ইসলামে বিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র সম্পর্ক, যা মানুষের জীবনকে পূর্ণতা দেয় এবং সুখ-শান্তির এক অনাবিল উৎস তৈরি করে। বিয়ে মানুষের জীবনে মানসিক, শারীরিক ও আধ্যাত্মিক স্থিতিশীলতা এনে দেয়। ইসলামে বিয়েকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর হাদিস থেকে স্পষ্ট অনুমেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি বিয়ে করল, সে তার অর্ধেক দ্বীন (ইমান) পূর্ণ করল। অতএব, বাকি অর্ধেকের বিষয়ে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’ (আল-মুজামুল আওসাত লিত-তাবারানি)
সুন্নত তরিকায় অত্যন্ত সহজ ও সরলভাবে বিয়ে সম্পাদন করা হলে সেই দাম্পত্য জীবনে আল্লাহর পক্ষ থেকে অশেষ রহমত ও বরকত নেমে আসে। বিয়ের খরচ ও আড়ম্বর প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই সেই বিয়ে সবচেয়ে বেশি বরকতপূর্ণ হয়, যে বিয়েতে খরচ ও ঝামেলা কম হয়।’ (মুসনাদে আহমাদ ও মুস্তাদরাকে হাকিম)
দাম্পত্য জীবনে সুখ ও পারিবারিক শান্তি বজায় রাখতে বিয়ের ক্ষেত্রে ইসলাম কিছু সুন্দর দিকনির্দেশনা ও সুন্নাহ অনুসরণের তাগিদ দিয়েছে—ক. অপচয়মুক্ত থাকা: বিয়েতে যেকোনো ধরনের অপচয়, অপব্যয় এবং বিজাতীয় অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত থাকা আবশ্যক। খ. যৌতুকমুক্ত বিয়ে: বিয়েতে কনেপক্ষের ওপর কোনো ধরনের যৌতুকের শর্ত বা আর্থিক চাপ সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ হারাম। গ. সহজ দেনমোহর: সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত দেনমোহর ধার্য না করে, বরের সাধ্যের মধ্যে সম্মানজনক মোহর নির্ধারণ করা সুন্নত। (তাবারানি আওসাত, সুনানে আবু দাউদ)
নতুন বর-কনের বিয়ের পর তাঁদের জন্য সবচেয়ে বড় এবং উত্তম উপহার হলো নবীজি (সা.)-এর শেখানো ভাষায় তাঁদের জন্য বরকতের দোয়া করা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো বিবাহিত ব্যক্তিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে এই দোয়াটি পাঠ করতেন—‘বারাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বারাকা আলাইকা, ওয়া জামাআ বাইনাকুমা ফি খাইরিন।’ অর্থ: ‘আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তোমাদের উভয়ের প্রতি বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের উভয়কে কল্যাণের সঙ্গে একত্রে রাখুন।’ (জামে তিরমিজি)

মানবজীবনে জীবনসঙ্গীর প্রভাব অপরিসীম। একজন ভালো সঙ্গী মানুষকে আলোর পথে চালিত করে, আর মন্দ সঙ্গী জীবনকে বিপথগামী করে তোলে। সারা দিনের ক্লান্তি শেষে ঘরে ফিরে সঙ্গীর একটু সহমর্মিতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ দেহ-মনকে প্রফুল্ল করে তোলে, মানুষকে নতুন উদ্যমে বাঁচার প্রেরণা জোগায়।
৩ ঘণ্টা আগে
মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাচনশৈলীর অধিকারী। তাঁর কথা বলার ধরন ও শব্দ চয়ন ছিল এতটাই মনোমুগ্ধকর, যা শ্রোতার হৃদয়ে সরাসরি রেখাপাত করত। তাঁর সুমিষ্ট বাণী মানুষকে সত্যের পথে আকর্ষিত করত।
১১ ঘণ্টা আগে
একজন মুমিনের জন্য নামাজ হলো আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও জীবনের বরকত লাভের সর্বোত্তম মাধ্যম। প্রতিদিন সময়মতো নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ। নিচে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য আজকের নামাজের সময়সূচি তুলে ধরা হলো।
১৫ ঘণ্টা আগে
আমরা আখিরাতের অনন্ত জীবনের যাত্রী। এই ক্ষণস্থায়ী দুনিয়ার প্রতিটি কর্মকাণ্ডের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ পাবে পরকালে—যার শেষ পরিণতি হয় চিরসুখের জান্নাত, না হয় ভয়াবহ জাহান্নাম। আজকাল আমরা অঢেল ধনসম্পদ, বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি কিংবা সমাজের উঁচু পদমর্যাদাকেই ‘সফলতা’ বলে ধরে নিয়েছি।
১ দিন আগে