
ইসলাম মানবতা, দয়া ও সহানুভূতির ধর্ম। মানুষ মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করবে, বিপদে-আপদে পরস্পরের পাশে দাঁড়াবে, অসুস্থদের পাশে গিয়ে তাদের মানসিক শক্তি জোগাবে এবং সাধ্যমতো সেবা-শুশ্রূষা করবে, ক্ষুধার্তদের খাবার দেবে, পিপাসার্তদের পিপাসা মেটাবে, বস্ত্রহীনদের বস্ত্র পরাবে, অন্যায়ভাবে বন্দী হওয়া লোকদের মুক্তির ব্যবস্থা করবে—এ সবই ইসলামের নির্দেশ।
দয়া ও সহানুভূতির মূর্ত প্রতীক মহানবী (সা.) অসংখ্য হাদিসে তাঁর অনুসারীদের সৃষ্টির প্রতি দয়াশীল হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। পাশাপাশি কেয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে এ ব্যাপারে কঠিন জবাবদিহির মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত একটি হাদিসে তিনি বিচার দিবসের একটি চিত্র তুলে ধরেছেন। মহানবী (সা.) বলেন, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘হে আদমসন্তান, আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, তুমি আমাকে দেখতে আসোনি।’ সে বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক, আপনি তো সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা, আপনাকে দেখতে যাওয়া কীভাবে সম্ভব?’
তখন আল্লাহ বলবেন, ‘তুমি কি জানো না, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল আর তুমি তাকে দেখতে যাওনি? তোমার কি জানা ছিল না, যদি তুমি তাকে দেখতে যেতে, তাহলে তার কাছে আমাকে পেতে?’ এরপর বলবেন, ‘হে আদমসন্তান, আমি তোমার কাছে খাবার চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে খাবার দাওনি।’
সে বলবে, ‘হে আমার প্রতিপালক, আমি কী করে আপনাকে খাবার দেব, যেখানে আপনি হলেন সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা?’
তিনি বলবেন, ‘তোমার কি জানা আছে, আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে খাবার চেয়েছিল, কিন্তু তুমি দাওনি? তোমার কি জানা ছিল না, যদি তুমি তাকে খাওয়াতে, তাহলে আমার কাছে তার প্রতিদান পেতে?’
এরপর বলবেন, ‘হে আদমসন্তান, আমি তোমার কাছে পানি চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে পানি দাওনি।’ সে বলবে, ‘হে আমার রব, আমার পক্ষে আপনাকে পানি পান করানো কীভাবে সম্ভব, যেখানে আপনি হলেন সমগ্র বিশ্বের পালনকর্তা?’
আল্লাহ বলবেন, ‘আমার অমুক বান্দা তোমার কাছে পানি চেয়েছিল, কিন্তু তুমি তাকে পানি দাওনি। তোমার কি জানা ছিল না, যদি তুমি তাকে পানি পান করাতে, তাহলে তার প্রতিদান আমার কাছে পেতে?’
এই হাদিসে বিশেষভাবে মানুষের প্রতি সহানুভূতির তিনটি দিক নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এক. অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া
মানুষ যখন অসুস্থ হয়, তখন মানসিকভাবে সে অনেক ভেঙে পড়ে। এমন অবস্থায় যখন তার আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধব কাছে আসে এবং সান্ত্বনা দেয়, তখন সে হৃদয়ে প্রশান্তি অনুভব করে, বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা পায়। এর ফলে সামাজিক বন্ধনও সুদৃঢ় হয়। তাই ইসলামে এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা অসুস্থ লোককে দেখতে যাও।’ (বুখারি)
অসুস্থ অমুসলিম ব্যক্তিকে দেখতে গেলেও সওয়াব পাওয়ার কথা এসেছে হাদিসে। একবার রাসুল (সা.) এক ইহুদি অসুস্থ বালককে দেখতে গিয়েছিলেন। তাঁর এমন অসাম্প্রদায়িক আচরণ দেখে বালকটি মৃত্যুর পূর্বক্ষণে কালিমা পড়ে মুসলমান হয়ে গিয়েছিল। (বুখারি)
শুধু মানুষই নয়, যেকোনো জীবনের প্রতি দয়া করাই রাসুল (সা.)-এর শিক্ষা। তিনি বলেছেন, ‘প্রত্যেক জীবের প্রতি দয়া ও সহানুভূতি প্রদর্শনে সওয়াব রয়েছে।’ (বুখারি)
দুই. ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া
ইসলামে খাবার খাওয়ানো একটি স্বতন্ত্র ইবাদত। বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.)কে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, ‘ইসলামে কোন আমলটি সর্বোত্তম?’ তিনি উত্তর দিলেন, ‘খাবার খাওয়ানো এবং পরিচিত-অপরিচিত সবাইকে সালাম দেওয়া।’ (বুখারি ও মুসলিম)
