ইসলামে ব্যবসায় উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য বিশেষ ফজিলত ও মর্যাদার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যবসার ক্ষেত্রে ইসলামের সুনির্দিষ্ট নীতি রয়েছে। এসবের মাধ্যমে ব্যবসাকে প্রতারণা ও অন্যায়মুক্ত করা হয়েছে। এখানে আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত কয়েকটি মন্দ দিক তুলে ধরা হলো, যা ইসলামে নিষিদ্ধ।
প্রতারণা
ব্যবসায় প্রতারণা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ। একদিন রাসুল (সা.) এক শস্যবিক্রেতার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন তিনি শস্যের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দেখলেন, তা ভেজা বা নিম্নমানের কি না। এরপর রাসুল (সা.) বললেন, ‘হে পণ্যের মালিক, এটা কী?’ লোকটি বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল, এতে বৃষ্টি পড়েছিল।’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘তুমি এগুলো শস্যস্তূপের ওপরে রাখলে না কেন? তাহলে লোকজন দেখতে পেত। যে ধোঁকা দেয়, সে আমার উম্মত নয়।’ (মুসলিম: ১০২)
ওজনে গড়বড়
ওজনে বেশি-কম করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা ওজনে কম দেয়, যারা মানুষের কাছ থেকে মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণমাত্রায় গ্রহণ করে আর দেওয়ার সময় কম দেয়।’ (সুরা মুতাফফিফিন: ১-৩) রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন কোনো সম্প্রদায়ের লোক ওজনে বা মাপে কম দেয়, তখন শাস্তিস্বরূপ তাদের খাদ্যশস্য উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং দুর্ভিক্ষ তাদের গ্রাস করে।’ (আত তারগিব ওয়াত তারহিব: ৭৮৫)
মিথ্যা শপথ
পণ্যের দাম বা অন্য বিষয়ে মিথ্যা শপথ করা নিষেধ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ তিন ব্যক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের কথা বলবেন না, তাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবেন না, তাদের পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি। তাদের একজন হলো, যে তার ব্যবসায়িক পণ্য মিথ্যা কসম খেয়ে বিক্রি করে।’ (মুসলিম: ১০৬)
সুদ মেশানো
ব্যবসায়ের সঙ্গে সুদি লেনদেন যুক্ত করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ। সুদ অন্যতম কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা সুদ খায়, তারা সেই লোকের মতো করে (কবর থেকে) উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দিয়েছে। এটা এ জন্য যে তারা বলে, বেচাকেনা সুদের মতোই। অথচ আল্লাহ বেচাকেনা হালাল করেছেন আর সুদ হারাম করেছেন।’ (সুরা বাকারা: ২৭৫)
মোজাবানা
ব্যবসায় মোজাবানা করা নিষেধ। এর ব্যাখ্যা সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) মোজাবানা থেকে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ বাগানে যদি খেজুরগাছ থাকে, তবে তার কাঁচা খেজুর পরিমাপকৃত খুরমার বিনিময়ে বেচাকেনা করা; আর যদি আঙুর থাকে, তবে তা পরিমাপকৃত কিশমিশের বিনিময়ে কেনাবেচা করা। আর যদি তা খেতের ফসল হয়, তবে তা পরিমাপকৃত গমের বিনিময়ে কেনা—এসব থেকে তিনি নিষেধ করেছেন। (মুসলিম: ৩৭৫৫)
পণ্য আত্মসাৎ
ব্যবসায় অন্যের টাকা বা পণ্য আত্মসাৎ করা ইসলামে কঠোরভাবে নিষেধ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস কোরো না। তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয়, তা বৈধ।’ (সুরা নিসা: ২৯)
ঠকা বা ঠকানো
ব্যবসায় নিজে যেমন ঠকা যাবে না এবং অন্যকেও ঠকানো যাবে না। এটিই ইসলামের নির্দেশনা। এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর কাছে এসে অভিযোগ করল, সে বেচাকেনা করলেই ঠকে। রাসুল (সা.) বললেন, ‘যখন তুমি বেচাকেনা করবে, তখন বলে দেবে, ঠকবাজির দায়িত্ব আমি নেব না। তোমার জন্য তিন দিন পর্যন্ত পণ্য ফেরত দেওয়ার অধিকার রয়েছে।’ (বুখারি: ৬৯৬৪)
খতিব: আবারপাড়া জামে মসজিদ ও ঈদগাহ, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা

হজ মূলত মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার এক নিবিড় আধ্যাত্মিক সংযোগের মাধ্যম। হজের প্রতিটি ধাপ—ইহরাম বাঁধা, কাবা শরিফ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সায়ি ও আরাফাতের ময়দানে অবস্থান—সবকিছুই নির্দিষ্ট দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। হজের সফরকে অর্থবহ ও পুণ্যময় করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দোয়া অর্থসহ জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
৮ ঘণ্টা আগে
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম। এটি এমন একটি ইবাদত, যাতে শারীরিক ও আর্থিক উভয় শ্রমের সমন্বয় রয়েছে। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ।
১৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৭ ঘণ্টা আগে
কোনো কোনো অঞ্চলে এ কথা প্রচলিত আছে—কোরবানির ঈদের দিন হাঁস-মুরগি জবাই করা যায় না। এ বিষয়ে ইসলামের বিধান হলো, হাঁস-মুরগি দিয়ে কোরবানি আদায় হয় না, তা ঠিক। কিন্তু এগুলো কোরবানির ঈদের দিন জবাই করা যাবে না—এমন কথা ঠিক নয়। কোরবানির দিনগুলোয় মাংস খাওয়ার জন্য হাঁস-মুরগি জবাই করা যাবে।
১ দিন আগে