
মানবজীবন মূলত পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত। আল্লাহ তাআলা মানুষকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন ইবাদত, আনুগত্য ও পরীক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে। মানুষের হাতে যে সম্পদ, ধনসম্পত্তি, সন্তান, মর্যাদা ও ক্ষমতা অর্পণ করা হয়—এ সবকিছুই আসলে এক বিশাল পরীক্ষা। কখনো অভাব দিয়ে, আবার কখনো প্রাচুর্য দিয়ে আল্লাহ তাঁর বান্দাকে যাচাই করেন।
কোরআনে ঘোষণা করেছেন, ‘আর আমি অবশ্যই তোমাদের পরীক্ষা করব কিছুটা ভয়, ক্ষুধা, ধন-সম্পদের ক্ষতি, জীবন ও ফল-ফসলের ক্ষতি দ্বারা; আর ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।’ (সুরা বাকারা: ১৫৫)। এই আয়াত প্রমাণ করে, ধনসম্পদ যেমন পরীক্ষা, তেমনি তার অভাবও পরীক্ষা। অর্থাৎ সম্পদ, ক্ষমতা ও মর্যাদা শুধু ভোগের বস্তু নয়; এগুলো আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত এবং পরীক্ষা।
সম্পদ আল্লাহর পরীক্ষা
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের সম্পদ ও সন্তানসন্ততি কেবল পরীক্ষা, আর আল্লাহর কাছে রয়েছে মহা পুরস্কার।’ (সুরা তাগাবুন: ১৫)।
ধন-সম্পদ মানুষের জীবনে অপরিহার্য হলেও এর ব্যবহার নির্ধারণ করে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলো কি না। হালাল পথে উপার্জন, জাকাত আদায়, দান-সদকা এবং গরিবদের অধিকার আদায়ে ব্যয় করলে এটি জান্নাতের মূলধন হয়। বিপরীতে হারাম উপার্জন, সুদ, ঘুষ, অন্যায় ভোগ-বিলাস ধ্বংস ডেকে আনে।
ক্ষমতা আল্লাহর পরীক্ষা
আল্লাহ বলেন, ‘বলুন—হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমতার মালিক। যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা দেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমতাচ্যুত করেন।’ (সুরা আলে ইমরান: ২৬)।
অন্যত্র বলেছেন, ‘আমি তোমাদের পৃথিবীতে স্থাপন করেছি এবং জীবিকার ব্যবস্থা করেছি। তোমরা সামান্যই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।’ (সুরা আরাফ: ১০)
রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেকেই একজন রাখাল এবং প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের ব্যাপারে জবাবদিহি করবে।’ (সহিহ্ বুখারি: ৭১৩৮, সহিহ্ মুসলিম: ১৮২৯)
আরেক হাদিসে এসেছে—‘কোনো শাসক যদি প্রজাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দেবেন।’ (সহিহ্ বুখারি: ৭১৫১, সহিহ্ মুসলিম: ১৮২৯)
ক্ষমতা শুধু সম্মানের নয়, বরং ভয়াবহ জবাবদিহির দায়িত্ব। যারা ন্যায় প্রতিষ্ঠা করে, দুর্বলদের অধিকার রক্ষা করে, তারা আল্লাহর কাছে মর্যাদাবান হবে। আর যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে, তারা কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হবে।
সম্পদ ও ক্ষমতা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত ও পরীক্ষা। কেউ যদি এগুলো হালাল উপায়ে ব্যবহার করে এবং আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পরিচালনা করে, তাহলে তা জান্নাতের পথ প্রশস্ত করবে। আর যদি অহংকার, স্বার্থপরতা ও অন্যায়ের পথে ব্যবহার করে, তাহলে তা ধ্বংস ডেকে আনবে।
ধন-সম্পদ হোক বা ক্ষমতা—এগুলো চিরস্থায়ী নয়। প্রকৃত স্থায়ী পুরস্কার কেবল আল্লাহর কাছে। তাই আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করা, কৃতজ্ঞতা ও ধৈর্য অবলম্বন করা এবং মানুষের হক আদায় করা।
লেখক: প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি

আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতার বিশ্বমঞ্চে এবার বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার গৌরব উড্ডীন করলেন হাফেজ শেখ সাদ মুহাম্মাদ নূর। যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের বোল্টনে অনুষ্ঠিত ‘হাবিবুল কোরআন ইউকে’ আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল হিফজুল কোরআন কমপিটিশন-২০২৬ ’-এ তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন।
২ ঘণ্টা আগে
আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে অনুষ্ঠেয় ১৪৪৮ হিজরির (২০২৭ সন) দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) পরীক্ষার নিবন্ধনের সাধারণ সময়সীমা ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) শেষ হচ্ছে। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে দেশের সংশ্লিষ্ট সব মাদ্রাসা ও পরীক্ষার্থীদের অনলাইনে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য...
৯ ঘণ্টা আগে
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বকাল ও সর্বজাতির মধ্যে বাচনিক প্রজ্ঞার সর্বময় গুণের অধিকারী। তিনি যেমন অনর্থক ও অপ্রয়োজনীয় কথা থেকে দূরে থাকতেন, তেমনি সত্য ও ন্যায়ের স্থানগুলোতে কখনো নিশ্চুপ থাকতেন না। পরিমিতভাষিতা ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান ভূষণ।
৯ ঘণ্টা আগে
‘মুহাম্মদ (সা.)’—পৃথিবীর ইতিহাসে এই নামটি এক অনন্য ও অতুলনীয় সত্তার প্রতীক। তাঁর জীবন, উসওয়াহ বা আদর্শ এবং কর্ম নিয়ে যুগে যুগে যত গবেষণা, আলোচনা কিংবা গ্রন্থ রচিত হয়েছে, মানবজাতির ইতিহাসে অন্য কোনো ব্যক্তিত্বকে নিয়ে তা হয়নি।
১৪ ঘণ্টা আগে