Ajker Patrika

সুরা মুলক অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ, ফজিলত ও আমলের নিয়ম

সুরা মুলক পবিত্র কোরআনের ৬৭তম সুরা। ‘মুলক’ শব্দের অর্থ সার্বভৌম ক্ষমতা, কর্তৃত্ব ও পূর্ণ রাজত্ব। সুরার প্রথম আয়াতেই আল্লাহ তাআলার নিরঙ্কুশ ক্ষমতার কথা এসেছে; সেখান থেকেই সুরাটির নামকরণ। অনেক সময় একে সুরা তাবারাক নামেও ডাকা হয়। কারণ, সুরাটি শুরু হয়েছে ‘তাবারাকাল্লাজি’ দিয়ে। এই সুরা প্রতিদিন তিলাওয়াত করা মুমিনের জন্য কবরের আজাব থেকে মুক্তির নিশ্চয়তাস্বরূপ। এ ছাড়াও সুরা মুলকের বিভিন্ন ফজিলত রয়েছে।

ইসলাম ডেস্ক 
সুরা মুলক অর্থসহ বাংলা উচ্চারণ, ফজিলত ও আমলের নিয়ম
সুরা মুলক।

সুরা মুলক (الملك) ৩০টি আয়াত ও ২ রুকুর সমন্বয়ে গঠিত। সুরা মুলক মক্কায় নাজিল হওয়া একটি মাক্কি সুরা। মাক্কি সুরার বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী এতে আকিদা, তাওহিদ, আখিরাত ও জবাবদিহির বিষয়গুলো গভীরভাবে আলোচিত হয়েছে। পবিত্র কোরআনের ২৯তম পারার শুরুতেই এই সুরার স্থান। এর আয়াতগুলো তুলনামূলকভাবে ছোট, তবে অর্থ ও বার্তায় গভীর।

সুরা মুলক আরবি, উচ্চারণ ও অনুবাদ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

(পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি)

১. تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

(তাবা-রাকাল্লাজি বিইয়াদিহিল মুলকু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির)

অর্থ: পরম কল্যাণময় তিনি, যাঁর হাতে রাজত্ব এবং তিনি প্রতিটি বস্তুর ওপর ক্ষমতাবান।

২. الَّذِي خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيَاةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ

(আল্লাজি খালাকাল মাওতা ওয়াল হাইয়া-তা লিইয়াবলুওয়াকুম আইয়ুকুম আহসানু আমালা; ওয়া হুয়াল আজিজুল গাফুর)

অর্থ: যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন যে আমলের দিক দিয়ে তোমাদের মধ্যে কে উত্তম? তিনি পরাক্রমশালী, অত্যন্ত ক্ষমাশীল।

৩. الَّذِي خَلَقَ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ طِبَاقًا ۖ مَّا تَرَىٰ فِي خَلْقِ الرَّحْمَٰنِ مِن تَفَاوُتٍ ۖ فَارْجِعِ الْبَصَرَ هَلْ تَرَىٰ مِن فُطُورٍ

(আল্লাজি খালাকা সাবআ সামা-ওয়া-তিন তিবা-কা; মা তারা ফি খালকির রাহমা-নি মিন তাফা-উয়ুত; ফারজিইল বাসারাহাল তারা মিন ফুতুর)

অর্থ: যিনি সাত আসমান স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। পরম দয়াময় আল্লাহর সৃষ্টিতে তুমি কোনো খুঁত দেখতে পাবে না। তাকিয়ে দেখো তো, কোনো ফাটল দেখতে পাও কি?

৪. ثُمَّ ارْجِعِ الْبَصَرَ كَرَّتَيْنِ يَنقَلِبْ إِلَيْكَ الْبَصَرُ خَاسِئًا وَهُوَ حَسِيرٌ

(ছুম্মার জিইল বাসারা কাররাতাইনি ইয়ানকালিব ইলাইকাল বাসারু খা-সিআওঁ ওয়া হুয়া হাসির)

অর্থ: তারপর তুমি বারবার তাকিয়ে দেখো, তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও ক্লান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে।

৫. وَلَقَدْ زَيَّنَّا السَّمَاءَ الدُّنْيَا بِمَصَابِيحَ وَجَعَلْنَاهَا رُجُومًا لِّلشَّيَاطِينِ ۖ وَأَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابَ السَّعِيرِ

