মোহরে নবুয়ত। শাব্দিক অর্থ নবুয়তের সিলমোহর। সিরাত বিশেষজ্ঞদের মতে, মোহরে নবুয়ত হলো হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে ঘাড় মোবারকের নিচে অবস্থিত গোশতের টুকরা, যা তাঁর রিসালাত ও নবুয়তের প্রমাণ। আহলে কিতাবরা পূর্ব তথ্য অনুযায়ী এর মাধ্যমে রাসুল (সা.)-এর পরিচয় জানত এবং শনাক্ত করতে পারত যে, তিনিই সেই প্রতীক্ষিত সর্বশেষ নবী। (সিরাত বিশ্বকোষ: ৪/২৬১)
পূর্ববর্তী সব নবী ও রাসুলের সঙ্গেই বিশেষ একটা চিহ্ন বা নিদর্শন ছিল, যা দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যেত তিনি আল্লাহর মনোনীত পুরুষ। এ প্রসঙ্গে হজরত ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ (র.) বলেন, আল্লাহ তাআলা সব নবীকে তাঁর ডান হাতে নবুয়তের তিলক দিয়ে প্রেরণ করেন। আর মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়তের তিলক ছিল পৃষ্ঠদেশে কাঁধের মাঝখানে।
মোহরে নবুয়তের কথা প্রসিদ্ধ হাদিস ও সিরাত গ্রন্থসমূহে বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে। বেশ কয়েকজন সাহাবি তা স্বচক্ষে দেখেছেন, কেউবা হাতে স্পর্শ করেছেন, আবার কেউ চুম্বনও করেছেন। তাঁরা সবাই এর বিবরণ দিয়েছেন। তবে এর আকৃতির বর্ণনা ও সাদৃশ্য নিরূপণ করতে গিয়ে তাঁরা বিভিন্ন অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এর সমাধান দিয়ে ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেন, ‘অধিকাংশ বিশেষজ্ঞের অভিমত হলো, মোহরে নবুয়ত রাসুল (সা.)-এর পিঠে বাম কাঁধের কাছে ছিল, যার আকৃতি ছোট অবস্থায় কবুতরের ডিমের, আর বড় হলে হাতের মুষ্টির মতো হতো।’ (ফাতহুল বারি: ৬/৫৬৩)
হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুল (সা.)-এর পিঠে মোহরে নবুয়ত দেখেছি, যা দেখতে অনেকটা কবুতরের ডিমের মতো।’ অন্যান্য বর্ণনায় এসেছে, একখণ্ড গোশতের টুকরা বা মাংসপিণ্ড ইত্যাদি। (বাইহাকী, দালাইলুন নুবুওয়াহ: ১/১৫৯) তাতে লেখা ছিল, ‘মুহাম্মদুর রাসুলুল্লাহ’ (সা.) এবং তা থেকে মিসকের মতো সুগন্ধি বিচ্ছুরিত হতো। (সুয়ুতি, খাসায়েসুল কুবরা)
লেখক: ইসলামবিষয়ক গবেষক

বাবার মৃত্যুর পর পরিবারের জ্যেষ্ঠ সন্তানের কাঁধে এসে পড়ে পুরো সংসারের ভার। নিজের নতুন সংসার, স্ত্রী-সন্তানের চাহিদা থাকার পরও তাঁকে গ্রহণ করতে হয় বৃদ্ধ মা ও ছোট ভাই-বোনদের পড়াশোনা ও চিকিৎসার দায়িত্ব। নিজের সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন পুরো পরিবারের আশ্রয়স্থল।
১২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৬ ঘণ্টা আগে
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠা, চরিত্র গঠন ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র। একজন অভিভাবক যখন সন্তানকে কোনো প্রতিষ্ঠানে পাঠান, তখন পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তানের নিরাপত্তা, আত্মমর্যাদা ও আমানতের এক বড় অংশ তুলে দেন শিক্ষকের হাতে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানে শিশু নির্যাতনের ঘটনা...
১ দিন আগে
ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বুজুর্গ, প্রখ্যাত আলেম ও কাদেরিয়া সুফি ধারার প্রতিষ্ঠাতা বড়পীর আবদুল কাদির জিলানি (রহ.)-এর ওফাত দিবস স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানই হলো ‘ফাতিহা-ই-ইয়াজদহম’। সুফি অনুসারীদের কাছে এ দিনটি অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও শ্রদ্ধার সঙ্গে উদ্যাপিত হয়।
১ দিন আগে