Ajker Patrika

জুমার নামাজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ৫ তথ্য

তাসনিফ আবীদ
আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৬, ১০: ৪৪
জুমার নামাজ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ৫ তথ্য
ছবি: সংগৃহীত

ইসলাম ধর্মে জুমার দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এটি সপ্তাহের সেরা দিন এবং মুমিন মুসলমানদের জন্য এক অনাবিল আনন্দের উপলক্ষ। দিনটিকে ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। জুমার নামাজের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শরিয়তের বিধান ও গুরুত্ব বোঝার জন্য নিচে ৫টি মৌলিক তথ্য আলোচনা করা হলো:

১. শব্দের অর্থ ও সামাজিক ঐক্যের শিক্ষা

‘জুমা’ শব্দটি আরবি ‘জমা’ শব্দ থেকে এসেছে, যার শাব্দিক অর্থ একত্র হওয়া বা করা। এই দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে সমবেত হয়ে একত্রে সালাত আদায় করেন বলে একে জুমার দিন বলা হয়।

তাফসিরবিদেরা উল্লেখ করেন, পবিত্র কোরআনে সুরা জুমার ঠিক আগের সুরার নাম ‘সফ’—যার অর্থ কাতার বা সারি। জুমার নামাজ সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধ হয়ে জামাতে আদায় করা হয়। এর মাধ্যমে মূলত মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও শৃঙ্খলার ইঙ্গিত প্রকাশ পায়।

২. পবিত্র কোরআনে স্বতন্ত্র সুরা ও ক্রয়-বিক্রয় স্থগিতের নির্দেশ

জুমার দিনের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন মাজিদে ‘সুরা জুমুআ’ নামে একটি পুরো স্বতন্ত্র সুরা নাজিল করেছেন। এ সুরার মাধ্যমে জুমার আজান হওয়া মাত্রই সমস্ত দুনিয়াবি ব্যস্ততা ছেড়ে নামাজের দিকে ধাবিত হওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:

‘হে ইমানদারগণ, যখন জুমার দিন নামাজের জন্য আহ্বান করা হবে, তখন তোমরা দ্রুত আল্লাহর স্মরণের জন্য উপস্থিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করো। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা বুঝতে পারো।’ (সুরা জুমুআ: ০৯)

৩. জোহরের বিকল্প ও খুতবা শোনার বাধ্যবাধকতা

সপ্তাহের প্রতি জুমাবারে নির্ধারিত সময়ে জোহরের ওয়াক্তেই জুমার নামাজ ফরজ হিসেবে পড়তে হয়। সময় এক হলেও জোহরের সালাতের সঙ্গে জুমার নিয়মে কিছু মৌলিক তফাত রয়েছে।

জোহরের নামাজ চার রাকাত ফরজ, কিন্তু জুমার ফরজ নামাজ দুই রাকাত। এ ছাড়া জুমার নামাজের মূল ফরজের আগে ইমামের খুতবা বা বয়ান মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব বা আবশ্যক, যা জোহর নামাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

৪. রাকাতের সংখ্যা ও বিন্যাস

জুমার দিনে দুই রাকাত নামাজ জামাতে পড়া ফরজ। তবে ফরজের আগের ও পরের সুন্নতে মুয়াক্কাদাহসহ বিন্যাসটি নিম্নরূপ:

  1. কাবলাল জুমা (ফরজের আগে): চার রাকাত সুন্নত।
  2. ফরজ নামাজ: দুই রাকাত।
  3. বা’দাল জুমা (ফরজের পরে): চার রাকাত সুন্নত।

মুসল্লিরা সব মিলিয়ে ১০ রাকাত জুমার নামাজ আদায় করে থাকেন।

৫. জামাত শর্ত ও একাকী না পড়ার বিধান

জুমার নামাজের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো এটি জামাতে আদায় করতে হয়। অন্যান্য স্বাভাবিক নফল বা ফরজ নামাজের মতো জুমার নামাজ একা একা পড়ার কোনো সুযোগ নেই। মসজিদ বা নির্দিষ্ট জামাতে হাজির হয়ে খুতবা শুনে এই সালাত সম্পূর্ণ করতে হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত