ইসলাম ধর্মে জুমার দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। এটি সপ্তাহের সেরা দিন এবং মুমিন মুসলমানদের জন্য এক অনাবিল আনন্দের উপলক্ষ। দিনটিকে ‘সাপ্তাহিক ঈদের দিন’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। জুমার নামাজের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, শরিয়তের বিধান ও গুরুত্ব বোঝার জন্য নিচে ৫টি মৌলিক তথ্য আলোচনা করা হলো:
‘জুমা’ শব্দটি আরবি ‘জমা’ শব্দ থেকে এসেছে, যার শাব্দিক অর্থ একত্র হওয়া বা করা। এই দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মসজিদে সমবেত হয়ে একত্রে সালাত আদায় করেন বলে একে জুমার দিন বলা হয়।
তাফসিরবিদেরা উল্লেখ করেন, পবিত্র কোরআনে সুরা জুমার ঠিক আগের সুরার নাম ‘সফ’—যার অর্থ কাতার বা সারি। জুমার নামাজ সুশৃঙ্খলভাবে সারিবদ্ধ হয়ে জামাতে আদায় করা হয়। এর মাধ্যমে মূলত মুসলিম উম্মাহর পারস্পরিক সম্প্রীতি, ঐক্য ও শৃঙ্খলার ইঙ্গিত প্রকাশ পায়।
জুমার দিনের গুরুত্ব এতটাই বেশি যে, মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআন মাজিদে ‘সুরা জুমুআ’ নামে একটি পুরো স্বতন্ত্র সুরা নাজিল করেছেন। এ সুরার মাধ্যমে জুমার আজান হওয়া মাত্রই সমস্ত দুনিয়াবি ব্যস্ততা ছেড়ে নামাজের দিকে ধাবিত হওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন:
‘হে ইমানদারগণ, যখন জুমার দিন নামাজের জন্য আহ্বান করা হবে, তখন তোমরা দ্রুত আল্লাহর স্মরণের জন্য উপস্থিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় বন্ধ করো। এটিই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা বুঝতে পারো।’ (সুরা জুমুআ: ০৯)
সপ্তাহের প্রতি জুমাবারে নির্ধারিত সময়ে জোহরের ওয়াক্তেই জুমার নামাজ ফরজ হিসেবে পড়তে হয়। সময় এক হলেও জোহরের সালাতের সঙ্গে জুমার নিয়মে কিছু মৌলিক তফাত রয়েছে।
জোহরের নামাজ চার রাকাত ফরজ, কিন্তু জুমার ফরজ নামাজ দুই রাকাত। এ ছাড়া জুমার নামাজের মূল ফরজের আগে ইমামের খুতবা বা বয়ান মনোযোগ দিয়ে শোনা ওয়াজিব বা আবশ্যক, যা জোহর নামাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
জুমার দিনে দুই রাকাত নামাজ জামাতে পড়া ফরজ। তবে ফরজের আগের ও পরের সুন্নতে মুয়াক্কাদাহসহ বিন্যাসটি নিম্নরূপ:
মুসল্লিরা সব মিলিয়ে ১০ রাকাত জুমার নামাজ আদায় করে থাকেন।
জুমার নামাজের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো এটি জামাতে আদায় করতে হয়। অন্যান্য স্বাভাবিক নফল বা ফরজ নামাজের মতো জুমার নামাজ একা একা পড়ার কোনো সুযোগ নেই। মসজিদ বা নির্দিষ্ট জামাতে হাজির হয়ে খুতবা শুনে এই সালাত সম্পূর্ণ করতে হয়।

একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক যুগে প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক দিক থেকে মানবজাতি অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে। আকাশচুম্বী দালানকোঠা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং মেগা প্রকল্পের চাকচিক্যে আমাদের বাহ্যিক জীবন রূপ নিয়েছে এক ঝলমলে উপাখ্যানে। কিন্তু আলোঝলমলে এই অবয়বের অন্তরালে আমাদের সমাজব্যবস্থা আজ এক ভয়াল অন্ধকার
২১ মিনিট আগে
প্রশ্ন: সমাজে প্রচলিত আছে যে কোনো ব্যক্তি কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে বা কোনো ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেলে তাঁর সুস্থতা বা জীবনরক্ষার কামনায় ‘জানের বদলে জান’ হিসেবে মুরগি, ছাগল বা গরু সদকা করা হয়। এভাবে মানত করা কি জায়েজ? ইসলাম এ বিষয়ে কী বলে?
১ ঘণ্টা আগে
দৃশ্যমান নাপাকি বা অপবিত্রতা থেকে মানুষ অজু ও গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করে। কিন্তু মানবজীবনের আত্মিক পবিত্রতার প্রধান ভিত্তি হলো হালাল উপার্জন। বস্তুত, হালাল উপার্জনের মাধ্যমে একজন মুমিনের বাহ্যিক ও আত্মিক—উভয় জীবনই পরিচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। কারণ যার উপার্জনের পথ হালাল ও বিশুদ্ধ, তার জীবন-জীবিকার
২ ঘণ্টা আগে
গাজা শহরের এক ক্লান্ত-শ্রান্ত ফুটপাতের সংকীর্ণ কোণ। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসস্তূপের মাঝে বসে আছেন ষাটোর্ধ্ব আলহাজ রাফাত জাবের। তাঁর কোলের ওপর পোড়া প্রচ্ছদ আর ছিন্নভিন্ন কিছু কাগুজে পাতা। হাত দুটো অতি পরম মমতায় পাতাগুলোকে কুড়িয়ে একত্র করছে; যেন ইট-পাথরের নিচে চাপা পড়া কোনো হারিয়ে যাওয়া
৩ ঘণ্টা আগে