
পৃথিবীতে প্রতিটি প্রাণীর জন্যই মৃত্যু এক অবধারিত ও ধ্রুব সত্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।’ (সুরা আলে ইমরান: ১৮৫)।
মৃত্যু জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং এটি এক নতুন জীবনের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হওয়া। এই চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়েও জীবিতদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো মৃত আপনজনের জন্য দোয়া করা। এটি শুধু শোকের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং মৃত ব্যক্তির আত্মার জন্য কল্যাণ বয়ে আনার এক শক্তিশালী উপায়।
মহাগ্রন্থ আল কোরআনে নবী ইবরাহিম (আ.) এবং নুহ (আ.)-এর দোয়ার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে পূর্বসূরিদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা একটি ইবাদত।
হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যখন মানুষ মারা যায়, তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়। শুধু তিনটি আমলের ফায়দা ভোগ করে; এক. সদকায়ে জারিয়া, দুই. এমন জ্ঞান, যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং তিন. ওই সুসন্তান, যে তার জন্য দোয়া করে।’ (সহিহ্ মুসলিম)।
এই হাদিস প্রমাণ করে, একজন নেককার সন্তানের দোয়া তার মৃত পিতা-মাতার জন্য পার্থিব জীবনের অবসান হওয়ার পরেও এক অফুরন্ত সওয়াবের উৎস।
মৃত ব্যক্তির জন্য অসংখ্য দোয়া রয়েছে; যা ক্ষমা, রহমত ও জান্নাতের জন্য আল্লাহর কাছে আকুতি জানায়। এই দোয়াগুলো কবরের আজাব থেকে মুক্তি এবং আখিরাতের জীবনে কল্যাণ প্রার্থনার এক উত্তম মাধ্যম।
যেমন কবর জিয়ারতের সময় রাসুল (সা.) এই দোয়া করতেন, ‘আসসালামু আলাইকুম ইয়া আহলাল কুবুর, ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম; আনতুম সালাফুনা ওয়া নাহনু বিল আসারি।’ অর্থ: ‘হে কবরস্থানের বাসিন্দাগণ, তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সবার প্রতি আল্লাহ রহম করুন।’ (সহিহ্ মুসলিম)
মৃত ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করা তাই শুধু একটি ধর্মীয় দায়িত্ব নয়, বরং এটি জীবিত ও মৃতের মধ্যে এক আত্মিক বন্ধন। এই দোয়া তাদের জন্য আল্লাহর রহমত লাভের উপায় এবং জীবিতদের হৃদয়ে প্রশান্তি নিয়ে আসার মাধ্যম।

কোরবানি একদিকে আত্মত্যাগের মহাকাব্য, অন্যদিকে মুসলিম সমাজের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত প্রদর্শনী। বিশ্বের নানা প্রান্তে এই ইবাদতকে ঘিরে গড়ে উঠেছে এমন সব লোকজ রীতি, যা কখনো বিস্ময় জাগায়, কখনো আবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। কোথাও কোরবানির পশুকে সন্তানস্নেহে নাম দেওয়া হয়, কোথাও আবার মেহেদি পরিয়ে সাজানো হয়...
২ ঘণ্টা আগে
ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুসারে, কোরবানি কোনো পরিবারের ওপর ওয়াজিব হয় না, বরং এটি ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব হয়। অর্থাৎ, পরিবারের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য (নারী বা পুরুষ), যাঁর কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাঁকে আলাদাভাবে কোরবানি দিতে হবে।
২ ঘণ্টা আগে
মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। আনন্দ-উৎসবের পাশাপাশি আত্মত্যাগ, আনুগত্য ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মহিমান্বিত শিক্ষা বহন করে এ দিনটি। এর মূল ভিত্তি হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর সেই অবিস্মরণীয় ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত, যেখানে আল্লাহ তাআলা ইবরাহিম...
২ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
৮ ঘণ্টা আগে