রমজান কেবল একটি পবিত্র মাসের নাম নয়; এটি মানুষের জীবন পুনর্গঠনের এক ঐশী কর্মশালা। এই মাস আসে মানুষকে ভেতর থেকে বদলে দেওয়ার জন্য, প্রবৃত্তির দাসত্ব ভেঙে আল্লাহর গোলামিতে প্রবেশ করানোর জন্য। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেকেই রমজানের জন্য অপেক্ষা করেন, অথচ প্রস্তুতি নেন না। ফলে রমজান এসে চলে যায়, কিন্তু জীবনে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আর ধরা দেয় না।
আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর—যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা বাকারা: ১৮৩)
এই আয়াত আমাদের জানিয়ে দেয়—রমজানের মূল লক্ষ্য তাকওয়া। আর তাকওয়া হঠাৎ করে জন্ম নেয় না; এটি আসে সচেতন প্রস্তুতি, আত্মসংযম ও ধারাবাহিক সাধনার মাধ্যমে।
রমজানের প্রস্তুতি শুরু হতে হবে নিয়ত শুদ্ধ করার মাধ্যমে। রোজা যেন কেবল সামাজিক রীতি বা অভ্যাসে পরিণত না হয়; বরং তা হোক একান্তভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।’ (সহিহ্ বুখারি: ১; সহিহ্ মুসলিম: ১৯০৭)। নিয়ত শুদ্ধ না হলে আমলের বাহ্যিক রূপ থাকে, কিন্তু তার আত্মা হারিয়ে যায়।
রমজানের আগে নিজের জীবনের দিকে ফিরে তাকানো অপরিহার্য। ছোট-বড় গুনাহ, আল্লাহর হুকুম পালনে অবহেলা, মানুষের হক নষ্ট—সবকিছুর জন্য আন্তরিক তওবার মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসতে হবে। নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে তওবা করে, সে এমন যেন তার কোনো গুনাহই নেই।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ: ৪২৫০)। তওবা মানে কেবল অতীতের জন্য অনুতাপ নয়; বরং ভবিষ্যতের জন্য আত্মসংযমের দৃঢ় অঙ্গীকার।
অনেকেই রমজানে এসে ইবাদতের চাপ অনুভব করেন। কারণ, বছরের অন্য সময় আত্মিক চর্চার অভাব থাকে। তাই রমজানের আগে থেকেই নফল নামাজ, জিকির, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। এতে রমজান হয়ে ওঠে আনন্দময়, ভারী নয়।
রমজান কোরআনের মাস। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘রমজান মাস—যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে, যা মানুষের জন্য হেদায়াত।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)। এই মাসে কোরআন শুধু পাঠের বিষয় নয়; বরং চিন্তা, চরিত্র ও জীবনে বাস্তব প্রয়োগের দিশারি হয়ে উঠতে হবে।
রমজানের প্রস্তুতি মানে কেবল খাদ্য সংযম নয়; বরং জিহ্বা, দৃষ্টি ও অন্তরের সংযম। মিথ্যা, গিবত, হিংসা ও অশ্লীলতা রোজার আলো নিভিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোরভাবে বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও মন্দ কাজ পরিত্যাগ করে না, তার খাদ্য ও পানীয় পরিত্যাগে আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ (সহিহ্ বুখারি: ১৯০৩)
রমজান মানুষকে নিজের কষ্টের মধ্য দিয়ে অন্যের কষ্ট অনুভব করতে শেখায়। নবী (সা.) রমজানে সবচেয়ে বেশি দানশীল ছিলেন। (সহিহ বুখারি: ৬)। দরিদ্র, অসহায় ও প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানো রমজানের চেতনারই বাস্তব রূপ।
রমজানকে ফলপ্রসূ করতে হলে প্রয়োজন সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা। অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা, অতিভোজন ও ভোগবাদী ইফতার সংস্কৃতি পরিহার করে ইবাদতকেন্দ্রিক একটি রুটিন গড়ে তুলতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রমজান এলে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।’ (সহিহ মুসলিম: ১০৭৯)
লেখক: শিক্ষক, মা’হাদুল মাদীনা যাত্রাবাড়ী, ঢাকা

আকিকা নবজাতক শিশুর আগমনে শুকরিয়া আদায়ের অন্যতম মাধ্যম। আকিকা ইসলামি ঐতিহ্যের অংশ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নতও এটি। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাতি হাসান ও হোসাইনের পক্ষ থেকে দুটি করে বকরি জবেহ করেছেন।’ (সুনানে আবু দাউদ)
২ ঘণ্টা আগে
দাম্পত্যজীবনে অনেক সময় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যেখানে স্বামী-স্ত্রীর একত্রে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ইসলাম ধর্ম দাম্পত্যসম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিলেও একান্ত নিরুপায় অবস্থায় ‘তালাক’ বা বিচ্ছেদের অনুমতি দিয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
নামাজের শুরুতে তাকবিরে তাহরিমা বা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বাঁধার পর প্রথম যে দোয়াটি পড়া হয়, তাকে ‘সানা’ বলা হয়। সানা পাঠ করা সুন্নতে মুআক্কাদা। একা নামাজ আদায়কারী, ইমাম ও মুক্তাদি—সবার জন্যই সানা পড়া সুন্নত।
৬ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১১ ঘণ্টা আগে