
শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত হলো পবিত্র শবে বরাত। রাতটি শাবান মাসের মধ্যবর্তী হিসেবে হাদিসে এই রাতকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ তথা অর্ধশাবানের রাত বলা হয়েছে। ফারসি ভাষায় শব অর্থ রাত এবং বরাত অর্থ মুক্তি। সমন্বিত অর্থ মুক্তির রাত। এই রাতে মহান আল্লাহ মুক্তি ও মাগফিরাতের দুয়ার খুলে দেন। সৃষ্টিকুলের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।
আসুন, প্রথমেই জেনে নিই রাসুলুল্লাহর ভাষ্য থেকে শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে সহিহ হাদিসে কী রয়েছে? হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা অর্ধশাবানের রাতে সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন। (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৫৬৬৫)। এই হাদিসে শবে বরাতের গুরুত্ব ও ফজিলত প্রমাণিত হয়।
শবে বরাতের নামাজ
এই বরকতভরা রাতে অন্যান্য নফল ইবাদতের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো নামাজ। তবে মনে রাখতে হবে, এই রাতের জন্য বিশেষ পদ্ধতির কোনো নামাজ নেই। সব সময় যেভাবে নফল নামাজ আদায় করা হয়, সেভাবেই আদায় করবেন। অর্থাৎ দুই রাকাত করে যত রাকাত সম্ভব হয় আদায় করবেন এবং যেকোনো সুরা দিয়ে আদায় করবেন। নফল নামাজ দীর্ঘ করা এবং সিজদায় দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করা ভালো, যা কোনো কোনো হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয়।
এ ছাড়া বিশুদ্ধ মতানুসারে নফল নামাজ একাকী আদায় করা উত্তম। ফরজ নামাজ মসজিদে জামাতের সঙ্গে আদায় করা ওয়াজিব। এরপর যা কিছু নফল নামাজ আদায় করার, তা নিজ নিজ ঘরে একাকী আদায় করা উত্তম। এসব নফল আমলের জন্য দলে দলে মসজিদে এসে সমবেত হওয়ার প্রমাণ হাদিস শরিফে কোথাও নেই। আর সাহাবায়ে কেরামের যুগেও এমন রেওয়াজ ছিল না। তবে আবশ্যক বা জরুরি মনে করা ছাড়া মানুষজন যদি মসজিদে এসে প্রত্যেকেই নিজ নিজ আমলে মশগুল থাকে, একে অন্যের আমলে ব্যাঘাত সৃষ্টির না করে, তবে কোনো আপত্তি নেই।
শবে বরাত বিষয়ে সতর্কতা
প্রসঙ্গত, শবে বরাতের নামাজ সম্পর্কে বিভিন্ন বই-পুস্তকে নামাজের যে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন লেখা আছে, অর্থাৎ ‘এত রাকাত হতে হবে, প্রতি রাকাতে এই এই সুরা এতবার পড়তে হবে’ এগুলো সঠিক নয়। হাদিস শরিফে এ ধরনের কোনো বিধান বর্ণিত হয়নি। এগুলো শরিয়তসম্মত নয়, মানুষের মনগড়া পন্থা; যা পরিত্যাজ্য। (ইকতিজাউস সিরাতিল মুস্তাকিম: ২/৬৩১-৬৪১; মারাকিল ফালাহ: পৃ. ২১৯)
মনে রাখার বিষয় হলো, শবে বরাতের ইবাদত নিয়ে নানা রকমের বক্তব্য রয়েছে। শবে বরাতের ফজিলতকে অস্বীকার করা যেমন ভুল, তদ্রূপ মনগড়া কথাবার্তায় বিশ্বাসী হওয়াও ভুল। তাই আমাদের সতর্ক থেকে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করতে হবে। এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই যে রাত জেগে যেকোনো নফল আমল করা মুস্তাহাব। সুতরাং এই রাতে নামাজের পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার, দোয়া-ইস্তেগফার ইত্যাদি নেক আমলের প্রতি আমরা গুরুত্বারোপ করব।
লেখক: খতিব, মুহাদ্দিস ও গবেষক

সুরা কাফিরুন কোরআনের ৩০তম পারায় অবস্থিত। সুরাটি মক্কায় নাজিল হয়েছে, তাই এটি মাক্কি সুরা হিসেবে পরিচিত। ফজিলতের দিক থেকে এ সুরা পাঠ করলে কোরআনের এক-চতুর্থাংশ তিলাওয়াতের সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
৬ ঘণ্টা আগে
সুরা নাসর (سورة النصر) পবিত্র কোরআনের ১১০ তম সুরা। এটি পবিত্র মদিনায় অবতীর্ণ হওয়া সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ সুরা। মাত্র ৩টি আয়াতের এই ছোট সুরাটিতে ইসলামি মিশনের পূর্ণতা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইহকাল ত্যাগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। একে ‘সুরা তাওদি’ বা বিদায়ের সুরা নামেও অভিহিত করা হয়।
৬ ঘণ্টা আগে
ইসলামি শরিয়তে সহবাসের পর গোসল করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা—যেমন: এক ঘণ্টা বা দুই ঘণ্টা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি। তবে নিয়ম হলো, পরবর্তী ওয়াক্তের নামাজ কাজা হওয়ার আগেই গোসল করে পবিত্র হওয়া ফরজ। নবী করিম (সা.) এবং সালফে সালেহিনের আমল অনুযায়ী, যত দ্রুত সম্ভব ফরজ গোসল করে নেওয়াটাই সুন্নাহ...
৯ ঘণ্টা আগে
পাপের প্রতি ঝোঁক মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিগতভাবেই মানুষের অন্তরে পাপকাজের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করেছেন। মানুষ ভুল করে, গোনাহে জড়িয়ে পড়ে, এটিই মানবিক বাস্তবতা। কিন্তু মানুষের এই দুর্বলতার পাশাপাশি আল্লাহ তাআলা নিজের পরিচয় দিয়েছেন অসীম দয়ালু ও পরম ক্ষমাশীল হিসেবে।
৯ ঘণ্টা আগে