(ওয়ালাকাদ জাইয়ান্নাস সামা-আদ দুনইয়া বিমাসা-বিহা ওয়া জাআলনা-হা রুজুমাল লিশশায়া-তিনি ওয়া আতাদনা লাহুম আজা-বাস সাইর)

অর্থ: আমি নিকটবর্তী আসমানকে প্রদীপমালা (নক্ষত্ররাজি) দিয়ে সুশোভিত করেছি এবং সেগুলোকে শয়তানদের মারার উপকরণ বানিয়েছি। আর তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছি জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি।

৬. وَلِلَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ عَذَابُ جَهَنَّمَ ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ

(ওয়ালিল্লাজিনা কাফারু বিরাব্বিহিম আজা-বু জাহান্নামা ওয়া বিসাল মাসির)

অর্থ: যারা তাদের প্রতিপালককে অস্বীকার করে, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আজাব। আর সেটা কতই না মন্দ প্রত্যাবর্তনস্থল!

৭. إِذَا أُلْقُوا فِيهَا سَمِعُوا لَهَا شَهِيقًا وَهِيَ تَفُورُ

(ইজা উলকু ফিহা সামিউ লাহা শাহি-কাওঁ ওয়া হিয়া তাফুর)

অর্থ: যখন তারা তাতে নিক্ষিপ্ত হবে, তখন তারা তার ভয়ংকর গর্জন শুনতে পাবে এবং তা তখন টগবগ করে ফুটতে থাকবে।

৮. تَكَادُ تَمَيَّزُ مِنَ الْغَيْظِ ۖ كُلَّمَا أُلْقِيَ فِيهَا فَوْجٌ سَأَلَهُمْ خَزَنَتُهَا أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَذِيرٌ

(তাকা-দু তামাইয়াজু মিনাল গাইজি কুল্লামা উলকিয়া ফিহা ফাওজুন সাআলাহুম খাজানাতুহা আলাম ইয়াতিকুম নাজির)

অর্থ: ক্রোধে জাহান্নাম যেন ফেটে পড়বে। যখনই তাতে কোনো দলকে নিক্ষেপ করা হবে, তখন তার রক্ষীরা তাদের জিজ্ঞেস করবে, ‘তোমাদের কাছে কি কোনো সতর্ককারী আসেনি?’

৯. قَالُوا بَلَىٰ قَدْ جَاءَنَا نَذِيرٌ فَكَذَّبْنَا وَقُلْنَا مَا نَزَّلَ اللَّهُ مِن شَيْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا فِي ضَلَالٍ كَبِيرٍ

(কা-লু বালা কাদ জা-আনা নাজির, ফাকাজ্জাবনা ওয়া কুলনা মা নাজ্জালাল্লা-হু মিন শাইয়িন ইন আনতুম ইল্লা ফি দালা-লিন কাবির)

অর্থ: তারা বলবে, ‘অবশ্যই এসেছিল; কিন্তু আমরা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিলাম এবং বলেছিলাম, আল্লাহ কিছুই নাজিল করেননি। তোমরা তো মহা বিভ্রান্তিতে আছ।’

১০. وَقَالُوا لَوْ كُنَّا نَسْمَعُ أَوْ نَعْقِلُ مَا كُنَّا فِي أَصْحَابِ السَّعِيرِ

(ওয়া কা-লু লাও কুন্না নাসমাউ আও নাকিলু মা কুন্না ফি আসহা-বিস সাইর)

অর্থ: তারা আরও বলবে, ‘আমরা যদি শুনতাম অথবা বুদ্ধি খাটিয়ে বুঝতাম, তবে আমরা আজ এই প্রজ্বলিত আগুনের অধিবাসী হতাম না।’

১১. فَاعْتَرَفُوا بِذَنبِهِمْ فَسُحْقًا لِّأَصْحَابِ السَّعِيرِ

(ফাতারাফু বিজাম্বিহিম ফাসুহকাল লিআসহা-বিস সাইর)

অর্থ: অতএব তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করবে। অভিশাপ এই আগুনের অধিবাসীদের জন্য!

