নতুন দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের মহরৌলিতে অবস্থিত কুতুব মিনার ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম স্থাপত্যকলার অনন্য নিদর্শন। ৭২.৫ মিটার বা ২৩৯ ফুট উচ্চতার এই মিনারটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ইটনির্মিত মিনার হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯৩ সালে ইউনেসকো এটিকে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই স্থাপত্যশিল্পটি ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের সূচনা এবং ইসলামি স্থাপত্যকলা বিকাশের জীবন্ত সাক্ষ্য।
নির্মাণকাল ও নামকরণ
কুতুব মিনারের নির্মাণকাজ শুরু হয় ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে দিল্লি সালতানাতের প্রতিষ্ঠাতা কুতুবুদ্দিন আইবেকের শাসনামলে। তাঁর নামানুসারেই এটাকে ‘কুতুব মিনার’ বলে নামকরণ করা হয়। তবে কুতুবুদ্দিন আইবেক শুধু মিনারের ভিত্তি এবং প্রথম তলা নির্মাণ করতে পেরেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি ইলতুৎমিশ আরও তিনটি তলা নির্মাণ করেন। ১৩২৬ খ্রিষ্টাব্দে বজ্রপাতে এটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ১৩৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ফিরোজ শাহ তুঘলক এর পঞ্চম ও সর্বোচ্চ তলাটি নির্মাণ করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামত করেন।
কেন নির্মাণ করা হয় এই মিনার?
এই মিনার নির্মাণের উদ্দেশ্য নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি নির্মিত হয়েছিল বিজয়স্তম্ভ তথা পৃথ্বীরাজ চৌহানের বিরুদ্ধে বিজয়ের স্মারক হিসেবে। আবার কারও মতে, এটি নির্মিত হয়েছিল মসজিদের মিনার হিসেবে, যেখান থেকে আজান দেওয়া হতো। কুতুব মিনারের পাশেই রয়েছে একটি মসজিদ, এটি ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীনতম মসজিদগুলোর একটি।
স্থাপত্যশৈলীর বৈশিষ্ট্য
কুতুব মিনার ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যশৈলীর অপূর্ব একটি উদাহরণ। এতে আফগান, পারস্য এবং ভারতীয় স্থাপত্যের সুন্দর সমন্বয় দেখা যায়। মিনারটি লাল বেলেপাথর এবং মার্বেল পাথর দিয়ে নির্মিত। এর গোড়ার ব্যাস ১৪.৩ মিটার এবং শীর্ষে ২.৭ মিটার, যা এটিকে একটি সুসামঞ্জস্য ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের রূপ দিয়েছে।
মিনারটি পাঁচটি স্তরে বিভক্ত। প্রতিটি স্তরকে একটি সুন্দর ব্যালকনি দ্বারা পৃথক করা হয়েছে। প্রথম তিনটি তলা লাল বেলেপাথরের তৈরি, চতুর্থ ও পঞ্চম তলা মার্বেল এবং বেলেপাথরের মিশ্রণে নির্মিত। মিনারের গায়ে রয়েছে অসাধারণ ক্যালিগ্রাফি বা আরবি লিপিশিল্প, যেখানে কোরআনের আয়াত খোদাই করা আছে। এ ছাড়া রয়েছে জ্যামিতিক নকশা এবং ফুলের অলংকরণ, যা ইসলামি স্থাপত্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
মিনারের অভ্যন্তরে রয়েছে ৩৭৯টি সিঁড়ি, যা দিয়ে একসময় দর্শনার্থীরা মিনারটির শীর্ষ চূড়ায় উঠতে পারত। তবে ১৯৮১ সালের একটি দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে এর অভ্যন্তরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়।
কুতুব কমপ্লেক্স
কুতুব মিনারটি একক কোনো স্থাপনা নয়, এটি একটি বিশাল কমপ্লেক্সের অংশ। এই কমপ্লেক্সে রয়েছে আরও অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনা। কুওয়াতুল ইসলাম মসজিদ এই কমপ্লেক্সের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কমপ্লেক্সের আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো লৌহস্তম্ভ বা আয়রন পিলার। এটি কুতুব মিনারের চেয়ে অনেক পুরোনো। ধারণা করা হয়, চতুর্থ বা পঞ্চম শতাব্দীতে এটি নির্মিত হয়েছিল। ৭.২ মিটার উচ্চতার এই লৌহস্তম্ভটির সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো, প্রায় ১৬০০ বছর ধরে দাঁড়িয়ে থাকা সত্ত্বেও এতে কোনো মরিচা ধরেনি।
পাশাপাশি এই কমপ্লেক্সে রয়েছে আলাই দরওয়াজা, যা আলাউদ্দিন খিলজির সময়ে ১৩১১ সালে নির্মিত হয়েছিল। এটি ইন্দো-ইসলামিক স্থাপত্যের এক চমৎকার নমুনা, যেখানে লাল বেলেপাথরের সঙ্গে সাদা মার্বেল পাথরের সুন্দর ব্যবহার দেখা যায়।

ইশরাক শব্দের অর্থ হলো আলোকিত হওয়া। সূর্য ওঠার পর জগৎ যখন আলোকিত হয়, তখন এই নামাজ আদায় করা হয় বলে একে সালাতুল ইশরাক বলা হয়। এটি নফল নামাজ এবং সুন্নতে গায়রে মুআক্কাদা, অর্থাৎ ঐচ্ছিক সুন্নত। মহানবী (সা.) নিজে এই নামাজ আদায় করতেন এবং সাহাবায়ে কেরামকেও উৎসাহিত করতেন।
১১ মিনিট আগে
আরবি বর্ষপঞ্জির ১১তম মাস—জিলকদ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা যে চারটি মাসকে ‘মর্যাদাপূর্ণ’ (আশহুরুল হুরুম) বলে ঘোষণা করেছেন, জিলকদ তার অন্যতম। জাহিলিয়াতের যুগেও আরবে এই মাসে যুদ্ধবিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল। বর্তমানে মুমিনদের জন্য এটি হজ ও কোরবানির প্রস্তুতির মাস।
১ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৬ ঘণ্টা আগে
নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত কায়েমের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর তোমরা আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা তহা: ১৪)। নামাজের প্রতিটি রুকন সঠিকভাবে পালন করা নামাজ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। এর মধ্যে ‘রুকু’ অত্যন্ত...
১৪ ঘণ্টা আগে