Ajker Patrika

‘এক মুমিন অন্য মুমিনের আয়না’—এ কথার অর্থ কী?

সাকী মাহবুব
‘এক মুমিন অন্য মুমিনের আয়না’—এ কথার অর্থ কী?
ফাইল ছবি

মানবজীবনে মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ় ও পরিচ্ছন্ন হওয়া প্রয়োজন। ইসলাম সমাজকে সুশৃঙ্খল ও ভালোবাসাপূর্ণ রাখতে ভ্রাতৃত্ববোধের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে। মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রকৃত রূপ বোঝাতে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এক চমৎকার উপমা ব্যবহার করে ইরশাদ করেছেন—‘মুমিন মুমিনের আয়না।’ (সুনান আবু দাউদ)

এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর বাণীর ভেতরে লুকিয়ে আছে মানবীয় সম্পর্কের এক সুমহান দর্শন। আয়নার প্রধান কাজ হলো মানুষের সামনে তার আসল রূপ ফুটিয়ে তোলা। মুখে কোনো ময়লা বা ত্রুটি থাকলে আয়না তা কোনো রাখঢাক ছাড়াই নিখুঁতভাবে দেখিয়ে দেয়। একইভাবে একজন প্রকৃত মুমিন তার ভাই বা বোনের ক্ষেত্রেও আয়নার ভূমিকা পালন করে। মানুষ স্বভাবগতভাবেই ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নয়, কিন্তু মানুষ নিজের দোষ সহজে দেখতে পায় না।

একজন মুমিন যখন তার ভাইয়ের মধ্যে কোনো ভুল বা ত্রুটি দেখতে পায়, তখন সে তা পরনিন্দা বা শত্রুতা হিসেবে না নিয়ে একজন নিখাদ শুভাকাঙ্ক্ষীর মতো একান্ত গোপনে তা শুধরে দেয়। আয়না যেমন কখনো মিথ্যা বলে না বা কাউকে প্রতারিত করে না, তেমনি একজন মুমিনও তার ভাইয়ের ভালো চায়। সে তার অনুপস্থিতিতে তার সম্মান ও সম্পদ রক্ষা করে এবং বিপথগামী হওয়া থেকে বাঁচাতে কল্যাণকর পরামর্শ দেয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, ‘মুমিন মুমিনের ভাই; সে তার সম্পত্তি রক্ষা করে এবং তার অনুপস্থিতিতেও তাকে পাহারা দেয়।’ (জামে তিরমিজি)

আজকের ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমাজে কেউ ভুল ধরিয়ে দিলে অনেকে তাকে শত্রুতা বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বলে মনে করেন। ফলে সমাজে অন্যায় ও নৈতিক অবক্ষয় দিন দিন বাড়ছে। অথচ পারস্পরিক সদ্ভাব বজায় রাখতে ‘মুমিন মুমিনের আয়না’ নীতির প্রাসঙ্গিকতা অপরিসীম।

পরনিন্দা ও দোষচর্চা বাদ দিয়ে আমরা যদি আয়নার মতো নিখাদ ভালোবাসায় একে অপরের ভুলত্রুটি শুধরে দিতে পারি, তবে সমাজ থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে পারস্পরিক বিশ্বাস, ভ্রাতৃত্ব ও সুন্দরের এক অনন্য সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত