সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত একটি শব্দ ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামী। চিকিৎসার মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তনকারীদের এই নামে ডাকা হয়। বর্তমান বিশ্বে এটির জন্য আন্দোলন-সংগ্রামও করছে একদল মানুষ। ট্রান্সজেন্ডারবাদ বা রূপান্তরকামিতার সংজ্ঞা মতে, একজন পুরুষের যদি নিজেকে নারী বলে মনে হয়, তাহলে সে একজন নারী। সমাজ ও আইন তাকে নারী বলেই বিবেচনা করবে। একইভাবে কোনো নারীরও যদি নিজেকে পুরুষ মনে হয়, তাহলে সে পুরুষ হিসেবে বিবেচিত হবে। এবং তারা চিকিৎসার মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করার অধিকার রাখে। এমন দৃষ্টিভঙ্গি ইসলামে অনুমোদিত নয়।
এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার, তা হলো ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়া মোটেও এক নয়। ট্রান্সজেন্ডার আন্দোলন মোটেও হিজড়া বা জন্মগত তৃতীয় লিঙ্গের অধিকার আদায়ের আন্দোলন নয়। এই দুটি জিনিস একেবারেই আলাদা। ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষ হয় সম্পূর্ণ পুরুষ অথবা নারী। যাদের দেহ শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য তৈরি, তারা পুরুষ আর যাদের দেহ ডিম্বাণু উৎপাদনের জন্য তৈরি, তারা নারী। এটা শুধু বাহ্যিক অঙ্গপ্রতঙ্গের বিষয় নয়, পুরো প্রজননব্যবস্থার বিষয়। সুতরাং এখন যারা জন্মগতভাবে অস্বাভাবিক এবং কিছু যৌন ত্রুটি বা জটিলতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, তারা হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গ। ইংরেজিতে বলা হয় ইন্টারসেক্স। হিজড়াদের বিধান ও অধিকার ইসলামে স্বীকৃত।
ট্রান্সজেন্ডাররা ইন্টারসেক্স নয়, তারা সম্পূর্ণরূপে পুরুষ বা নারী হিসেবে জন্মগ্রহণ করে এবং পরে ওই লিঙ্গের প্রতি অসন্তুষ্টির কারণে লিঙ্গ পরিবর্তন করে। এটি ইসলামে দেহ বিকৃতির শামিল। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘আমি (আল্লাহ) মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম গঠনে’। (সুরা ত্বিন: ৪) তিনি মানুষকে যে স্বাভাবিক দেহাবয়ব দিয়ে সৃষ্টি করেছেন, সেটাই তার জন্য উৎকৃষ্ট নিয়ামত। ইসলামি বিধিবিধানের বাইরে গিয়ে একে পরিবর্তন-পরিবর্ধনের অধিকার কারোর নেই। লিঙ্গ পরিবর্তন ইসলামে জঘন্যতম হারাম ও কবিরা গুনাহ। এটার সঙ্গে আপস করার সুযোগ নেই।
হাদিসে এসেছে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুল (সা.) নারীর বেশধারী পুরুষদের এবং পুরুষের বেশধারী নারীদের অভিসম্পাত করেছেন।’ (বুখারি: ৫৮৮৫) সব মাজহাবের ফকিহগণ এ বিষয়ে একমত যে ট্রান্সজেন্ডারবাদ আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিতে বিকৃতি সাধন, যা সুস্পষ্ট হারাম। আবার অনেকের ভাষ্যমতে এটি কুফরি। তাফসিরে কুরতবিতে ইমাম কুরতবি (রহ.) বলেন, আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিতে কোনোরূপ পরিবর্তন করা নাজায়েজ। (তাফসিরে কুরতুবি: ৫ / ৩৯৩)
লেখক: অনুবাদক ও গবেষক

হজ মূলত মহান আল্লাহর সঙ্গে বান্দার এক নিবিড় আধ্যাত্মিক সংযোগের মাধ্যম। হজের প্রতিটি ধাপ—ইহরাম বাঁধা, কাবা শরিফ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সায়ি ও আরাফাতের ময়দানে অবস্থান—সবকিছুই নির্দিষ্ট দোয়া ও জিকিরের মাধ্যমে পূর্ণতা পায়। হজের সফরকে অর্থবহ ও পুণ্যময় করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দোয়া অর্থসহ জেনে নেওয়া প্রয়োজন।
৮ ঘণ্টা আগে
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে হজ অন্যতম। এটি এমন একটি ইবাদত, যাতে শারীরিক ও আর্থিক উভয় শ্রমের সমন্বয় রয়েছে। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলিমের ওপর জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ।
১৩ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৭ ঘণ্টা আগে
কোনো কোনো অঞ্চলে এ কথা প্রচলিত আছে—কোরবানির ঈদের দিন হাঁস-মুরগি জবাই করা যায় না। এ বিষয়ে ইসলামের বিধান হলো, হাঁস-মুরগি দিয়ে কোরবানি আদায় হয় না, তা ঠিক। কিন্তু এগুলো কোরবানির ঈদের দিন জবাই করা যাবে না—এমন কথা ঠিক নয়। কোরবানির দিনগুলোয় মাংস খাওয়ার জন্য হাঁস-মুরগি জবাই করা যাবে।
১ দিন আগে