সুরা মাউন (سورة الماعون) পবিত্র কোরআনের ১০৭তম সুরা। ৩০তম পারার এই সুরা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। ৭টি আয়াতবিশিষ্ট এই সুরায় আল্লাহ তাআলা কাফির ও মুনাফিকদের কিছু দুষ্কর্মের বর্ণনা দিয়েছেন এবং রিয়াকার (লোকদেখানো) নামাজিদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| সুরা নম্বর | ১০৭ |
| অবস্থান | ৩০তম পারা |
| আয়াত সংখ্যা | ৭টি |
| রুকু সংখ্যা | ১টি |
| অবতরণ | মক্কা (মাক্কি সুরা) |
بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ
(পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি)
১. أَرَأَيْتَ الَّذِي يُكَذِّبُ بِالدِّينِ
উচ্চারণ: আরা-আইতাল্লাজি ইউ-কাজ্জিবু বিদ্দিন।
অর্থ: তুমি কি দেখেছ তাকে, যে কর্মফল (পরকাল) অস্বীকার করে?
২. فَذَٰلِكَ الَّذِي يَدُعُّ الْيَتِيمَ
উচ্চারণ: ফাজা-লিকাল্লাজি ইয়াদুওউল ইয়াতিম।
অর্থ: সে তো সে-ই, যে এতিমকে রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেয় (ধাক্কা দেয়)।
৩. وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ الْمِسْكِينِ
উচ্চারণ: ওয়ালা ইয়া হুদ্দু আলা তা-আমিল মিসকিন।
অর্থ: এবং সে অভাবগ্রস্তকে অন্নদানে উৎসাহ দেয় না।
৪. فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ
উচ্চারণ: ফাওয়াইলুল লিল মুসাল্লিন।
অর্থ: সুতরাং বড় দুর্ভোগ সেই নামাজিদের জন্য,
৫. الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ
উচ্চারণ: আল্লাজিনা হুম আন সালা-তিহিম সাহুন।
অর্থ: যারা তাদের নামাজে উদাসীন (গাফলতি করে)।
৬. الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ
উচ্চারণ: আল্লাজিনা হুম ইউরা-উন।
অর্থ: যারা লোক দেখানোর জন্য তা (নামাজ) করে।
৭. وَيَمْنَعُونَ الْمَاعُونَ
উচ্চারণ: ওয়া ইয়ামনাউনাল মা-উন।
অর্থ: এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামান্য বস্তু দিতেও অস্বীকার করে।
সুরা মাউন মূলত মক্কাবাসীদের হেদায়াতের জন্য নাজিল করা হয়েছিল। তৎকালীন মক্কায় এমন কিছু লোক ছিল, যারা আখিরাত বিশ্বাস করত না। ফলে তারা এতিমদের ওপর জুলুম করত এবং অসহায়দের সাহায্য করত না। এই সুরায় আল্লাহ তাআলা তাদের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। একই সঙ্গে মদিনার মুনাফিকদের চরিত্রও এখানে ফুটে উঠেছে, যারা লোকদেখানোর জন্য নামাজ পড়ত, কিন্তু অন্তরে বিশ্বাস ছিল না।
এই সুরায় মহান আল্লাহ দুটি প্রধান দলের কঠোর সমালোচনা করেছেন:
সুরা মাউন আমাদের শেখায়, শুধু ইবাদত করলেই হবে না, বরং সেই ইবাদতে একাগ্রতা থাকতে হবে এবং তা হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। পাশাপাশি মানবসেবা ও পরোপকার যে ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ, এই সুরা তারই শিক্ষা দেয়।

নামাজ ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম এবং মুমিনের জন্য শ্রেষ্ঠ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার সালাত কায়েমের নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর তোমরা আমার স্মরণার্থে নামাজ কায়েম করো।’ (সুরা তহা: ১৪)। নামাজের প্রতিটি রুকন সঠিকভাবে পালন করা নামাজ কবুল হওয়ার পূর্বশর্ত। এর মধ্যে ‘রুকু’ অত্যন্ত...
৭ ঘণ্টা আগে
বিয়ে সামাজিক বন্ধন, অনন্য ইবাদত। বিয়ের আকদ বা মূল অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হলো বিয়ের খুতবা পাঠ করা। বর ও কনের ইজাব-কবুলের (প্রস্তাব ও গ্রহণ) ঠিক আগে আল্লাহর প্রশংসা ও কোরআনের আয়াত-সংবলিত এই খুতবা পাঠের মাধ্যমে একটি নতুন জীবনের বরকতময় সূচনা হয়।
৮ ঘণ্টা আগে
ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর ও শিক্ষণীয় ঘটনা হলো আসহাবুল ফিল বা হস্তী বাহিনীর ঘটনা। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে ইয়েমেনের দাম্ভিক শাসক আবরাহা পবিত্র কাবা শরিফ ধ্বংসের উদ্দেশ্যে এক বিশাল বাহিনী নিয়ে মক্কায় অভিযান চালায়। মানুষের তৈরি বিশাল শক্তির বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর কুদরতি শক্তির সেই লড়াইয়ের ইতিহাস আজও মুমিনদের...
১২ ঘণ্টা আগে
নামাজ মুমিনের মিরাজ এবং মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। নামাজের প্রতিটি রুকন ও আমলের রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। এর মধ্যে নামাজের শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, যা দরুদে ইবরাহিম নামে পরিচিত। নবী করিম (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের শ্রেষ্ঠতম...
১৮ ঘণ্টা আগে