আরেক হাদিসে বলেন, ‘তোমরা ক্ষুধার্তকে আহার করাও।’ (বুখারি) আরেক হাদিসে বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আমার প্রতি ইমান আনেনি, যে পরিতৃপ্ত হয়ে রাত অতিবাহিত করে, অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে এবং এ কথা সে জানে।’ (বাজ্জার, তাবরানি)
শুধু মানুষ নয়, ক্ষুধার্ত পশু-পাখিদের আহার করাতেও ইসলাম নির্দেশ দেয়। এক নারী নিজের পোষ্য বিড়ালকে অনাহারে রাখার কারণে জাহান্নামে গেছে—এমন বর্ণনা এসেছে হাদিসে। (বুখারি)
তিন. পানি পান করানো
তৃষ্ণার্তকে পানি পান করানো এবং মানুষ ও পশুপাখির জন্য পুকুর, খাল, নলকূপ ইত্যাদি খনন করা অনেক বড় সওয়াবের কাজ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মৃত্যুর পরেও যেসব আমলের সওয়াব লিপিবদ্ধ হতে থাকে, সেগুলোর একটি হচ্ছে নহর প্রবাহিত করা অর্থাৎ পুকুর, খাল, নলকূপ ইত্যাদি খনন করে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য পানির ব্যবস্থা করা।’ (ইবনে মাজাহ)
সাহাবি সাদ বিন উবাদাহ (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসুল, আমার মা মারা গেছেন, এখন আমি তাঁর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম কোন সদকাটা করতে পারি?’ রাসুল (সা.) জবাব দিলেন, ‘পানি পান করানো।’ (মুসনাদে আহমদ)
তৃষ্ণার্তকে পানি পান করালে আল্লাহ এত সন্তুষ্ট হন যে, এর ফলে তিনি গুনাহ মাফ করে দেন। বর্ণিত আছে, জনৈক পাপিষ্ঠ লোক একটি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করালে আল্লাহ তাআলা তার সব গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। (বুখারি ও মুসলিম)
উল্লেখিত তিনটি বিষয় ছাড়াও সৃষ্টির প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শনের আরও অসংখ্য দিকের ফজিলত এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা থেকে বিরত থাকার শাস্তির কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দিক হচ্ছে, বস্ত্রহীনদের বস্ত্র দেওয়া, অন্যায়ভাবে বন্দী হওয়া লোকদের মুক্তির ব্যবস্থা করা, গৃহহীনদের গৃহের ব্যবস্থা করা, বিধবাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়া এবং এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রতিপালন ও শিক্ষা–দীক্ষার ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।
লেখক: ইসলাম বিষয়ক গবেষক

আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুসারে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী এক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদপুরের আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ড ‘ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মোহাম্মদপুর’-এর...
৬ ঘণ্টা আগে
বইটিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ইরান, ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তপ্ত সামরিক পরিস্থিতির কারণে সফর বিলম্বিত হওয়ার অভিজ্ঞতা এতে বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া সফরের পথে কাতারে ১২ ঘণ্টার অবস্থানকালীন পর্যবেক্ষণ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি, ২০২৫ সালের...
৭ ঘণ্টা আগে
হিজরি বর্ষপঞ্জি মুসলিম উম্মাহর ইমানি চেতনা, ত্যাগ, ইবাদত এবং সোনালি ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। পবিত্র কোরআনে বছরকে ১২টি মাসে বিভক্ত করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি মাসের নাম, অর্থ এবং নেপথ্যের ইতিহাস মুমিনের অন্তরকে এক বিশেষ রুহানি আবেশে উদ্বেলিত করে।
৯ ঘণ্টা আগে
পবিত্রতা অর্জন মুমিনের জীবনের এক অনুপম সৌন্দর্য। আত্মাকে স্নিগ্ধ রাখা এবং প্রভুর দরবারে সিজদানত হওয়ার প্রাথমিক চাবিকাঠি হলো অজু। কেবল নামাজ বা কোরআন তিলাওয়াতই নয়, সার্বক্ষণিক অজু অবস্থায় থাকার আত্মিক ও মানসিক ফজিলত অপরিসীম।
১৫ ঘণ্টা আগে