১২. إِنَّ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُم بِالْغَيْبِ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ

(ইন্নাল্লাজিনা ইয়াখশাওনা রাব্বাহুম বিলগাইবি লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া আজরুন কাবির)

অর্থ: যারা তাদের প্রতিপালককে না দেখেও ভয় করে, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার।

১৩. وَأَسِرُّوا قَوْلَكُمْ أَوِ اجْهَرُوا بِهِ ۖ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ

(ওয়া আসিররু কাওলাকুম আউইজ হারু বিহি ইন্নাহু আলিমুম বিজা-তিস সুদুর)

অর্থ: তোমরা তোমাদের কথা গোপনে বলো অথবা প্রকাশ্যে—তিনি তো অন্তরের বিষয় সম্পর্কে পূর্ণ অবগত।

১৪. أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ

(আলা ইয়ালামু মান খালাকা ওয়া হুয়াল লাতিফুল খাবির)

অর্থ: যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানবেন না? তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।

১৫. هُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ ذَلُولًا فَامْشُوا فِي مَنَاكِبِهَا وَكُلُوا مِن رِّزْقِهِ ۖ وَإِلَيْهِ النُّشُورُ

(হুয়াল্লাজি জাআলা লাকুমুল আরদা জালুলান ফামশু ফি মানা-কিবিহা ওয়া কুলু মির রিজকিহি ওয়া ইলাইহিন নুশুর)

অর্থ: তিনিই তো তোমাদের জন্য জমিনকে সুগম করে দিয়েছেন, অতএব তোমরা এর দিক-দিগন্তে বিচরণ করো এবং তাঁর দেওয়া রিজিক থেকে আহার করো। আর তোমরা তো তাঁরই কাছে পুনরুত্থান হবে।

১৬. أَأَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ فَإِذَا هِيَ تَمُورُ

(আ আমিনতুম মান ফিস সামা-ই আই ইয়াখসিফা বিকুমুল আরদা ফাইজা হিয়া তামুর)

অর্থ: তোমরা কি নিরাপত্তা পেয়ে গেছ যে, যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাদেরসহ জমিন ধসিয়ে দেবেন না? অথচ তখনই তা থরথর করে কাঁপতে থাকবে।

১৭. أَمْ أَمِنتُم مَّن فِي السَّمَاءِ أَن يُرْسِلَ عَلَيْكُمْ حَاصِبًا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ كَيْفَ نَذِيرِ

(আম আমিনতুম মান ফিস সামা-ই আই ইয়ুরসিলা আলাইকুম হা-সিবা ফাসাতালামুনা কাইফা নাজির)

অর্থ: নাকি তোমরা নিশ্চিন্ত হয়ে গেছ যে আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের ওপর পাথর বর্ষণকারী ঝড় পাঠাবেন না? তখন তোমরা জানতে পারবে কেমন ছিল আমার সতর্কবাণী।

১৮. وَلَقَدْ كَذَّبَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ فَكَيْفَ كَانَ نَكِيرِ

(ওয়ালাকাদ কাজ্জাবাল্লাজিনা মিন কাবলিহিম ফাকাইফা কা-না নাকির)

অর্থ: তাদের পূর্ববর্তীরাও তো অস্বীকার করেছিল। ফলে আমার আজাব কেমন ছিল?

১৯. أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الطَّيْرِ فَوْقَهُمْ صَافَّاتٍ وَيَقْبِضْنَ ۚ مَا يُمْسِكُهُنَّ إِلَّا الرَّحْمَٰنُ ۚ إِنَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ بَصِيرٌ

(আওয়ালাম ইয়া-রাও ইলাত তাইরি ফাওকাহুম সা-ফ্ফা-তিওঁ ওয়া ইয়াকবিদনা; মা ইয়ুমসিকুহুন্না ইল্লার রাহমা-ন; ইন্নাহু বিকুল্লি শাইয়িম বাসির)

অর্থ: তারা কি তাদের মাথার ওপর উড়ন্ত পাখিদের দেখেনি, যারা ডানা বিস্তার করে ও গুটিয়ে নেয়? দয়াময় আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ তাদের ধরে রাখে না। নিশ্চয়ই তিনি সব বিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।

২০. أَمَّنْ هَٰذَا الَّذِي هُوَ جُندٌ لَّكُمْ يَنصُرُكُم مِّن دُونِ الرَّحْمَٰنِ ۚ إِنِ الْكَافِرُونَ إِلَّا فِي غُرُورٍ

