
কোরবানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে ঈদের বেশ কিছু দিন আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে জমে পশুর হাট। হাট যাঁরা পরিচালনা করেন, তাঁরা হাটের ভাড়া হিসেবে বিক্রীত পশুপ্রতি কিছু অর্থ নির্ধারণ করেন, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘হাসিল’ বলা হয়।
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে প্রচলিত এই হাসিলের বিধান কী? কোরবানির পশু বেচা-বিক্রির সময় হাটের হাসিল কে আদায় করবেন—ক্রেতা নাকি বিক্রেতা? ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে? এমন প্রশ্ন অনেকের মনে।
ইসলামবিষয়ক গবেষকদের মতে, পশুর হাট বসানোর পর জমির ভাড়া হিসেবে ক্রেতা বা বিক্রেতা থেকে হাসিলের নামে যে টাকা উশুল করা হয়, তাতে শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে কোনো বাধা নেই। এটি নেওয়া যাবে।
হাটের এই হাসিল কে আদায় করবে—তা নির্ধারণ হবে দেশীয় আইন ও প্রচলিত নিয়মনীতির ওপর নির্ভর করে। কোথাও বিক্রেতার হাসিল দেওয়ার প্রচলন থাকলে বিক্রেতা দেবেন, অথবা ক্রেতার দেওয়ার প্রচলন থাকলে ক্রেতা হাসিল পরিশোধ করবেন।
আরেকটি বিষয় হলো, কোনো কোনো হাটে দেখা যায়—হাটের ইজারাদারেরা হাসিলের নামে এত বেশি টাকা নেন, যা হাসিল প্রদানকারীর ওপর জুলুমের পর্যায়ে পড়ে। এমনটি কোনোভাবেই করা যাবে না।
ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশু ক্রয় ও বিক্রয়ে সরকার নির্ধারিত হাসিলের বাইরে টাকা নিয়ে অযথা কাউকে হয়রানি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তথ্যসূত্র: ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৪/৪২৬, কিফায়াতুল মুফতি: ৭/৩৩১, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত: ১১/৩১৮
আরও পড়ুন:

মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এই পবিত্র দিনের আনন্দ ও ইবাদত শুরু হয় ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজের মাধ্যমে। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আজকের দিনে আমরা সর্বপ্রথম ঈদের নামাজ আদায় করব, এরপর কোরবানি করব...।’ (সহিহ্ বোখারি: ৯৬৮)
১০ ঘণ্টা আগে
প্রত্যেক সামর্থ্যবান পুরুষ-নারীর ওপর কোরবানি ওয়াজিব। আল্লাহ ও তার রাসুলের শর্তহীন আনুগত্য, ত্যাগ ও বিসর্জনের শিক্ষাও আছে কোরবানিতে। নবীজি (সা.)-কে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘আপনি আপনার রবের জন্য নামাজ আদায় করুন এবং কোরবানি দিন।’ (সুরা কাউসার: ২)
১১ ঘণ্টা আগে
কোরবানির পশুর প্রথম রক্তবিন্দু প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আল্লাহ তাআলা বান্দার গোনাহসমূহ ক্ষমা করে দেন। তবে এই ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য পশু জবাইয়ের সঠিক নিয়ম জানা থাকা প্রয়োজন।
১৪ ঘণ্টা আগে
ইসলামের ইতিহাসে বিদায় হজের ভাষণ এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মানুষের অধিকার ও মুক্তি নিশ্চিত করতে এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্য প্রতিষ্ঠায় এই ভাষণের তাৎপর্য অনস্বীকার্য। হজ ফরজ হওয়ার পর মহানবী (সা.) দশম হিজরিতেই প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে পবিত্র হজ পালন করেন। এ হজ ইতিহাসে বিদায় হজ নামে পরিচিতি লাভ করে।
১৬ ঘণ্টা আগে