খাবার খাওয়ার আগের দোয়া

আল্লাহর স্মরণ ও দোয়া মুমিনের জীবনের সার্বক্ষণিক আমল। মুমিনের জীবনের কোনো কাজই আল্লাহর জিকির ও শুকরিয়া থেকে মুক্ত থাকা সমীচীন নয়। খাবার খাওয়া আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও অপরিহার্য একটি অংশ। বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন আমাদের বেশ কয়েকবার খাবার গ্রহণ করতে হয়।
খাওয়ার সময় আল্লাহকে স্মরণ করা এবং তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা প্রত্যেক মুমিনের কর্তব্য। আল্লাহর স্মরণে সিক্ত হলে আমাদের সাধারণ খাবারও বরকতময় হয়ে ওঠে এবং হালাল রিজিকে তৃপ্তির পাশাপাশি তা ইবাদতে পরিণত হয়। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
একজন মুসলিম তার সব কাজেই সওয়াবের অধিকারী হয়, এমনকি সে তার মুখে যে লোকমা বা গ্রাস তোলে, তাতেও সে সওয়াব লাভ করে। (মুসনাদে আহমদ)
খাওয়ার শুরুর অপরিহার্য দোয়া
খাবার গ্রহণের শুরুতে আল্লাহর নাম স্মরণ করা বা ‘বিসমিল্লাহ’ বলা সুন্নত এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল।
- খাওয়ার শুরুতে শুধু ‘বিসমিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে শুরু করছি) বলা যায়। অথবা ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ কিংবা ‘বিসমিল্লাহি ওয়া আলা বারাকাতিল্লাহ’ (আল্লাহর নামে এবং আল্লাহর বরকতের ওপর শুরু করছি) পড়া যায়।
- রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, যে খাবারে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা হয় না, সে খাবারে শয়তানের অংশ থাকে এবং শয়তান সেই মানুষের সঙ্গে আহারে অংশ নেয়। (সহিহ মুসলিম)
তাই খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়ার বিষয়টি কোনোভাবেই যেন ভুলে না যাই, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিত।
খাওয়ার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়তে ভুলে গেলে করণীয়
যদি কোনো ব্যক্তি খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়তে ভুলে যান এবং খাওয়ার মাঝপথে বিষয়টি মনে পড়ে, তবে সঙ্গে সঙ্গে এই দোয়াটি পাঠ করতে হবে:
| আরবি | বাংলা উচ্চারণ | অনুবাদ |
|---|---|---|
| بِسْمِ اللَّهِ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ | বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওয়া আখিরাহু। | ‘এর শুরু ও শেষ আল্লাহর নামে।’ |
খাবারের আদব ও সুন্নাতগুলো মেনে চলার মাধ্যমে আমরা একদিকে যেমন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারি, অন্যদিকে প্রিয় নবী (সা.)-এর সুন্নতের ওপর আমল করে ইহকাল ও পরকালে অশেষ সওয়াব অর্জন করতে পারি।










