প্রশ্ন: সমাজে প্রচলিত আছে যে কোনো ব্যক্তি কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে বা কোনো ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেলে তাঁর সুস্থতা বা জীবনরক্ষার কামনায় ‘জানের বদলে জান’ হিসেবে মুরগি, ছাগল বা গরু সদকা করা হয়। এভাবে মানত করা কি জায়েজ? ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?
আশরাফ সরকার, হবিগঞ্জ
উত্তর: বিপদ বা দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে ‘জানের বদলে জান’ সদকা বা কোরবানির মানত করা নাজায়েজ বা নিষেধ নয়। কেউ যদি এমন মানত করে ফেলেন, তবে তা পূরণ করা তার ওপর ওয়াজিব হয়ে যায়। কোরআন মাজিদে আল্লাহ তাআলা ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.)-এর কোরবানির পরিবর্তে পশু স্থলাভিষিক্ত করার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি তার (ইসমাইলের) পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু।’ (সুরা সাফফাত: ১০৭)
বিশিষ্ট সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকেও অনুরূপ ফতোয়ার বিবরণ পাওয়া যায়। অতএব, কেউ যদি বিপদে পড়ে ‘জানের বদলে জান’ হিসেবে কোনো পশু মানত করে, তবে কোরবানির উপযুক্ত একটি সম্পূর্ণ পশু (যেমন: ছাগল, খাসি বা গরু) কোনো গরিব-মিসকিন বা মাদ্রাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে দান করে মানত পূরণ করতে হবে।
যদিও ‘জানের বদলে জান’ মানত করা বৈধ, কিন্তু ইসলাম এই পদ্ধতিকে উৎসাহিত করে না। রাসুলুল্লাহ (সা.) মানত করার বিষয়ে একধরনের নিরুৎসাহ প্রকাশ করেছেন। হাদিস শরিফে আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন আমাদের মানত করতে নিষেধ করে বললেন, ‘মানত (আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত) কোনো কিছুকে ফেরাতে পারে না। এর মাধ্যমে কেবল কৃপণ ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পদ বের করা হয়।’ (সহিহ মুসলিম: ৪৩২৫)। অর্থাৎ ‘কাজ সফল হলে দান করব, না হলে করব না’—এ ধরনের বাণিজ্যিক মানসিকতা ইসলামের কাম্য নয়। ইসলাম মানতের চেয়ে সরাসরি নফল দান-সদকা করার প্রতি তাগিদ দেয়।
বিপদ-আপদ ও কঠিন ব্যাধি থেকে মুক্তির জন্য নগদ টাকা, খাবার কিংবা পশু জবাই করে গরিব-মিসকিনকে দান করা সুন্নাহ-সমর্থিত এক মহৎ আমল। হাদিসে এসেছে, সদকা মানুষের বিপদ দূর করে এবং আল্লাহর রাগ প্রশমিত করে। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে সদকাকারীদের জন্য অশেষ সওয়াব, রিজিকের বরকত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা অতিসত্বর সদকার দিকে ধাবিত হও; কারণ বিপদ-আপদ সদকাকে অতিক্রম করতে পারে না।’ (শুআবুল ইমান: ৩০৮২)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘নিশ্চয়ই সদকা আল্লাহ তাআলার ক্রোধ প্রশমিত করে এবং খারাপ মৃত্যু থেকে রক্ষা করে।’ (জামে তিরমিজি: ৬৬৪)
মোটকথা, ‘জানের বদলে জান’ সদকা করলে নিশ্চিতভাবেই জীবন বেঁচে যাবে বা অলৌকিকভাবে হায়াত বেড়ে যাবে—এমন কোনো নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা বা ফজিলত কোরআন-হাদিসে আলাদাভাবে বর্ণিত হয়নি। তবে সাধারণ দান-সদকার বরকতে আল্লাহ তাআলা মানুষের রোগব্যাধি ও বিপদ-আপদ দূর করে দেন।
উত্তর দিয়েছেন, মুফতি দিদার হুসাইন, ইসলামবিষয়ক গবেষক

একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক যুগে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক দিক থেকে মানবজাতি অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে। আকাশচুম্বী দালানকোঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেগা প্রকল্পের চাকচিক্যে আমাদের বাহ্যিক জীবন রূপ নিয়েছে এক ঝলমলে উপাখ্যানে। কিন্তু আলোঝলমলে এই অবয়বের অন্তরালে আমাদের সমাজব্যবস্থা আজ এক ভয়াল অন্ধকার
১৫ মিনিট আগে
ইসলাম ধর্মে জুমার দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এটি সপ্তাহের সেরা দিন এবং মুমিন মুসলমানদের জন্য এক অনাবিল আনন্দের উপলক্ষ। দিনটিকে ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। জুমার নামাজের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শরিয়তের বিধান ও গুরুত্ব বোঝার জন্য নিচে ৫টি মৌলিক তথ্য আলোচনা করা হলো:
১ ঘণ্টা আগে
দৃশ্যমান নাপাকি বা অপবিত্রতা থেকে মানুষ অজু ও গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে। কিন্তু মানবজীবনের আত্মিক পবিত্রতার প্রধান ভিত্তি হলো হালাল উপার্জন। বস্তুত, হালাল উপার্জনের মাধ্যমে একজন মুমিনের বাহ্যিক ও আত্মিক—উভয় জীবনই পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। কারণ যার উপার্জনের পথ হালাল ও বিশুদ্ধ, তার জীবন-জীবিকার
২ ঘণ্টা আগে
গাজা শহরের এক ক্লান্ত-শ্রান্ত ফুটপাতের সংকীর্ণ কোণ। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপের মাঝে বসে আছেন ষাটোর্ধ্ব আলহাজ রাফাত জাবের। তাঁর কোলের ওপর পোড়া প্রচ্ছদ আর ছিন্নভিন্ন কিছু কাগুজে পাতা। হাত দুটো অতি পরম মমতায় পাতাগুলোকে কুড়িয়ে একত্র করছে; যেন ইট-পাথরের নিচে চাপা পড়া কোনো হারিয়ে যাওয়া
৩ ঘণ্টা আগে