল্লাহর ‘রহমান’ নামটির ব্যাপারে বিদ্রূপ করত। তারা বলাবলি করত, ‘রহমান আবার কে?’ তারা মূর্তিপূজায় অভ্যস্ত ছিল এবং আল্লাহর এই গুণবাচক নামের তাৎপর্য সম্পর্কে তাদের ধারণা ছিল না। তাদের এই কৌতূহল ও অস্বীকারের জবাব হিসেবে আল্লাহ তাআলা এ সুরা নাজিল করে নিজের ‘রহমান’ নামের মাহাত্ম্য ও কুদরত ব্যাখ্যা করেন।

সুরা আর-রহমান পাঠের ফজিলত ও শিক্ষা

হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিটি জিনিসের আলাদা সৌন্দর্য রয়েছে; আর কোরআনের সৌন্দর্য হলো সুরা আর-রহমান।’ (সুনানে বায়হাকি)। হাদিসে আরও এসেছে, এই সুরা পাঠের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে তা তার ইহকাল ও পরকালের জন্য কল্যাণকর হয়।

এই সুরার প্রধান শিক্ষাগুলো হলো:

  • ১. আল্লাহর রহমত সৃষ্টিজগতের সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে।
  • ২. প্রতিটি নেয়ামতের জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা আবশ্যক।
  • ৩. প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা মানুষের নৈতিক দায়িত্ব।
  • ৪. আখিরাত ও জান্নাত-জাহান্নামের স্মরণে জীবন পরিচালনা করা।
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত