পবিত্র ঈদুল আজহা মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগ, আনুগত্য ও মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের এক অনন্য উৎসব। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর পশু কোরবানি করা ওয়াজিব। তবে অনেক সময় আর্থিক সংকটের কারণে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত নগদ অর্থ না থাকলে ঋণ করে কোরবানি করা যাবে কি? এই কোরবানি কি বৈধ হবে?
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ফজর থেকে ১২ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের মুসলিম যদি ‘নেসাব’ পরিমাণ সম্পদের মালিক হন, তবে তাঁর ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।
ইসলামি চিন্তাবিদ ও ফিকহবিদদের মতে, কোরবানির জন্য ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে দুটি বিষয় লক্ষণীয়:
যদি কোনো ব্যক্তির ওপর কোরবানি ওয়াজিব হয় (অর্থাৎ তাঁর নেসাব পরিমাণ সম্পদ আছে), কিন্তু সেই মুহূর্তে হাতে নগদ টাকা নেই, তবে তিনি ঋণ করে কোরবানি দিতে পারবেন। ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য বা আয়ের উৎস থাকলে ঋণ করে কোরবানি করলে ইবাদতটি সহিহ্ হবে এবং ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে। ইমাম ইবনে তাইমিয়া ও শায়খ বিন বাজ-এর মতো বরেণ্য আলেমরাও একে বৈধ বলেছেন।
যাঁর ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয় এবং ঋণ পরিশোধের কোনো দৃশ্যমান উপায় নেই, তাঁর জন্য ঋণ করে কোরবানি দেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ইসলাম মানুষকে সাধ্যের বাইরে কষ্ট দিতে চায় না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা বাকারা: ২৮৬)
এমন পরিস্থিতিতে ঋণ নিয়ে কোরবানি করা উৎসাহিতও করা হয় না।
যাঁরা ইতিমধ্যে অন্য কোনো কারণে ঋণগ্রস্ত, তাঁদের কোরবানির বিধান নির্ভর করবে তাঁদের সম্পদের ওপর:
তবে ব্যবসায়িক বা গৃহঋণ (Home Loan) থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তির জীবনযাত্রায় সচ্ছলতা থাকে এবং ঋণের কিস্তি দেওয়ার পরও হাতে পর্যাপ্ত অর্থ থাকে, তবে তাঁকে অবশ্যই কোরবানি দিতে হবে।
একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খেয়াল রাখতে হবে—কোরবানি একটি বিশুদ্ধ ইবাদত। ইসলামে সুদভিত্তিক যেকোনো লেনদেন সম্পূর্ণরূপে হারাম। তাই সুদি ব্যাংক বা মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে কোরবানি করা কোনোভাবেই বৈধ নয়। অপবিত্র অর্থ বা সুদের টাকায় কোরবানি করলে ইবাদতের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয়।

মানুষ সৃষ্টির আগে মহান আল্লাহর সৃষ্টিজগতে ছিল ফেরেশতা ও জিন জাতি। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে ইবলিস থাকত ফেরেশতাদের সঙ্গে। একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদত করত। তবে সে আদল-ইনসাফ ও আনুগত্যের পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে অভিশপ্ত হয়।
১২ ঘণ্টা আগে
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি দৈনন্দিন পরিচ্ছন্নতা ও সুস্বাস্থ্যের প্রতিও ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মেসওয়াক তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি দাঁত পরিষ্কারের প্রাকৃতিক উপায়ের পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর গুরুত্বপূর্ণ একটি সুন্নাহ।
১ দিন আগে
মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের জন্য প্রতিদান হিসেবে জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন। মুমিনরা জান্নাতের নিকটবর্তী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহান আল্লাহর নির্দেশে দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে এবং ফেরেশতারা তাঁদের সাদর সম্ভাষণ জানাবেন।
২ দিন আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
২ দিন আগে