আরবি বর্ষপঞ্জির ১১তম মাস—জিলকদ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা যে চারটি মাসকে ‘মর্যাদাপূর্ণ’ (আশহুরুল হুরুম) বলে ঘোষণা করেছেন, জিলকদ তার অন্যতম। জাহিলিয়াতের যুগেও আরবে এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল। বর্তমানে মুমিনদের জন্য এটি হজ ও কোরবানির প্রস্তুতির মাস।
জিলকদ নামের অর্থ ও নামকরণের কারণ
আরবি জুলকাআদাহ শব্দ থেকে জিলকদ শব্দটি এসেছে, যার অর্থ হলো—বসা, বিশ্রাম নেওয়া বা স্থিতি। প্রাচীন আরবে মানুষ জিলহজ মাসে হজ পালনের জন্য শাওয়াল মাসে ব্যবসা-বাণিজ্যের পর এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ থেকে বিরত থেকে বিশ্রাম নিত। যেহেতু তারা এই মাসে ঘরে বসে থাকত এবং কোনো দ্বন্দ্বে জড়াত না, তাই এর নাম রাখা হয় জিলকদ বা বসে থাকার মাস।
জিলকদ মাসের বিশেষ তিনটি বৈশিষ্ট্য
১. মুসা (আ.)-এর তুর পাহাড়ে অবস্থান: তাওরাত লাভের আগে হজরত মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে যে ৪০ দিন অবস্থান করেছিলেন, অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে তার প্রথম ৩০ দিন ছিল এই জিলকদ মাস।
২. রাসুল (সা.)-এর ওমরাহ পালন: নবী করিম (সা.) তাঁর জীবনে মোট চারটি ওমরাহ করেছেন, যার মধ্যে তিনটি ছিল জিলকদ মাসে। (সহিহ মুসলিম: ১২৫৩)
৩. হজের প্রস্তুতির মাস: জিলকদ হলো হজের দ্বিতীয় মাস। যাঁরা হজে যাওয়ার নিয়ত করেছেন, তাঁদের জন্য মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতির চূড়ান্ত সময় এটি।
জিলকদের ফজিলতপূর্ণ আমল
জিলকদ মাসে বিশেষ কোনো ফরজ ইবাদত না থাকলেও অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে মুমিনরা নিজেদের আমলনামা ভারী করতে পারেন। যেমন আইয়ামে বিজের রোজা (চাঁদের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ) এবং প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার নফল রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এই আমল জিলকদ মাসেও করা যায়।
হজের সফরের আগে নিজেকে গুনাহমুক্ত করতে অধিক পরিমাণে তওবা করা যেতে পারে। আর যাঁরা হজে যাচ্ছেন না, তাঁরা কোরবানির পশু নির্বাচন এবং এর বিধিবিধান শেখার মাধ্যমে এই মাস অতিবাহিত করতে পারেন।
জিলকদ মাসের ঘটনাবলি
জিলকদ মাসে ইসলামের ইতিহাসে বেশ কিছু মোড় ঘোরানো ঘটনা ঘটেছে। ১ জিলকদ নবীজি (সা.) হজরত জয়নব বিনতে জাহাশ (রা.)-কে বিয়ে করেন। এ ছাড়া ওমরাহর উদ্দেশ্যে দেড় হাজার সাহাবিকে নিয়ে মক্কার পথে রওনা হন। ১৬ জিলকদ মক্কার কাফেরদের সঙ্গে ঐতিহাসিক হুদায়বিয়ার সন্ধি সম্পন্ন হয়। ১০ম হিজরির ২৪ জিলকদ তারিখে রাসুল (সা.) বিদায় হজের উদ্দেশ্যে মদিনা থেকে মক্কার পথে রওনা হন।
জিলকদ মাস আমাদের ত্যাগের ইবাদত হজ ও কোরবানির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এই মাসের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং নফল ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর সান্নিধ্যে নিয়ে যাওয়া প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।

ইশরাক শব্দের অর্থ হলো আলোকিত হওয়া। সূর্য ওঠার পর জগৎ যখন আলোকিত হয়, তখন এই নামাজ আদায় করা হয় বলে একে সালাতুল ইশরাক বলা হয়। এটি নফল নামাজ এবং সুন্নতে গায়রে মুআক্কাদা, অর্থাৎ ঐচ্ছিক সুন্নত। মহানবী (সা.) নিজে এই নামাজ আদায় করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও উৎসাহিত করতেন।
১১ মিনিট আগে
নতুন দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের মহরৌলিতে অবস্থিত কুতুব মিনার ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম স্থাপত্যকলার অনন্য নিদর্শন। ৭২.৫ মিটার বা ২৩৯ ফুট উচ্চতার এই মিনারটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ইটনির্মিত মিনার হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯৩ সালে ইউনেসকো এটিকে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই স্থাপত্যশিল্পটি ভারতীয়...
১ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৬ ঘণ্টা আগে
নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত কায়েমের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর তোমরা আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা তহা: ১৪)। নামাজের প্রতিটি রুকন সঠিকভাবে পালন করা নামাজ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। এর মধ্যে ‘রুকু’ অত্যন্ত...
১৪ ঘণ্টা আগে