রমজান মাসে এশার নামাজের পর জামাতের সঙ্গে বিশ রাকাত যে নামাজটি আদায় করা হয়, একে তারাবি বলা হয়। হাদিস শরিফে এর অসামান্য ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রাতে কিয়াম করবে তথা তারাবির নামাজ গুরুত্ব সহকারে আদায় করবে, আল্লাহ তাআলা তার অতীতের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেবেন।’ (বুখারি: ২০০৯)
মহানবী (সা.) সাহাবায়ে কেরামকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র তিন দিন তারাবির নামাজ পড়েছিলেন। কিন্তু হজরত ওমর (রা.) নিজ খেলাফতকালে সব সাহাবিদের সর্বসম্মতিক্রমে হজরত উবাই ইবনে কাআব (রা.)-এর ইমামতিতে সবাইকে একত্র করে তারাবির নামাজ আদায় করেন।
কোরআন তিলাওয়াত করে বিনিময় নেওয়া প্রসঙ্গে হাদিসে অনেক হুঁশিয়ারি এসেছে। হজরত আবদুর রহমান ইবনে শিবল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা কোরআন তিলাওয়াত করো, তবে তাতে বাড়াবাড়ি করো না এবং তার প্রতি বিরূপ হয়ও না। কোরআনের বিনিময় ভক্ষণ করো না এবং তা দিয়ে সম্পদ কামনা করো না।’ (মুসনাদে আহমদ: ৩ / ৪২৮; মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৫ / ২৪০)
অন্য বর্ণনায় এসেছে, ইমরান ইবনে হোসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তোমরা কোরআন তিলাওয়াত করো এবং আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করো। তোমাদের পরে এমন জাতি আসবে, যারা কোরআন পড়ে মানুষের কাছে প্রার্থনা করবে।’ (মুসনাদে আহমদ: ৪ / ৪৩৭; জামে তিরমিজি: ২ / ১১৯)
হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাকিল থেকে বর্ণিত, তিনি এক রমজান মাসে লোকদের নিয়ে তারাবি পড়লেন। এরপর ঈদের দিন উবাইদুল্লাহ ইবনে যিয়াদ তাঁর কাছে এক জোড়া কাপড় এবং পাঁচ শ দিরহাম পাঠালেন। তখন তিনি কাপড় জোড়া ও দিরহামগুলো এই বলে ফেরত দিলেন যে, আমরা কোরআনের বিনিময় গ্রহণ করি না।’ (মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা: ৫ / ২৩৭)
এখন প্রশ্ন হলো তারাবির নামাজে কোরআন খতম করে এর বিনিময়ে সুনির্দিষ্ট পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ হবে কিনা? এ প্রসঙ্গে আলিমদের দুরকম মত দেখা গেলেও অধিকাংশ আলিমের মত হলো, এ কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ হবে না। বাংলাদেশের স্বনামধন্য ইসলামি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ঢাকার মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়ার মুখপত্র মাসিক আলকাউসারে প্রকাশিত ফতোয়ায় এ বিষয়ে বলা হয়েছে—
‘খতম তারাবির বিনিময় দেওয়া-নেওয়া দুটোই নাজায়েজ। হাদিয়ার নামে দিলেও জায়েজ হবে না। এক মাসের জন্য নিয়োগ দিয়ে বেতন হিসাবে দিলেও জায়েজ নয়। কারণ এসব ক্ষেত্রেও প্রদেয় বেতন খতমের বিনিময় হওয়া স্বীকৃত। মোটকথা খতম তারাবির বিনিময় গ্রহণের জন্য কোনো ধরনের চতুরতা অবলম্বন করলেও তা জায়েজ হবে না। কারণ খতমে তারাবি নিরেট ইবাদত, যা নামাজ ও রোজার মতো মৌলিক ইবাদত-এর অন্তর্ভুক্ত। এ ধরনের ইবাদতের বিনিময় দেওয়া-নেওয়া সর্বসম্মতিক্রমে নাজায়েজ। এতে না কোনো মাজহাবের মতপার্থক্য আছে, না পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ফকিহগণের মাঝে কোনো মতভেদ আছে। ইমামতির বেতন ঠিক করা এবং তা আদায় করা যদিও পরবর্তী ফকীহগণের দৃষ্টিতে জায়েজ, কিন্তু খতম তারাবির বিনিময়টা ইমামতির জন্য হয় না; বরং তা মূলত খতমের বিনিময়ে হয়ে থাকে। আর তিলাওয়াতের বিনিময় গ্রহণ করা সকল ফকিহর কাছেই হারাম। এ ছাড়া পরবর্তী ফকিহগণ যে ইমামতির বেতন জায়েজ বলেছেন, সেটা হলো ফরজ নামাজের ইমামতি। সুন্নত জামাতের ইমামতি এর অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (মাসিক আল-কাউসার: আগস্ট-সেপ্টেম্বর সংখ্যা ২০১০)
ভারত-পাকিস্তানের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান থেকেও এ ফতোয়াই প্রদান করা হয়েছে। সুতরাং কোনো কৌশলের আশ্রয় গ্রহণ না করে এ টাকা গ্রহণ থেকে হাফেজদের বিরত থাকা উচিত। হ্যাঁ, যদি কোনো ব্যক্তি বিশেষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যক্তিগত কোনো হাদিয়া প্রদান করেন, সেটা তারাবির বিনিময় হিসেবে সাব্যস্ত হবে না।
লেখক: শিক্ষক

আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুসারে বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী এক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদপুরের আঞ্চলিক শিক্ষা বোর্ড ‘ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মোহাম্মদপুর’-এর...
৭ ঘণ্টা আগে
বইটিতে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিও বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ইরান, ইসরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তপ্ত সামরিক পরিস্থিতির কারণে সফর বিলম্বিত হওয়ার অভিজ্ঞতা এতে বর্ণিত হয়েছে। এ ছাড়া সফরের পথে কাতারে ১২ ঘণ্টার অবস্থানকালীন পর্যবেক্ষণ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি, ২০২৫ সালের...
৮ ঘণ্টা আগে
হিজরি বর্ষপঞ্জি মুসলিম উম্মাহর ইমানি চেতনা, ত্যাগ, ইবাদত এবং সোনালি ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল। পবিত্র কোরআনে বছরকে ১২টি মাসে বিভক্ত করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিটি মাসের নাম, অর্থ এবং নেপথ্যের ইতিহাস মুমিনের অন্তরকে এক বিশেষ রুহানি আবেশে উদ্বেলিত করে।
৯ ঘণ্টা আগে
পবিত্রতা অর্জন মুমিনের জীবনের এক অনুপম সৌন্দর্য। আত্মাকে স্নিগ্ধ রাখা এবং প্রভুর দরবারে সিজদানত হওয়ার প্রাথমিক চাবিকাঠি হলো অজু। কেবল নামাজ বা কোরআন তিলাওয়াতই নয়, সার্বক্ষণিক অজু অবস্থায় থাকার আত্মিক ও মানসিক ফজিলত অপরিসীম।
১৬ ঘণ্টা আগে