(আম্মান হা-জাল্লাজি হুয়া জুনদুল্লাকুম ইয়ানসুরুকুম মিন দুনির রাহমা-ন; ইনিল কা-ফিরুনা ইল্লা ফি গুরুর)

অর্থ: দয়াময় আল্লাহ ছাড়া তোমাদের এমন কোনো সৈন্য আছে কি, যে তোমাদের সাহায্য করবে? কাফিররা তো কেবল ঘোর প্রতারণার মধ্যে নিমজ্জিত।

২১. أَمَّنْ هَٰذَا الَّذِي يَرْزُقُكُمْ إِنْ أَمْسَكَ رِزْقَهُ ۚ بَل لَّجُّوا فِي عُتُوٍّ وَنُفُورٍ

(আম্মান হা-জাল্লাজি ইয়ারজুকুকুম ইন আমসাকা রিজকাহু; বাল লাজ্জু ফি উতুউইউঁ ওয়া নুফুর)

অর্থ: আল্লাহ যদি তাঁর রিজিক বন্ধ করে দেন, তবে তোমাদের রিজিক দেবে কে? বরং তারা অবাধ্যতা ও সত্য বিমুখতায় লিপ্ত হয়ে আছে।

২২. أَفَمَن يَمْشِي مُكِبًّا عَلَىٰ وَجْهِهِ أَهْدَىٰ أَمَّن يَمْشِي سَوِيًّا عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

(আফামাই ইয়ামশি মুকিব্বান আলা ওয়াজহিহি আহ্দা আম্মাঁই ইয়ামশি সাউইইয়ান আলা সিরা-তিম মুস্তাকিম)

অর্থ: যে ব্যক্তি উপুড় হয়ে মুখে ভর দিয়ে চলে সে কি অধিক পথপ্রাপ্ত, নাকি সেই ব্যক্তি—যে সোজা হয়ে সরল পথে চলে?

২৩. قُلْ هُوَ الَّذِي أَنشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ ۖ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ

(কুল হুওয়াল্লাজি আনশাআকুম ওয়া জাআলা লাকুমুস সামআ ওয়াল আবসা-রা ওয়াল আফইদাতা; কালিলাম মা তাশকুরুন)

অর্থ: বলুন, ‘তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের কান, চোখ ও হৃদয় দিয়েছেন। তোমরা খুব অল্পই শোকর আদায় করো।’

২৪. قُلْ هُوَ الَّذِي ذَرَأَكُمْ فِي الْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

(কুল হুওয়াল্লাজি জারাআকুম ফিল আরদি ওয়া ইলাইহি তুহশারুন)

অর্থ: বলুন, ‘তিনিই তোমাদের জমিনে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদের সমবেত করা হবে।’

২৫. وَيَقُولُونَ مَتَىٰ هَٰذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ

(ওয়া ইয়াকুলুনা মাতা হা-জাল ওয়াদু ইন কুনতুম সা-দিকিন)

অর্থ: তারা বলে, ‘এই প্রতিশ্রুতি কবে বাস্তবায়িত হবে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও?’

২৬. قُلْ إِنَّمَا الْعِلْمُ عِندَ اللَّهِ وَإِنَّمَا أَنَا نَذِيرٌ مُّبِينٌ

(কুল ইন্নামাল ইলমু ইন্দাল্লা-হি ওয়া ইন্নামা আনা নাজিরুম মুবিন)

অর্থ: বলুন, ‘এর জ্ঞান কেবল আল্লাহর কাছেই আছে। আমি তো কেবল এক স্পষ্ট সতর্ককারী।’

২৭. فَلَمَّا رَأَوْهُ زُلْفَةً سِيئَتْ وُجُوهُ الَّذِينَ كَفَرُوا وَقِيلَ هَٰذَا الَّذِي كُنتُم بِهِ تَدَّعُونَ

(ফালাম্মা রাআওহু জুলফাতান সিআত উজুহুল্লাজিনা কাফারু ওয়া কিলা হা-জাল্লাজি কুনতুম বিহি তাদ্দাউন)

অর্থ: যখন তারা সেই আজাবকে নিকটবর্তী দেখবে, তখন কাফেরদের মুখমণ্ডল মলিন হয়ে পড়বে এবং বলা হবে, ‘এটাই তো তা, যা তোমরা দাবি করছিলে।’

