Ajker Patrika

আত্তাহিয়াতু: আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও প্রাসঙ্গিক ইতিহাস

ইসলাম ডেস্ক 
আত্তাহিয়াতু: আরবি, বাংলা উচ্চারণ, অর্থ ও প্রাসঙ্গিক ইতিহাস
নামাজ আদায় করছেন একজন মুসল্লি। ছবি: সংগৃহীত

নামাজ ইসলামের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। নামাজের প্রতিটি বৈঠকে বসে তাশাহহুদ বা আত্তাহিয়াতু পাঠ করা ওয়াজিব। এটি এমন এক মহামূল্যবান দোয়া, যার প্রতিটি শব্দে আল্লাহ তাআলার প্রতি সম্মান এবং প্রিয় নবীজি (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ রয়েছে।

তাশাহহুদ (আত্তাহিয়াতু) আরবি, উচ্চারণ ও অর্থ

আরবি:

التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ ، السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

বাংলা উচ্চারণ: আত্তাহিইয়াতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াততাইয়িবাতু। আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিইয়ু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন। আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।

বাংলা অর্থ: যাবতীয় মৌখিক, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার প্রতি সালাম এবং আল্লাহর রহমত ও বরকত নাজিল হোক। সালাম আমাদের প্রতি এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের প্রতি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো মাবুদ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা এবং রাসুল।

আত্তাহিয়াতুর প্রাসঙ্গিক ইতিহাস

তাশাহহুদ কেবল একটি দোয়া নয়, বরং এটি মহান আল্লাহ এবং তাঁর প্রিয় রাসুল (সা.)-এর মধ্যকার মিরাজ রজনীর কথোপকথনের একটি অংশ।

  • ১. নবীজির নিবেদন: মিরাজে যখন নবীজি (সা.) আল্লাহর অতি নিকটে পৌঁছান, তখন তিনি আল্লাহকে ‘সালাম’ না দিয়ে বলেন, ‘আত্তাহিইয়াতু লিল্লাহি ওয়াস সালাওয়াতু ওয়াততাইয়িবাতু।’ কারণ, আল্লাহ নিজেই ‘সালাম’ (শান্তি), তাঁকে সালাম দেওয়ার প্রয়োজন নেই; বরং সম্মান জানানোই হলো আদব।
  • ২. আল্লাহর জবাব: রাসুলের নিবেদন শুনে আল্লাহ বলেন, ‘আসসালামু আলাইকা আইয়ুহান নাবিইয়ু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহু।’ অর্থাৎ হে নবী, আপনার প্রতি শান্তি ও বরকত নাজিল হোক।
  • ৩. নবীজির মহানুভবতা: নবীজি (সা.) শুধু নিজের জন্য শান্তি চাননি, বরং তিনি দোয়াটিকে উম্মত ও নেক বান্দাদের দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন।’
  • ৪. ফেরেশতাদের সাক্ষ্য: আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের এই কথোপকথন শুনে আসমানের ফেরেশতারা বলে ওঠেন, ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।’

তাশাহহুদের গুরুত্ব ও ফজিলত

  1. সুন্নাহসম্মত শিক্ষা: ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) আমার হাত তাঁর দুই হাতের মাঝে রেখে আমাকে তাশাহহুদ শেখাতেন, ঠিক যেভাবে তিনি কোরআনের সুরা শেখাতেন। (সহিহ্ বুখারি)।
  2. মহাজাগতিক শান্তি: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা যখন ‘আসসালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস সালিহিন’ বলবে, তখন আসমান ও জমিনে থাকা আল্লাহর সব নেক বান্দার কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে যাবে।
  3. একত্ববাদের ইশারা: নামাজে তাশাহহুদ পাঠকালে ‘আশহাদু আল্লা ইলাহা’ বলার সময় ডান হাতের তর্জনী উত্তোলন করে আল্লাহর একত্ববাদের সাক্ষ্য দেওয়া সুন্নত।

নামাজে তাশাহহুদ পড়ার নিয়ম

  • কখন পড়তে হয়: দুই রাকাআত সম্পন্ন করে বৈঠকে বসা এবং তাশাহহুদ পড়া ওয়াজিব। তিন বা চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজের শেষ বৈঠকেও এটি পাঠ করতে হয়।
  • বসার পদ্ধতি: নামাজের বৈঠকে বাঁ পা বিছিয়ে তার ওপর বসা এবং ডান পা খাড়া রাখা সুন্নত (পুরুষদের জন্য)। মহিলাদের জন্য উভয় পা ডান দিকে বের করে বসার নিয়ম।

তাশাহহুদ বা আত্তাহিয়াতু নামাজের প্রাণস্বরূপ। এটি পাঠ করার সময় এর অর্থ ও মিরাজের ইতিহাস স্মরণে রাখলে নামাজের একাগ্রতা বহুগুণ বেড়ে যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত