সুরা নাসর (سورة النصر) পবিত্র কোরআনের ১১০ তম সুরা। এটি পবিত্র মদিনায় অবতীর্ণ হওয়া সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সুরা। মাত্র ৩টি আয়াতের এই ছোট সুরাটিতে ইসলামি মিশনের পূর্ণতা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইহকাল ত্যাগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একে ‘সুরা তাওদি’ বা বিদায়ের সুরা নামেও অভিহিত করা হয়।

সুরা নাসর পবিত্র কোরআনের ৩০ তম পারায় অবস্থিত। এ সুরায় মোট ৩টি আয়াত রয়েছে এবং রুকু সংখ্যা ১ টি। সুরাটি মদিনায় অবতীর্ণ, তাই এটি মাদানি সুরা হিসেবে পরিচিত।
| إِذَا جَاءَ نَصْرُ اللَّهِ وَالْفَتْحُ | ১. ইজা জা-আ নাসরুল্লা-হি ওয়াল ফাত্হ। | যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে। |
| وَرَأَيْتَ النَّاسَ يَدْخُلُونَ فِي دِينِ اللَّهِ أَفْوَاجًا | ২. ওয়া-রাআইতান্না-মা ইয়াদখুলুনা ফি দিনিল্লা-হি আফওয়া-জা। | এবং তুমি মানুষকে দেখবে দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে (ইসলামে) প্রবেশ করছে। |
| فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ ۚ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا | ফাসাব্বিহ বিহামদি রাব্বিকা ওয়াসতাগফিরহু, ইন্নাহু কা-না তাউওয়া-বা। | তখন তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করো ও তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল। |
এই সুরাটি মূলত ঐতিহাসিক মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নবুওয়াতি মিশনের সফল সমাপ্তির ঘোষণা। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর বর্ণনা মতে, এটি একদফায় অবতীর্ণ হওয়া কোরআনের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সুরা। বিদায় হজের সময় এটি নাজিল হয়েছিল বলে অনেক বর্ণনা পাওয়া যায়। এর মাত্র ৮০ দিন পর নবীজি (সা.) ওফাত লাভ করেন।
মক্কা বিজয়ের মতো মহাসাফল্যের মুহূর্তে আল্লাহ তাআলা নবীজি (সা.)-কে (এবং তাঁর মাধ্যমে উম্মতকে) তিনটি কাজ করতে বলেছেন:
মা আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, সুরা নাসর নাজিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক নামাজের পর এই দোয়াটি পড়তেন—‘সুবহানাকা রব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলি’ অর্থাৎ হে আমাদের রব, আপনার পবিত্রতা ও প্রশংসা বর্ণনা করছি, হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।
সুরা নাসর আমাদের শেখায় যে, বড় কোনো সাফল্যের পর অহংকারী না হয়ে বরং আরও বেশি বিনয়ী ও ইস্তেগফারকারী হতে হবে। এই সুরার শিক্ষা আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনের প্রতিটি অর্জনে পাথেয় হতে পারে।

সুরা কাফিরুন কোরআনের ৩০তম পারায় অবস্থিত। সুরাটি মক্কায় নাজিল হয়েছে, তাই এটি মাক্কি সুরা হিসেবে পরিচিত। ফজিলতের দিক থেকে এ সুরা পাঠ করলে কোরআনের এক-চতুর্থাংশ তিলাওয়াতের সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
৬ ঘণ্টা আগে
ইসলামি শরিয়তে সহবাসের পর গোসল করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা—যেমন: এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। তবে নিয়ম হলো, পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ কাজা হওয়ার আগেই গোসল করে পবিত্র হওয়া ফরজ। নবী করিম (সা.) এবং সালফে সালেহিনের আমল অনুযায়ী, যত দ্রুত সম্ভব ফরজ গোসল করে নেওয়াটাই সুন্নাহ...
৯ ঘণ্টা আগে
পাপের প্রতি ঝোঁক মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিগতভাবেই মানুষের অন্তরে পাপকাজের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ ভুল করে, গোনাহে জড়িয়ে পড়ে, এটিই মানবিক বাস্তবতা। কিন্তু মানুষের এই দুর্বলতার পাশাপাশি আল্লাহ তাআলা নিজের পরিচয় দিয়েছেন অসীম দয়ালু ও পরম ক্ষমাশীল হিসেবে।
৯ ঘণ্টা আগে
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত হলো পবিত্র শবে বরাত। রাতটি শাবান মাসের মধ্যবর্তী হিসেবে হাদিসে এই রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ তথা অর্ধশাবানের রাত বলা হয়েছে। ফারসি ভাষায় শব অর্থ রাত এবং বরাত অর্থ মুক্তি। সমন্বিত অর্থ মুক্তির রাত। এই রাতে মহান আল্লাহ মুক্তি ও মাগফিরাতের দুয়ার খুলে দেন।
৯ ঘণ্টা আগে