২৮. قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَهْلَكَنِيَ اللَّهُ وَمَن مَّعِيَ أَوْ رَحِمَنَا فَمَن يُجِيرُ الْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ

(কুল আরাআইতুম ইন আহলাকানিয়াল্লা-হু ওয়া মাম মাইয়া আও রাহিমানা ফামাই ইয়ুজিরুল কা-ফিরিনা মিন আজা-বিন আলিম)

অর্থ: বলুন, ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ—আল্লাহ যদি আমাকে ও আমার সঙ্গীদের ধ্বংস করে দেন অথবা আমাদের প্রতি দয়া করেন, তবে কাফিরদের যন্ত্রণাদায়ক আজাব থেকে কে রক্ষা করবে?’

২৯. قُلْ هُوَ الرَّحْمَٰنُ آمَنَّا بِهِ وَعَلَيْهِ تَوَكَّلْنَا ۖ فَسَتَعْلَمُونَ مَنْ هُوَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ

(কুল হুওয়ার রাহমা-নু আ-মান্না বিহি ওয়া আলাইহি তাওয়াক্কালনা ফাসাতালামুনা মান হুওয়া ফি দালা-লিম মুবিন)

অর্থ: বলুন, ‘তিনি পরম দয়াময়। আমরা তাঁর ওপর ইমান এনেছি এবং তাঁরই ওপর ভরসা করেছি। অচিরেই তোমরা জানতে পারবে কে স্পষ্ট পথভ্রষ্টতায় আছে।’

৩০. قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَصْبَحَ مَاؤُكُمْ غَوْرًا فَمَن يَأْتِيكُم بِمَاءٍ مَّعِينٍ

(কুল আরাআইতুম ইন আসবাহা মা-উকুম গাওরান ফামাই ইয়াতিকুম বিমা-ইম মাইন)

অর্থ: বলুন, ‘তোমরা কি ভেবে দেখেছ—যদি তোমাদের পানি ভূগর্ভে শুকিয়ে যায়, তবে কে তোমাদের প্রবহমান পানি এনে দেবে?’

সুরার সারসংক্ষেপ ও প্রধান বিষয়বস্তু

সুরা মুলকে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে:

  1. আল্লাহর সার্বভৌমত্ব: মহাবিশ্বের বিশালতা, সুনিপুণ সৃষ্টি এবং আসমান-জমিনে আল্লাহর নিরঙ্কুশ ক্ষমতার বর্ণনা।
  2. আখিরাতের শাস্তি: যারা সত্যকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য জাহান্নামের ভয়াবহ বর্ণনা এবং অপরাধীদের অনুশোচনার কথা বলা হয়েছে।
  3. সতর্কবাণী ও চিন্তার খোরাক: আল্লাহ মানুষকে তাঁর নিয়ামত (দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি, রিজিক) নিয়ে চিন্তা করতে বলেছেন এবং পরকালে জবাবদিহির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

সুরা মুলক পাঠের ৪ ফজিলত ও গুরুত্ব

রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনায় সুরা মুলক পাঠের অসামান্য সওয়াব বর্ণিত হয়েছে:

  • ১. কবরের আজাব থেকে মুক্তি: রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা মুলক পাঠ করবে, আল্লাহ তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবেন।’ (জামে তিরমিজি, সুনানে নাসায়ি)
  • ২. হাশরের ময়দানে সুপারিশ: এই সুরাটি কিয়ামতের দিন তার পাঠকারীর পক্ষে আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবে, যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়।
  • ৩. নবীজি (সা.)-এর আমল: রাসুল (সা.) সুরা মুলক এবং সুরা সাজদাহ তিলাওয়াত না করে রাতে ঘুমানোর জন্য বিছানায় যেতেন না।
  • ৪. পরিবারের জন্য শিক্ষা: হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, এই সুরা নিজে শেখা এবং স্ত্রী-সন্তানদের শেখানো কবরের আজাব থেকে রক্ষার অন্যতম মাধ্যম।

সুরা মুলক আমলের নিয়ম

হাদিসের আলোকে সুরা মুলক পড়ার সর্বোত্তম সময় হলো রাতে ঘুমানোর আগে। তবে দিনের অন্য যেকোনো সময় এটি তিলাওয়াত করা যায়। মুখস্থ না থাকলে দেখে দেখে পড়লেও সওয়াব পাওয়া যাবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত