জিকির মুমিনের জীবনের অপরিহার্য অংশ। এর মধ্যে ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ একটি মহিমান্বিত বাক্য। হাদিসে একে জান্নাতের গুপ্তধন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই বরকতময় বাক্যের সহজ অর্থ হলো: ‘আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো উপায় নেই এবং আল্লাহর শক্তি ছাড়া কোনো ক্ষমতা নেই।’ অর্থাৎ মানুষের ব্যক্তিগত শক্তি, সামর্থ্য ও সাহস যত বেশিই থাকুক না কেন, আল্লাহ তাআলা তাওফিক না দিলে মানুষ কিছুই করতে পারে না।
হাদিসের আলোকে এই জিকিরের ৪ ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বিভিন্ন হাদিসে এই জিকিরের অশেষ সওয়াব ও পুরস্কারের কথা বর্ণনা করেছেন:
১. জান্নাতের অন্যতম গুপ্তধন: আবু মুসা আশআরি (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) আমাকে বললেন, ‘তোমাকে জান্নাতের অন্যতম ধনভান্ডারের কথা কি বলে দেব?’ আমি বললাম, অবশ্যই বলে দিন! তিনি বললেন, ‘লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’। (সহিহ্ বুখারি: ২৯৯২)
২. জান্নাতের একটি দরজা: কাইস ইবনে সাদ (রা.)-কে নবীজি (সা.) নিজের পা দিয়ে ইশারা করে বলেছিলেন, ‘আমি কি তোমাকে জান্নাতের দরজাগুলোর একটি সম্পর্কে জানাব না? সেটি হলো লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।’ (জামে তিরমিজি: ৩৫৮১)
৩. সাগরের ফেনা পরিমাণ গুনাহ মাফ: রাসুল (সা.) বলেছেন, পৃথিবীর বুকে যে ব্যক্তি বলে, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, ওয়া লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’, তার অপরাধগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হয়, যদিও তা সাগরের ফেনারাশির মতো বেশি হয়। (জামে তিরমিজি: ৩৪৬০)
৪. দোয়া কবুলের মাধ্যম: নবীজি (সা.) বলেছেন, কেউ যদি রাতে ঘুম ভাঙলে বা নির্দিষ্ট জিকিরের সঙ্গে এই বাক্যটি পড়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় বা দোয়া করে, তবে তার দোয়া কবুল করা হয়। (সহিহ্ বুখারি: ১১৫৪)
যদিও এই জিকির যেকোনো সময় পড়া যায়, তবে হাদিসে বিশেষ কিছু সময়ের কথা উল্লেখ আছে, যেমন: যখন কোনো কাজ নিজের সাধ্যের বাইরে মনে হয় বা দুশ্চিন্তা গ্রাস করে। নিয়মিত সকাল ও সন্ধ্যায় এটি পাঠ করা আধ্যাত্মিক শক্তি জোগায়।

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজে শান্তিতে বসবাস করার জন্য প্রতিবেশীর ভূমিকা অপরিসীম। প্রতিবেশী হলো রক্তের সম্পর্কহীন সেই কাছের মানুষ, যারা আমাদের সুখ-দুঃখে সবার আগে এগিয়ে আসে। প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা যে ইমানের পূর্ণতার লক্ষণ, তা নবী করিম (সা.)-এর হাদিস থেকে স্পষ্ট।
৯ ঘণ্টা আগে
ইসলামে ইবাদতের প্রতিটি ধাপে রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। অজু করার পরপর যে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা হয়, তাকে পরিভাষায় ‘তাহিয়্যাতুল অজু’ বলা হয়। এই আমল ছোট হলেও এর ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম।
১ দিন আগে
হজ কোনো সাধারণ সফর নয়, এটি মহান আল্লাহর সান্নিধ্যলাভের এক অনন্য মাধ্যম। এই ইবাদত যেমন শরীরের পরিশ্রমে ঋদ্ধ, তেমনি আত্মার প্রশান্তিতে ধন্য। তবে প্রস্তুতির অভাবে অনেক সময় এই পবিত্র সফর কেবল ভ্রমণে পর্যবসিত হয়। তাই হজে যাওয়ার আগে প্রতিটি হাজিকে কিছু মৌলিক বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে হয়।
২ দিন আগে
এই নশ্বর জীবনে প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব কর্মপদ্ধতি ও ব্যস্ততা রয়েছে। কিন্তু একজন মুমিনের জীবনের মূল চালিকাশক্তি হলো পরকালের চিন্তা। দুনিয়াবি ব্যস্ততার পসরা যতই বড় হোক, মুমিন তার ইমান ও আমলের জন্য সময় বের করে নেয়।
২ দিন আগে