Ajker Patrika

জানের বদলে জান সদকা করার বিষয়ে ইসলাম কী বলে

মুফতি দিদার হুসাইন
জানের বদলে জান সদকা করার বিষয়ে ইসলাম কী বলে
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন: সমাজে প্রচলিত আছে যে কোনো ব্যক্তি কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে বা কোনো ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেলে তাঁর সুস্থতা বা জীবনরক্ষার কামনায় ‘জানের বদলে জান’ হিসেবে মুরগি, ছাগল বা গরু সদকা করা হয়। এভাবে মানত করা কি জায়েজ? ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?

আশরাফ সরকার, হবিগঞ্জ

উত্তর: বিপদ বা দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে ‘জানের বদলে জান’ সদকা বা কোরবানির মানত করা নাজায়েজ বা নিষেধ নয়। কেউ যদি এমন মানত করে ফেলেন, তবে তা পূরণ করা তার ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়। কোরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানির পরিবর্তে পশু স্থলাভিষিক্ত করার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি তার (ইসমাইলের) পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু।’ (সুরা সাফফাত: ১০৭)

বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও অনুরূপ ফতোয়ার বিবরণ পাওয়া যায়। অতএব, কেউ যদি বিপদে পড়ে ‘জানের বদলে জান’ হিসেবে কোনো পশু মানত করে, তবে কোরবানির উপযুক্ত একটি সম্পূর্ণ পশু (যেমন: ছাগল, খাসি বা গরু) কোনো গরিব-মিসকিন বা মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দান করে মানত পূরণ করতে হবে।

⬤ মানত নয়, ইসলাম উৎসাহিত করে সদকায়

যদিও ‘জানের বদলে জান’ মানত করা বৈধ, কিন্তু ইসলাম এই পদ্ধতিকে উৎসাহিত করে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) মানত করার বিষয়ে একধরনের নিরুৎসাহ প্রকাশ করেছেন। হাদিস শরিফে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন আমাদের মানত করতে নিষেধ করে বললেন, ‘মানত (আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত) কোনো কিছুকে ফেরাতে পারে না। এর মাধ্যমে কেবল কৃপণ ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পদ বের করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম: ৪৩২৫)। অর্থাৎ ‘কাজ সফল হলে দান করব, না হলে করব না’—এ ধরনের বাণিজ্যিক মানসিকতা ইসলামের কাম্য নয়। ইসলাম মানতের চেয়ে সরাসরি নফল দান-সদকা করার প্রতি তাগিদ দেয়।

⬤ বিপদে সদকার ভূমিকা ও ফজিলত

বিপদ-আপদ ও কঠিন ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য নগদ টাকা, খাবার কিংবা পশু জবাই করে গরিব-মিসকিনকে দান করা সুন্নাহ-সমর্থিত এক মহৎ আমল। হাদিসে এসেছে, সদকা মানুষের বিপদ দূর করে এবং আল্লাহর রাগ প্রশমিত করে। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে সদকাকারীদের জন্য অশেষ সওয়াব, রিজিকের বরকত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা অতিসত্বর সদকার দিকে ধাবিত হও; কারণ বিপদ-আপদ সদকাকে অতিক্রম করতে পারে না।’ (শুআবুল ইমান: ৩০৮২)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই সদকা আল্লাহ তাআলার ক্রোধ প্রশমিত করে এবং খারাপ মৃত্যু থেকে রক্ষা করে।’ (জামে তিরমিজি: ৬৬৪)

মোটকথা, ‘জানের বদলে জান’ সদকা করলে নিশ্চিতভাবেই জীবন বেঁচে যাবে বা অলৌকিকভাবে হায়াত বেড়ে যাবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা বা ফজিলত কোরআন-হাদিসে আলাদাভাবে বর্ণিত হয়নি। তবে সাধারণ দান-সদকার বরকতে আল্লাহ তাআলা মানুষের রোগব্যাধি ও বিপদ-আপদ দূর করে দেন।

উত্তর দিয়েছেন, মুফতি দিদার হুসাইন, ইসলামবিষয়ক গবেষক

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত