Ajker Patrika

মোবাইল ফোন নাপাক পানিতে পড়ে গেলে পবিত্র করবেন যেভাবে

ইসলাম ডেস্ক 
আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৮: ৩৯
মোবাইল ফোন নাপাক পানিতে পড়ে গেলে পবিত্র করবেন যেভাবে

মোবাইল ফোনে নাপাকি লাগলে বা নাপাক পানিতে পড়ে গেলে কীভাবে পবিত্র করতে হবে? এই মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে নামাজ আদায়ের বিধান কী?

মোবাইল ফোন যেহেতু একটি মূল্যবান ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম, তাই সাধারণ কাপড়ের মতো মোবাইলের সব অংশকে সরাসরি পানিতে ভিজিয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। তাই ফিকহি দৃষ্টিকোণ থেকে মোবাইল বা এই জাতীয় বস্তু ‘সাকিল’ (মসৃণ ও অছিদ্রযুক্ত বস্তু) হিসেবে গণ্য। আর যেসব বস্তুর মধ্যে সূক্ষ্ম ছিদ্র বা রন্ধ্র থাকে না, যেমন আয়না, কাচ, মসৃণ ধাতু, প্লাস্টিক ইত্যাদির গায়ে নাপাকি লাগলে পবিত্র করার ক্ষেত্রে বিশেষ পদ্ধতি রয়েছে। যদি এ-জাতীয় মসৃণ বস্তুর বাহ্যিক আবরণে নাপাকি লাগে, তা থেকে নাপাকি দূর করে দিলেই বস্তুটি পবিত্র হয়ে যায়। এই বিধানের আলোকে মোবাইল ফোন পবিত্র করার কয়েকটি ধাপ রয়েছে:

১. পানি দিয়ে পরিষ্কার করার সুবিধা থাকলে: মোবাইলের যে অংশটি পানি দিয়ে ধুলে নষ্ট হয় না (যেমন: ওয়াটারপ্রুফ কেসিং, কভার), তা পানি দিয়ে তিনবার ধুতে হবে। তিনবার ধুয়ে নিলে পবিত্র হয়ে যাবে।

২. পানির স্পর্শে ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে: মোবাইলের যে অংশ পানি লাগার কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেসব অংশ পানি দিয়ে না ধুয়ে অন্যান্য দ্রাবক বা তরল কেমিক্যাল দিয়ে নিম্নোক্ত উপায়ে পবিত্র করা যাবে:

ক. পবিত্র পানির মৃদু আর্দ্রতাযুক্ত ভেজা কাপড় বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাপাক স্থানটি ভালোভাবে তিনবার মুছে নিলে পবিত্র হয়ে যাবে।

খ. পেট্রল, থিনার, হ্যান্ডস্যানিটাইজার বা এমন কোনো পবিত্র তরল পদার্থ, যা দিয়ে নাপাকি দূর করা যায়, তা দিয়ে তিনবার সাফ করলে পবিত্র হয়ে হবে।

কেমিক্যাল বা ভেজা কাপড় দিয়ে মোছার সময় শর্ত হলো, প্রতিবার মোছার পর নাপাক স্থানটি শুকানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। অর্থাৎ একবার মুছে শুকানোর পর দ্বিতীয়বার এবং আবার শুকানোর পর তৃতীয়বার মুছে পবিত্র করতে হবে।

আর যদি নাপাক পানি বা নাপাকি মোবাইলের ভেতরের সূক্ষ্ম ছিদ্র বা সকেটে (যেমন: চার্জিং পোর্ট, স্পিকার, হেডফোন জ্যাক) প্রবেশ করে, তাহলে কেবল বাহ্যিক অংশ মোছাই যথেষ্ট নয়। বরং ওই সব ছিদ্রের অভ্যন্তর থেকেও নাপাকি দূর করা আবশ্যক। এভাবে পবিত্র করার পর ওই মোবাইল নিয়ে নামাজ আদায় করা যাবে, অন্যথায় নয়। (ফতাওয়ায়ে শামি: ১ / ২৮২, ফতাওয়ায়ে হিন্দিয়া: ১ / ৩৯)

উত্তর দিয়েছেন, মুফতি আহমাদুল্লাহ মাসউদ, শিক্ষক, জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া কামরাঙ্গীরচর, ঢাকা।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত