হজ ও কোরবানি, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। একটির কেন্দ্র পবিত্র মক্কা, অন্যটি মুসলমানদের ঘরে ঘরে পালন করা হয়। বাহ্যিকভাবে দুটি ইবাদত ভিন্ন মনে হলেও এগুলোর মধ্যে রয়েছে আধ্যাত্মিক ও আদর্শিক সম্পর্ক। মূলত ত্যাগ, আত্মসমর্পণ এবং আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য—এই তিনটি ভিত্তির ওপর হজ ও কোরবানির সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।
হজ ও কোরবানির ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হজরত ইবরাহিম (আ.) এবং তাঁর প্রিয় পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.)। আল্লাহর নির্দেশে যখন ইবরাহিম (আ.) তাঁর সন্তানকে কোরবানি করার প্রস্তুতি নেন, তখন পিতা-পুত্র উভয়েই আল্লাহ তাআলার হুকুমের সামনে নিজেদের ইচ্ছাকে বিসর্জন দেন। এই ঘটনা ত্যাগের সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত। আল্লাহ তাআলা তাঁদের এই আনুগত্য কবুল করে ইসমাইল (আ.)-এর পরিবর্তে জান্নাত থেকে একটি পশু পাঠান। সেই স্মৃতিই আজ কোরবানির মাধ্যমে পুনর্জীবিত হয়। (সুরা সাফফাত: ১০২-১০৭)
হজেও এই ইবরাহিমি স্মৃতি বারবার ফিরে আসে। সাফা-মারওয়ার সায়ি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় হজরত হাজেরা (আ.)-এর সংগ্রামকে। মিনার কোরবানি স্মরণ করায় ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগকে। আবার জামারাতে কঙ্কর নিক্ষেপ শয়তানের প্ররোচনার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের প্রতীক। মোটকথা, হজের প্রতিটি ধাপেই ইবরাহিমি আদর্শের ছাপ রয়েছে।
কোরবানির মূল উদ্দেশ্য নিজের প্রবৃত্তি, অহংকার, লোভ ও স্বার্থপরতাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য বিসর্জন দেওয়া। এই শিক্ষা হজের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। হজেও মানুষ নিজের পরিচয়, মর্যাদা ও পার্থিব বিভেদ ভুলে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ইহরামের সাদা কাপড় গায়ে জড়িয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়ে যায়।
হজ ও কোরবানি মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক। পৃথিবীর নানা দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষ হজে একত্র হন। অন্যদিকে একই আদর্শ অনুসরণ করে ঈদুল আজহার দিন সারা বিশ্বের মুসলমান কোরবানি করেন। এই দুই ইবাদতের মূল বার্তা একটিই, আল্লাহর সামনে পূর্ণ আত্মসমর্পণ এবং তাকওয়ার জীবন গঠন।

প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও নারীদের মাঝে মাঝে ঘুমের ঘোরে এমন হওয়া কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। বিশেষ করে বয়ঃসন্ধি বা উঠতি তারুণ্যে এটি বেশি ঘটে থাকে, তবে বয়ঃসন্ধিকাল পার হওয়ার অনেক পরেও এটি ঘটতে পারে। অনেক সময় অসচেতনতা বা সঠিক ধর্মীয় জ্ঞানের অভাবে এই বিষয়টি নিয়ে অনেকে দ্বিধাদ্বন্দ্ব বা লোকলজ্জায় ভোগেন।
২ ঘণ্টা আগে
মৃত্যু এক অনিবার্য ও চিরন্তন সত্য। এই ধরণির ক্ষণস্থায়ী সফর শেষ করে প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যুর অমীয় স্বাদ গ্রহণ করতে হয় এবং প্রবেশ করতে হয় অনন্তকালের আবাসে। এই চিরসত্য মৃত্যুকে ঘিরে মানুষের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। তবে ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত্যু-পরবর্তী জীবনই হলো প্রকৃত জীবনের সূচনা।
১১ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৫ ঘণ্টা আগে
আমাদের মধ্যে অনেকের উপুড় হয়ে ঘুমানোর অভ্যাস রয়েছে। ইসলামে এভাবে ঘুমানোকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তুমি বিছানায় যাবে, তখন নামাজের অজুর মতো অজু করে নেবে। এরপর ডান পাশ হয়ে শুয়ে পড়বে।’ (সহিহ বুখারি: ২৪৭)
১ দিন আগে