Ajker Patrika

ঋণ নিয়ে কোরবানি করা কি জায়েজ

ইসলাম ডেস্ক 
ঋণ নিয়ে কোরবানি করা কি জায়েজ
কোরবানির হাট। ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য উৎসব। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে অনেক সময় আর্থিক সংকটের কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকলে ঋণ করে কোরবানি করা যাবে কি? এই কোরবানি কি বৈধ হবে?

কোরবানি কার ওপর ওয়াজিব?

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম যদি ‘নেসাব’ পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।

ঋণ নিয়ে কোরবানি করার বিধান

ইসলামি চিন্তাবিদ ও ফিকহবিদদের মতে, কোরবানির জন্য ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় লক্ষণীয়:

১. ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা থাকলে

যদি কোনো ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয় (অর্থাৎ তাঁর নেসাব পরিমাণ সম্পদ আছে), কিন্তু সেই মুহূর্তে হাতে নগদ টাকা নেই, তবে তিনি ঋণ করে কোরবানি দিতে পারবেন। ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য বা আয়ের উৎস থাকলে ঋণ করে কোরবানি করলে ইবাদতটি সহিহ্ হবে এবং ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও শায়খ বিন বাজ-এর মতো বরেণ্য আলেমরাও একে বৈধ বলেছেন।

২. ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা না থাকলে

যাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় এবং ঋণ পরিশোধের কোনো দৃশ্যমান উপায় নেই, তাঁর জন্য ঋণ করে কোরবানি দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ইসলাম মানুষকে সাধ্যের বাইরে কষ্ট দিতে চায় না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা বাকারা: ২৮৬)

এমন পরিস্থিতিতে ঋণ নিয়ে কোরবানি করা উৎসাহিতও করা হয় না।

ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি কি কোরবানি দেবেন?

যাঁরা ইতিমধ্যে অন্য কোনো কারণে ঋণগ্রস্ত, তাঁদের কোরবানির বিধান নির্ভর করবে তাঁদের সম্পদের ওপর:

  • যদি ঋণের টাকা বাদ দেওয়ার পর আপনার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ বাকি থাকে, তবে কোরবানি করা ওয়াজিব।
  • আর যদি ঋণ পরিশোধ করলে নেসাব পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট না থাকে, তবে আপনার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া: ৫ / ২৯২)

তবে ব্যবসায়িক বা গৃহঋণ (Home Loan) থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তির জীবনযাত্রায় সচ্ছলতা থাকে এবং ঋণের কিস্তি দেওয়ার পরও হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকে, তবে তাঁকে অবশ্যই কোরবানি দিতে হবে।

সুদি ঋণ ও কোরবানি

একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে—কোরবানি একটি বিশুদ্ধ ইবাদত। ইসলামে সুদভিত্তিক যেকোনো লেনদেন সম্পূর্ণরূপে হারাম। তাই সুদি ব্যাংক বা মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে কোরবানি করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। অপবিত্র অর্থ বা সুদের টাকায় কোরবানি করলে ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত