Ajker Patrika

নেতার মৃত্যুর পর মহারাষ্ট্রে একীভূত হচ্ছে এনসিপির দুই অংশ

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­
আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬: ১৬
নেতার মৃত্যুর পর মহারাষ্ট্রে একীভূত হচ্ছে এনসিপির দুই অংশ
শারদ পাওয়ার ও প্রয়াত অজিত পাওয়ারের এনসিপি আবারও একীভূত হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মহারাষ্ট্রভিত্তিক রাজনৈতিক দল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) দুই উপদল আবার একীভূত হতে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে এই বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

উভয় পক্ষের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মতে, গত বুধবার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হওয়া এনসিপির একাংশের নেতা অজিত পাওয়ার এই ঐক্যের পথ তৈরি করে দিয়েছিলেন। তিনি ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে তাঁর চাচা শারদ পাওয়ারের সঙ্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক করেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর একটি যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দুই নেতার আনুষ্ঠানিকভাবে একীভূত হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল।

সূত্র আরও জানিয়েছে, ঐক্যের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে উভয় পক্ষের নেতারা আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসতে পারেন। শারদ পাওয়ার ছাড়াও একীভূত এনসিপির নেতৃত্বে আসার দৌড়ে আরও তিনজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাঁরা হলেন অজিত পাওয়ারের স্ত্রী সুনেত্রা পাওয়ার, সুপ্রিয়া সুলে এবং প্রফুল্ল প্যাটেল।

তবে দলের ভেতরে রাজ্যসভার সাংসদ সুনেত্রা পাওয়ারকে দলের সভাপতি এবং সংসদীয় দলের নেতা করার দাবি জোরালো হচ্ছে। সূত্র বলছে, যদি কারিগরি সীমাবদ্ধতা বা রাজনৈতিক কারণে এটি সম্ভব না হয়, তবে এনসিপির প্রফুল্ল প্যাটেল পরবর্তী নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন।

১৯৯৯ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে শারদ পাওয়ার এনসিপি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ২০২৩ সালের জুলাই মাসে তাঁর ভাতিজা অজিত পাওয়ার বিদ্রোহ করেন এবং তাঁর উপদলটি বিজেপির নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন মহায়ুতি জোটে যোগ দিয়ে সরকার গঠন করে। প্রফুল্ল প্যাটেল, ছগন ভুজবল এবং দিলীপ ওয়ালসে-পাতিলের মতো শারদ পাওয়ারের বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীও সে সময় অজিত পাওয়ারের শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন।

গত বুধবার পুনে জেলার বারামতি বিমানবন্দরের একটি টেবিলটপ রানওয়ের প্রান্ত থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে অজিত পাওয়ার এবং আরও চারজন বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। কর্মকর্তারা জানান, কম দৃষ্টিসীমার কারণে দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টার সময় বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। বিমানে অজিত পাওয়ার ছাড়াও আরও যারা মারা গেছেন তাঁরা হলেন—দুই পাইলট সুমিত কাপুর ও সম্ভাবী পাঠক, অজিত পাওয়ারের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তা বিদিত যাদব এবং একজন বিমানবালা পিঙ্কি মালি।

তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এনসিপি নেতা অঙ্কুশ কাকাদে স্মরণ করে বলেন, অজিত পাওয়ার গত মাসেই চাচা শারদ পাওয়ারের জন্মদিনে (১২ ডিসেম্বর) উপহার হিসেবে দুই উপদলকে এক করতে চেয়েছিলেন। তবে সেই সময় তা সম্ভব হয়নি। এনসিপি (এসপি) নেতা জয়ন্ত পাতিলও এনডিটিভিকে জানিয়েছেন যে, অজিত পাওয়ার পুনর্মিলনের জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলেন এবং এই লক্ষ্যে ১৬ ও ১৭ জানুয়ারি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত